কুড়িগ্রামে অপকর্ম : বিভাগীয় মামলা সাবেক ডিসির বিরুদ্ধে

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : মধ্যরাতে স্থানীয় সাংবাদিককে ধরে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার ঘটনায় প্রত্যাহার হওয়া কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীনসহ জেলা প্রশাসনের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না- ১০ দিনের মধ্যে এর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে ১৫ ও ১৬ মার্চ ওই চার কর্মকর্তাকে কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। আগের কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত রাখায় এই চার কর্মকর্তা এখন বেতনভাতাও পাচ্ছেন না। যখন তাদের ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হবে তখন তারা বেতন পাবেন। ডিসি সুলতানা পারভীন ছাড়া বাকি কর্মকর্তারা হলেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সাবেক সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আরডিসি) নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলাম।

গত ১৩ মার্চ মধ্যরাতে কুড়িগ্রামের বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পরে মাদক মামলায় সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে অবশ্য জামিনে মুক্ত হন তিনি। তাকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন আরিফুল ইসলাম। তার অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার) নাজিম উদ্দিন বাড়িতে ঢুকে তাকে পেটান। আর এনকাউন্টারে দেয়ারও হুমকি দেন। জেলা প্রশাসকের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন লেখার কারণেই তার ওপর নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ করেন আরিফুল। ঘটনার পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সাবেক ডিসিকে প্রত্যাহারসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ১৯ মার্চ ডিসি সুলতানা পারভীন, সাবেক তিনজন সহকারী কমিশনারসহ ৩৫-৪০ জনের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় অভিযোগ করেন সাংবাদিক আরিফুল। হাইকোর্ট ওই অভিযোগকে হত্যা প্রচেষ্টার মামলা হিসেবে রেকর্ডের নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে দেয়া সাজা স্থগিত করেছেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj