খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা সচেতন মহলের : শাহজাদপুরে নদীতে ধান ও জমিতে মাছ চাষ!

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০

আব্দুল কুদ্দুস, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : শাহজাদপুরে এখন নদীতে ধান ও কৃষি জমিতে মাছ চাষ হচ্ছে। কৃষি জমি খনন করে তৈরি করা হচ্ছে পুকুর। উর্বর কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। এছাড়া নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কৃষি জমি সাবাড় করে তৈরি করা হচ্ছে ঘরবাড়ি ও পুকুর। কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, এ উপজেলায় প্রতি ১০ বছরে দশমিক ২৫ শতাংশ হারে কৃষি জমি হারিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কায়েমপুর, গাড়াদহ ও নরিনা ইউনিয়নের উর্বর তিন ফসলি ও দুই ফসলি জমির মাটি যখন ইট ভাটায় যাচ্ছে তখন উপজেলার বড়াল, হুড়া সাগর, গোহালা, করতোয়া, ফুলজোড় নদীসহ বিভিন্ন নদী দখল করে চলছে ধান চাষ। নদীগুলো খনন না করায় শুষ্ক মৌসুমে প্রায় সব নদী নাব্যতা হারিয়ে ফেলে। এ সুযোগে নদীতেই হালচাষ দিয়ে বোরো ধানের আবাদ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলায় মোট কৃষি জমি রয়েছে ২৫ হাজার ৭২০ হেক্টর। এর মধ্যে অধিকাংশ জমিই দুই ফসলি। ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে গাড়াদহ, নরিনা ও কায়েমপুর ইউনিয়নে তিন ফসলি জমি রয়েছে। এই তিন ইউনিয়নের তিন ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে উপজেলার ১৬টি ইট ভাটায়। উপজেলা প্রশাসন দেখেও না দেখায় প্রতিনিয়ত এখানকার কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, শাহজাদপুরে সেচ সুবিধার জন্য ২৪টি বিদ্যুৎচালিত গভীর নলক‚প রয়েছে। এছাড়া অগভীর নলক‚প রয়েছে প্রায় ১০ হাজার। আর সেচ সুবিধার আওতায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার হেক্টর কৃষি জমি।

এদিকে অপরিকল্পিতভাবে তিন ফসলি ও দুই ফসলি জমিকে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ করায় ধান চাষের জমি কমে যাওয়ায় উপজেলার গাড়াদহ, কায়েমপুর, নরিনা পোরজনা ইউনিয়ন ও শাহজাদপুর পৌরসভার বেশ কয়েকটি গভীর নলক‚প ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় বিএডিসিসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ অবস্থার অবসান না ঘটলে শুধু গভীর নলক‚পগুলোই নয়, অগভীর নলক‚পগুলোর আবাদী জমি বন্ধ হয়ে যাবে।

গাড়াদহ ইউনিয়নের কৃষক রাসেল রানা জানান, বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের আওতায় তাদের একটি গভীর নলক‚প রয়েছে। এই গভীর নলক‚পের আওতায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে কম খরচে সেচ সুবিধা পেতেন স্থানীয় জমির মালিকরা। গাড়াদহ কালিপাড়ার বন্ধ হয়ে যাওয়া এ গভীর নলক‚পটি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করে এ গভীর নলক‚পটি চালু করে। এর চারপাশের জমি থেকে মাটি ইটভাটায় বিক্রি করায় গভীর নলক‚পের স্থাপনাটিও হুমকির সম্মুখীন। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ উল্লাপাড়া আঞ্চলিক অফিসের কোষাধ্যক্ষ শাহীন পারভেজ জানান, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ উল্লাপাড়া অফিসের আওতায় বেশ কয়েকটি গভীর নলক‚প রয়েছে। স্বল্প খরচের এসব সেচযন্ত্র থেকে কৃষকদের সেচ সুবিধা দেয়া হয়। কিন্তু গভীর নলক‚পগুলোর পাশের জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি ও অবৈধভাবে পুকুর তৈরি এবং যত্রতত্র অগভীর নলক‚প বসানোর কারণে গভীর নলক‚পগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

তিনি আরো জানান, কৃষি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে পুকুর বানানো বন্ধ করা না গেলে শুধু গভীর নলক‚পই নয়; কৃষি জমির অভাবে সব ধরনের সেচযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাবে। সস্তায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কৃষকদের যেভাবে সেচ সুবিধা দিচ্ছে এই সুবিধা ধরে রাখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অবশ্য এগিয়ে আসতে হবে। শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানান, কৃষক তার জমি থেকে মাটি বিক্রি করলে আমাদের করার কি আছে। দেশে নদী রক্ষা কমিটি রয়েছে। নদী রক্ষায় তাদের অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। শাহজাদপুরে উর্বর কৃষি জমির মাটি নির্বিচারে কেটে নেয়ায় নিকট ভবিষ্যতেই শাহজাদপুরে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে। এটি শক্ত হাতে দমন করা না গেলে কৃষি জমি ফুরিয়ে যাবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj