স্টেডিয়াম পরিচিতি : ওল্ড ট্রাফোর্ড

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

কাগজ ডেস্ক : ওল্ড ট্রাফোর্ড ফুটবল স্টেডিয়াম ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার শহরের একটি ফুটবল স্টেডিয়াম। এই স্টেডিয়ামটিতে একসঙ্গে বসে ৭৫ হাজার লোক খেলা দেখতে পারে। যদিও আনঅফিসিয়ালি বলা হয় এটিতে একসঙ্গে বসে ৮০ হাজার দর্শক খেলা দেখতে পারে। ১৯৩৯ সালে ওলভারহামটন ওয়ান্ডারার্স ও গ্রিমসি টাউনের মধ্যকার এফ এ কাপের সেমিফাইনালের ম্যাচে ৭৬ হাজার ৯৬২ জন দর্শক খেলা দেখতে এসেছিল। যা স্টেডিয়ামটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শকের একসঙ্গে বসে খেলা দেখার ইতিহাস। স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১০ সালে। এরপর থেকে এই ওল্ড ট্রাফোর্ডকে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এটি ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ফুটবল স্টেডিয়াম। আর এটি ইউরোপের ১১তম সর্ববৃহৎ স্টেডিয়াম।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে প্রতিবছর ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবল লিগ এফ এ কাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া এই স্টেডিয়ামে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ, ১৯৯৬ সালের ইউরোর ম্যাচ, ২০০৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া এই স্টেডিয়ামে দুবার রাগবি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ হয়েছে। অন্যদিকে ২০১২ সালের অলিম্পিকের ফুটবল ম্যাচ হয়েছে এখানে। আর সেবারই প্রথমবারের মতো স্টেডিয়ামটিতে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ওল্ড ট্রাফোর্ড ইংল্যান্ডের অন্যতম নান্দনিক স্টেডিয়াম হলেও এটির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে যুদ্ধের ঝড়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৪০-৪১ সালে জার্মানির বিমানবাহিনী এখানে বোমা ছুঁড়েছিল।

কারণ এখানে যুদ্ধকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল মিলিটারি ক্যাম্প। জার্মানদের ছোঁড়া বোমায় স্টেডিয়ামটি খেলার অনুপোযোগী হয়ে যায়। আর তাই স্টেডিয়ামটির মালিক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে তাদের চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে নিজেদের হোম ম্যাচগুলো খেলতে হয়েছিল। তবে এজন্য বাৎসরিক ৫ হাজার ডলার ভাড়া ও ম্যাচের আয়ের একটি অংশ ম্যানসিটিকে দিতে হয়েছিল তাদের।

বিশ্বযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর স্টেডিয়ামটিতে বিশাল সংস্কারকার্য পরিচালনা করা হয়। ১৯৫১ সালে স্টেডিয়ামটির উপর তৈরি করা হয় ছাদ। কিন্তু এই ছাদ তৈরি করতে যে পিলারগুলো বসানো হয়েছিল সেগুলোর জন্য গ্যালারিতে বসে খেলা দেখাটা কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। ফলে পরবর্তীতে আবার ছাদের ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ধীরে ধীরে আরো বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হয়। কিন্তু এর ফলে দর্শকধারণক্ষমতাও আস্তে আস্তে কমে যায়। ’৮০ দশকে এটি কমতে কমতে ৪৪ হাজারে নেমে আসে।

তবে ১৯৯০ দশকে ইংল্যান্ডে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ফলে ক্লাবের কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন স্টেডিয়ামটিতে দর্শক ধারণক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। সর্বশেষ ২০০৬-০৭ সালের মধ্যে এটিতে আবার একটি বড় ধরনের সংস্কার করা হয়। আর তখনই এটি ৭৫ হাজার দর্শকধারণক্ষমতায় উন্নীত করা হয়।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj