ভারতের অভিবাসী শ্রমিকদের শত মাইল হেঁটে যাওয়ার গল্প

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০

কাগজ ডেস্ক : ভারতে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় তিন সপ্তাহের নজিরবিহীন লকডাউন ঘোষিত হওয়ার পর সে দেশের ভিন্ন রাজ্য থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকরা অনেকেই রুটিরুজি হারিয়ে নিজের গ্রামের দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন। লকডাউনে তাদের কাজকর্ম থেমে গেছে, এর মধ্যে ট্রেন ও বাস আচমকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা অনেকেই শত শত মাইল পথ পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিতে শুরু করেছেন। দিল্লি থেকে অনেকেই তারা রওনা দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশ বা রাজস্থানের দিকে, আবার গুজরাট থেকেও কেউ কেউ টানা দুদিন বা তিনদিন একনাগাড়ে হেঁটে ফিরে আসছেন রাজস্থানে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অনেক মহাসড়কে এখন গাঁটি-বোচকা, ব্যাগ-সুটকেস মাথায় দল ধরে ধরে বহু মানুষকে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার গত বৃহস্পতিবার এই অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তারা কেউই সরকারি সাহায্যের ভরসায় অপেক্ষা করতে পারেননি। দুদিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার লকডাউন ঘোষণার ভাষণে বলেছিলেন, দেশবাসীর এখন আগামী কয়েকদিন একটাই কাজ নিজেদের ঘরের ভেতর আটকে থাকা। কিন্তু যারা রুটিরুজির ধান্দায় নিজের ঘর ছেড়ে বহু দূরে ছোটখাটো কাজ করছিলেন তারাই এতে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন কারণ তাদের ঘরে ফেরার ট্রেন, বাস সবই বন্ধ।

রাজস্থানের ঢোলপুরের বাসিন্দা কিষেণলাল দিল্লির একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করতেন। দোকান বন্ধ থাকায় তার মাইনেও জুটছে না, কাজেই তিনি কয়েকশো মাইল দূরের ঢোলপুরের দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন। কিষেণলাল বিবিসিকে বলছিলেন, রাস্তায় কোনও ট্রাক বা গাড়ি কিছুটা রাস্তা বসিয়ে নিলে ভালো, নয়তো হেঁটেই গোটা রাস্তা মেরে দেব। এই যাত্রায় তার সঙ্গী রাকেশ জানান, এখানে বসে থাকলে কেউ তো আর মাইনে দেবে না- দেখি গাঁয়ে গিয়ে কিছু কাজ পাই কিনা। অন্তত ক্ষেতে গম তো কাটতে পারব। রাজস্থানের সুরথগড়ের একটি কোল্ডস্টোরেজে কাজ করতে বিহারের চম্পারণের জনা পঞ্চাশেক কর্মী। কাজ হারিয়ে এই গোটা দলটি আবার প্রায় বারোশ মাইল দূরে তাদের গ্রামের দিকে হাঁটতে শুরু করেছেন- যদিও দুদিনে তারা পৌঁছেছেন সবে আগ্রা পর্যন্ত।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj