অন্য রকম স্বাধীনতা দিবস

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

** মুক্তিযুদ্ধের মতোই ‘করোনা যুদ্ধে’ জয়ী হওয়ার প্রত্যয় **

কাগজ প্রতিবেদক : ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি, ‘বাংলাদেশ’। লাখো প্রাণের তাজা রক্তে কেনা ‘স্বাধীনতা’ রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ জাতি প্রতি বছরই ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ছুটে যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ করে স্বাধীনতার বীর সেনানীদের। রাজধানীসহ সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনে পালিত হয় দিনটি। আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয় সরকারি ভবনসহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রায় পাঁচ দশক পর ভিন্ন এক স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে জাতি। প্রতি বছর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য লাখো জনতার ভিড় হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধে; এবারই প্রথম ব্যতিক্রম। জাতীয় স্মৃতিসৌধ ছিল একেবারে ফাঁকা। বর্ণিল আলোকছটায় সাজেনি রাজধানী। উৎসবমুখর বাঙালি ছিল একেবারে নিষ্প্রভ। শুধু হৃদয়ের সব শ্রদ্ধা দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, লাখো শহীদকে স্মরণ করেছে জাতি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর স্বাধীনতা দিবসে এমন দৃশ্য অভাবনীয়, নজিরবিহীন।

ভয়ঙ্কর সুনামির হুমকি নিয়ে সারা বিশে^ আছড়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস কোভিট-১৯ ঠেকাতে মরণপণ যুদ্ধ করছে বাংলাদেশ। একাত্তরের ২৬ মার্চ দেশের মুক্তিপাগল দামাল সন্তানরা যেমন আকাশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছিল স্বাধীনতার লাল সূর্যের আলো, তেমনি এবারের স্বাধীনতা দিবসে শপথ নিয়েছে ক্রান্তিকাল পেরিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার।

করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলা করে বিশ^ মানচিত্রে আবারো মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার। এ জন্য করোনা মহামারি সংক্রমণ ঠেকাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়াও স্বাধীনতা দিবসের সব অনুষ্ঠান স্থগিত করে সরকার। যথারীতি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হলেও সরকারের নির্দেশনা মেনে সাভারে স্মৃতিসৌধে যাননি কেউ। শুধু সকালে সাভার উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকতা না হলেও স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস সামনে রেখে বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকার, ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান।

দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পবিহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা ভাইরাসে সারাবিশ^ গভীর সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা ভাইরাসের এই সংকট মোকাবিলায় সরকার সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সার্কের মহাসচিব ইসালা রুবান বিরাকুন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানসহ বিশ^ নেতারা।

অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ, ক্রোড়পত্র ও সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সীমিত কর্মসূচির মধ্যে জোহর নামাজের পর দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

এদিকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সকাল ৬টা ২০ মিনিটে বিজিবির সব ইউনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সন্ধ্যার পর পিলখানার গুরুত্বপূর্ণ অফিস ভবন ও গেটসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লুকে স্থাপিত জাতির পিতার ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়া, উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এবার স্বাধীনতা দিবসে কোনো আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের পোস্টে মূর্ত হয়ে উঠে মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন সবাই। প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, ‘করোনা যুদ্ধে’ জয়ী হওয়ার। সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে আহ্বান ছিল ঘরে থাকার। অঙ্গীকার ছিল বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj