বন্ধ হয়ে গেল দেশের সব পোশাক কারখানা

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের অফিস-আদালত ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এক বার্তায় কারখানা মালিকদের এ অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে পৃথক বার্তায় বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনও (বিটিএমএ) তাদের সদস্যদের কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, মহান স্বাধীনতা এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবাইকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সবার সুরক্ষার এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য কিছু সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সর্ববৃহৎ শিল্প হিসেবে আমাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত। এমতাবস্থায় কারখানা বন্ধ রাখার বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও অধিক শ্রমঘন গার্মেন্টস কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। পোশাক কারখানা বন্ধ করা হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি মালিকদের ওপর ছেড়ে দেয় সরকার।

সরকারের সাধারণ ছুটির সময়ে কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে রুবানা হক বলেন, তবে কেউ চাইলে কারখানা খোলা রাখতে পারবেন। পিপিই ও মাস্ক তৈরি হচ্ছে এমন কারখানাগুলো খোলা থাকবে বলে জানা গেছে। খোলা রাখা কারখানাগুলোকে শ্রমিকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো একের পর এক লকডাউন ঘোষণা করছে। বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করছে পোশাকের ব্র্যান্ডগুলো। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তা চাহিদায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কিন্তু বাজার চাহিদার এ পরিস্থিতিতে নতুন ক্রয়াদেশ দিচ্ছে না ক্রেতারা। এরই মধ্যে দেয়া ক্রয়াদেশগুলোর পরিমাণ কমাচ্ছে। চলমান ক্রয়াদেশগুলোর উৎপাদন থেকে বিরত থাকতে বলছে ক্রেতারা। আবার কর্মক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকিতেও আছেন শ্রমিকরা।

এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্যই কেবল এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। গত বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক।

বিজিএমইএর তথ্যমতে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ৯৫৯ কারখানায় প্রায় ২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj