মাদক ও জুয়ার টাকা না দিলেই নির্যাতন বৃদ্ধ বাবা-মাকে

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক, শরীয়তপুর : মাদক ও জুয়া খেলার টাকা না দিলেই নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ করেন বৃদ্ধ মা-বাবা। অসহায় বাবা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিচার চেয়ে ছেলের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে মায়ের একই ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পালং মডেল থানা পুলিশ শাহ আলমকে আটক করলে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেন তার অন্য স্বজনরা। বাবা-মায়ের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় শাহ আলমকে আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার করার দাবি জানিয়েছেন।

পালং মডেল থানা ও স্থানীয় ফারুক মিয়া জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আড়িগাঁও গ্রামের ফজলুর রহমান বেপারির চার ছেলের মধ্যে শাহ আলম বেপারি (৪২) সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই শাহ আলম বেপরোয়াভাবে চলা ফেরা করত। যুবক হওয়ার বয়স থেকেই শাহ আলম জুয়া খেলা ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। অনেক চেষ্টা করেও ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন সময় টাকা দিতে বাধ্য হন তার বাবা। শাহ আলম বাবা ও মায়ের কাছে জুয়া ও মাদকের টাকা চেয়ে না পেলেই মাঝেমধ্যে তাদের মারধর করত। বাবা-মা পরিবারের সম্মান বজায় রাখতে ছেলের এ নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন।

২০১৯ সালে ফজলুর রহমান বেপারি হজে যাওয়ার আগে তার সহায়-সম্পত্তি ছেলে ও মেয়েদের নামে বণ্টন করে দিয়ে যান। ছেলে শাহ আলম তার অংশ বিক্রি করে জুয়া ও মাদক কিনে শেষ করে। আবার টাকার জন্য বাবা-মাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। প্রায় তিন মাস আগে তার মা রাহেলা বেগমের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে শাহ আলম। পরে রাহেলা বেগমকে তার অন্য সন্তানরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। এ ঘটনার পর তার মা পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই সময় পুলিশ শাহ আলমকে আটক করলে থানা থেকে তাকে মুচলেকার মাধ্যমে ছাড়িয়ে নেন তার অন্য স্বজনরা। এখানেই শেষ নয়। শাহ আলম ছাড়া পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ২২ মার্চ আবার শাহ আলম তার বাবার কাছে টাকা চায়। বাবা ফজলুর রহমান টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মারধরে রক্তাক্ত জখম করে সে। তখন পরিবারের লোকজন ফজলুর রহমানকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর বাবা ফজলুর রহমান ছেলে শাহ আলমের বিরুদ্ধে পালং মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনার পর থেকে শাহ আলম পলাতক রয়েছে।

ছেলের হাতে নির্যাতিত বাবা ফজলুর রহমান বেপারি বলেন, আমার বড় ছেলে শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত। আমরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারিনি। আমি হজে যাওয়ার আগে আমার চার ছেলে ও পাঁচ মেয়েকে সব সম্পতি ভাগবাটোয়ারা করে দিয়ে যাই। শাহ আলম তার প্রাপ্ত অংশ বেচে দিয়ে একই পথে সব টাকা শেষ করে। গত ২২ মার্চ আমার কাছে আবারও ৫০ হাজার টাকা দাবি করলে আমি দিতে না পারায় সে আমাকে মারধর করে। এর আগে টাকার জন্য আমার স্ত্রীকেও মারধর করে শাহ আলম। আমি ছেলের নির্যাতন ও অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।

প্রতিবেশী শহীদুল ইসলাম ও আবু হালেম বলেন, জুয়ার টাকার জন্য শাহ আলম তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে মাঝেমধ্যেই মারধর করে।

পালং মডেল থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে তার বাবা একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনার পর থেকে শাহ আলম পলাতক রয়েছে। আমরা তাকে আটক করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj