শসার বাম্পার ফলন : ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না চরফ্যাশনের চাষিরা

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০

এ আর সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন (ভোলা) থেকে : চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরফ্যাশনে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাম্পার ফলন হওয়ার পরও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনছেন চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটবাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে শসা বিক্রি করলেও চাষিদের পকেটে যাচ্ছে কেজি প্রতি মাত্র ২ থেকে ৩ টাকা। এজন্য হতাশ এ অঞ্চলের শসা চাষিরা। উপজেলা সদরসহ শশীভূষণ, দক্ষিণ আইচা ও দুলারহাটের পাইকারি বাজারেও দেখা গেছে একই চিত্র।

চাষিরা বলছেন, পরিশ্রম ও মূলধন বিনিয়োগ করে শসা উৎপাদন করার পরেও হাত ঘুরেই লাভবান হচ্ছেন পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। এ বছর চরফ্যাশন উপজেলায় আউশ মৌসুমে প্রায় ৭ হাজার ৫০২ হেক্টর ও রবি মৌসুমে ২ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে। মাদ্রাজ ইউনিয়নের শসা চাষি মো. জসিম উদ্দিন জানান, ২ বিঘা জমিতে শসা চাষ করে উৎপাদন ভালো হয়েছে। কিন্তু বীজ সার কীটনাশক ও জমি তৈরিসহ শ্রমিক খরচ মিলিয়ে মোট উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। অথচ মণ প্রতি ১২০ টাকা এবং কেজি প্রতি ৩ টাকায় শসা বিক্রি করতে হচ্ছে তাকে। অথচ প্রতি কেজি শসায় চার গুণ উৎপাদন খরচ পড়েছে।

শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের চাষি মালেক মুন্সি ও দুলারহাট থানার নীলকোমল ইউনিয়নের আ. আলি, মো. সেলিম ও রফিকুল ইসলাম জানান, ২ থেকে ৩ টাকায় প্রতি কেজি ও ১০০ থেকে ১২০ টাকায় প্রতি মণ শসা বিক্রি করলেও পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছেন অধিক মুনাফা। তারা আরো জানান, এ বছর শসার উৎপাদন বেশি হওয়ায় কানি প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চরফ্যাশন কাঁচা বাজারের আড়ৎ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মণ শসা ক্রয় বিক্রয়সহ ভোলা-বরিশাল, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি হচ্ছে। পাইকাররা জানান, উপজেলার ২২টি ইউনিয়নসহ মনপুরা উপজেলা এবং পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণে শসা আসছে চরফ্যাশনের পাইকারি বাজারে।

এ বছর প্রচুর শসা উৎপাদন হওয়ায় আমদানি বেশি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের জন্য রপ্তানি কম। প্রথম প্রথম বেশি মূল্যে ক্রয় বিক্রয় হলেও শেষ সময়ে প্রচুর পরিমাণে শসা আসায় দাম কমে গেছে। তারা আরো বলেন, এলাকায় যদি কাঁচা তরিতরকারি সংরক্ষণে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে রেফ্রিজারেটরের ব্যবস্থা থাকত তাহলে কাঁচামাল সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষকের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হতো না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসনাইন আহমেদ বলেন, চলতি মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় শসার প্রচুর চাষাবাদ হয়েছে। এছাড়াও রোগবালাই কম হওয়ার ফলে শসার উৎপাদন বেশি হয়েছে। কৃষক পরিশ্রম করে ফলন উৎপাদন করার পরও যদি বাজারে উপযুক্ত দাম না পায় তবে তারা কৃষি আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj