রাজধানীতে কড়া নজরদারি

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দেশজুড়ে চলা ১০ দিনের লকডাউনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। লোকজনের ভিড় ঠেকাতে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে কঠোরভাবে নজরদারি চালাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা, তল্লাশি করছেন সন্দেহভাজনদের, অপ্রয়োজনে বের হলেই ফেরত পাঠাচ্ছেন ঘরে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিল, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, দয়াগঞ্জ, ধোলাইপাড়, নীলক্ষেত, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।

সকালে মতিঝিলের আরামবাগ এলাকায় দেখা যায়, কয়েকজন লোককে আটকে জেরা করছেন পুলিশ সদস্যরা। তারা কেন বাইরে বের হয়েছেন? কোথায় যাচ্ছেন? মুখে মাস্ক নেই কেন? এসব জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। এ সময় অনেকে ‘স্যরি’ বলে আর বের হবেন না জানিয়ে চলে যান। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় অনেককে কঠোর ভাষায় সাবধান করে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

সকাল ১০টা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ব্যাগ-বস্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কিছু লোক। তাদের গন্তব্য গ্রামের বাড়ি। কিন্তু কোনো গাড়ি নেই। রফিক নামে একজন জানান, তিনি ২০ বছর ধরে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। তবে এ রকম অবস্থা কোনো দিন চোখে পড়েনি।

ওই সড়ক দিয়ে মাঝে মধ্যে দু-একটি পিকআপ চলাচল করছে মালামাল নিয়ে। সেগুলো থামিয়ে লোকজন যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। সায়েদাবাদ এলাকায় দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম রাব্বানী বলেন, যাত্রীবাহী কোনো গাড়ি যেন চলাচল করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আর সে জন্য পাহারা দেয়া হচ্ছে।

সকাল সাড়ে ১০টা। পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ মোড়। চৌরাস্তার চারদিকে পুলিশ ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। কোনো গাড়ি ব্যারিকেড পার হয়ে যেতে পারছে না। রিকশা চলাচলের জন্য রাস্তা রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ছাড় পাচ্ছেন না। দেখা যায়, একজন মোটরসাইকেল আরোহী এলে তাকে আটকে দেয় পুলিশ। জানতে চায়, তিনি কোথায় যাচ্ছেন? কেন যাচ্ছেন? লোকটি জানালেন, এমনি বের হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের এক সদস্য তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। লোকটিও স্যরি বলে দ্রুত সটকে পড়েন।

আরেকজন বয়স্ক লোক বাজার নিয়ে আসছিলেন, কিন্তু মুখে মাস্ক নেই। এ জন্য তাকেও থামানো হয়। সেখানে থাকা গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের এসআই মামুনুর রশিদ বলেন, কাউকে ছাড় নয়। অযথা যারা ঘুরে বেড়ায় তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হচ্ছে।

দুপুর ১২টায় কারওয়ান বাজারের সোনারগাঁও মোড়ে দেখা যায়, যাদের মাস্ক পরা নেই তাদের ধরে মাস্কের দোকানে পাঠানো হচ্ছে। কেউ বাজার করে ফেরার পথেও পুলিশের জেরার মুখে পড়ছেন।

রাজধানীর শাহবাগের চিত্রও একই রকম। শাহবাগ মোড়ে যে কয়েকটি গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে তার সবই অ্যাম্বুলেন্স। রোগী নিয়ে অনেকে এসেছেন। অল্প কিছু রিকশাও চলতে দেখা গেছে এই সড়কে। এখানেও পুলিশ সদস্যদের তল্লাশি করতে দেখা গেছে।

দুপুরে মালিবাগ মোড়ে অনেককে অযথা ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তাদের নেই কোনো করোনা প্রতিরোধী ব্যবস্থা। চলাফেরাও করছেন অবাধে। এখানে পুলিশের তল্লাশি চোখে পড়েনি। মৌচাক মোড়ের চিত্রও ছিল একই রকম।

তল্লাশির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, যেহেতু সরকার নির্দেশনা দিয়েছেন নগরবাসীকে ঘরে থাকার জন্য, তাই সবাইকে ঘরে রাখতেই পুলিশের এ অবস্থান। সব মিলিয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একটাই উদ্দেশ্য- সবাই ঘরে অবস্থান করুক। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj