সারাদেশে সীমিতভাবে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

কাগজ ডেস্ক : করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সতর্কতার কারণে জনস্বার্থে এবার মহান স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সব ধরনের জনসমাগম ও অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। এ কারণে দিবসটি উদযাপনে এবার কোনো কর্মসূচি নেয়নি রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার সীমিত পরিসরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বরিশাল : নগরীর সার্কিট হাউস চত্বরে সকাল ১০টার দিকে বিভাগীয় কমিশনার সুনির্দিষ্ট অতিথিদের নিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, মেট্রো পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান ও পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সীমিত আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়েছে। এ সময় জনগণকে যার যার নিজের ঘরে উপস্থিত থেকে করোনা সংক্রমণ বিস্তাররোধে সহায়তা করার এবং সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের সব নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করেন বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

ধুনট (বগুড়া) : উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে তোপধ্বনি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং মসজিদ-মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। সকাল ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা, ওসি কৃপা সিন্ধু বালা, বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান সাজু, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ওহাব, ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাহাদুর আলী প্রমুখ। এর আগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে ধুনট থানা চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হয়। দুপুরে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মসজিদ এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) : জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফজুল আলম মাসুম। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর সার্কেল মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, জগন্নাথপুর থানার ওসি মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি গোলাম সারোয়ার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদীনসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সোনাগাজী (ফেনী) : প্রথম প্রহরে উপজেলা চত্বরে পতাকা উত্তোলন, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ও জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব, পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন, মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

শেরপুর : জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভোরে সদর থানা প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৮টায় সার্কিট হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীমসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

মেহেরপুর : তোপধ্বনি, শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জেলায় অনাড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে দিবসটি পালিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের পর মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ, জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ স্মৃতিসৌধ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের গণকবরে পৃথকভাবে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর-১ আসনের এমপি ফরহাদ হোসেনের পক্ষে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি ও পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী শহীদ স্মৃতিসৌধে ফুল দেন। এরপর জেলাবাসীর পক্ষেও ফুল দেন তারা। এছাড়াও সকালে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস এবং মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওসমান গনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

নড়াইল : ভোরে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা শহরের বঙ্গবন্ধু মঞ্চ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং কবুতর ও বেলুন ওড়ান। পরে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস প্রমুখ।

শেষে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : উপজেলায় শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাহফুজার রহমান, ওসি আবু মোহাম্মদ দিলওয়ার হাসান ইনাম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (যুদ্ধাহত) আলহাজ আব্দুল কাদের, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ মদু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, যুবলীগ সভাপতি হারুনর রশিদ হারুন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মিনু, ছাত্রলীগ নেতা মাইদুল ইসলাম, জাহিদ হাসান সুমন প্রমুখ। ভোরে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হয়। পরে রৌমারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে শান্তি কামনায় সব ধর্মীয় উপাসনালয় মোনাজাত ও প্রার্থনা এবং হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

মাগুরা : সকাল ৭টার দিকে জেলা শহরের নোমানী ময়দানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিস্তম্ভে পূষ্পস্তবক অর্পণ শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উপস্থিত সবাই ৩ ফুট নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- মাগুরা জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম, মাগুরা পুলিশ সুপার খান মুহাম্মাদ রেজোয়ান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু প্রমুখ। কর্মসূচিতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতা ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দেশবাসীর জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিভিন্ন মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া, মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।

নাটোর : শহরের স্বাধীনতা চত্বরে (মাদ্রাসা মোড়ে) সকালে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ ও পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুল ইসলাম, জজ কোর্টের পিপি এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। অপরদিকে শহরের স্বাধীনতা চত্বরে (মাদ্রাসা মোড়ে) শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ও শহরের কাঁদিভিটা এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা আলী বাবলু দপ্তর সম্পাদক দিলীপ, কুমার দাস, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকরাম হোসেন প্রমুখ।

রাঙ্গামাটি : জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকালে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে পার্বত্য জেলা পরিষদ। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা পালনের মাধ্যমে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। এ সময় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, পরিষদের সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনতোষ চাকমাসহ পরিষদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুড়িগ্রাম : প্রত্যুষে ৩১বার তোপধ্বণির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। এরপর স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক এবং মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া প্রার্থনা করা হয়। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, সিভিল সার্জন অফিস, পৌরসভা, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবসহ সব রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়।

নরসিংদী : জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জেলায় স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকালে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজে পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম ৭১-এর সভাপতি আব্দুল মোতালিব পাঠান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কমল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) চৌধুরী আশরাফুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ইমরুল কায়েস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj