করোনার প্রভাবে বেতাগীতে স্বল্প আয়ের মানুষের দুুর্ভোগ

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে ও সংক্রমণ প্রতিরোধে অপ্রয়োজনীয় চলাফেরায় রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। দোকানপাটের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। গণপরিবহন, অটোরিকশা, অটোবাইক ও ইজিবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। লোকজন চলাচলও করছে সীমিত আকারে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষদের কর্মসংস্থান কমে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে দিনমজুর-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে দেড় লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এখানকার অনেক খেটে খাওয়া মানুষ।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে লেগেছে করোনার ঢেউ। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এ জনপদেও। প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম। এতে বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ দিনমজুর মানুষরা। পাশাপাশি এই শ্রেণির মানুষ রয়েছে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। খেটে খাওয়া এসব দিন মজুরের কাছে এখন করোনা ঝুঁকির চেয়েও জরুরি তিনবেলা খাবার জোগাড় করা। আর তাই মানুষ যখন ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে, তখন তারা জীবিকার তাগিদে রাস্তায় ছুটে বেড়াচ্ছে উদভ্রান্তের মতো। তারা আতঙ্কের চেয়ে তীব্র খাদ্য সংকটের শঙ্কায় রয়েছে।

গত তিন দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও ভাইরাস আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে খুব একটা বের হচ্ছে না। ফলে উপজেলার বেশিরভাগ রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় ব্যাটারিচালিত অটো ও রিকশাসহ ক্ষুদ্র যানবাহন চালকরা রাস্তায় নামলেও তেমন যাত্রী পাচ্ছেন না। করোনা আতঙ্কে হাট-বাজারেও মানুষ নেই। এতে খেটে খাওয়া মানুষরা হয়ে পড়ছেন বেকার। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলুসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য দিন দিন বেড়ে চলায় তাদের কপালে বাড়ছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

তারা বলেন, বাজারে যার লাগে ৫ কেজি সে কিনছে এক বস্তা, গরিবের ঘরে তো দুই দিনের খাবারও নেই। সব বন্ধ করে দিলে আমরা কী করে খাব। আমরা করোনায় মরব না, মরব পেটের ক্ষুধায়।

একদিকে কাজের অভাবে ইনকাম বন্ধ অন্যদিকে সাধারণ মানুষর দৈনন্দিন খাদ্যপণ্য মজুতের প্রতিযোগিতায় বিপাকে পড়েছে এসব সাধারণ শ্রমজীবী, অটোরিকশাচালকসহ সাধারণ দিনমজুররা। উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এমনই কিছু শ্রমজীবী-দিনমজুরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তাদের দুভার্বনার কথা।

উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের দিনমজুর নুরুল হক বলেন, ‘ভাইরাসের ভয়ে ঘরে বইসা থাকলে খাবার জুটবে না। আর সব জিনিসের যে দাম বাড়ছে তাতে এমনিতেই না খাইয়া মরা লাগবে।’ অটো চালক মো. ফারুক বলেন, ‘করোনার কারণে রাস্তায় যাত্রী না থাকায় আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। সারাদিনে যে কয় টাকা আয় করি তা দিয়ে চাল কিনতে পারমু না।’

সরেজমিন দেখা যায়, খেটে খাওয়া মানুষগুলো পেটের দায়ে দিকভ্রান্তের মতো এদিক-সেদিক ছোটার ফলে কোনোভাবেই খেয়াল রাখতে পারছে না স্বাস্থ্যের দিকে। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজীব আহসান জানান, এ বিষয় এখনো সরকারি কোনো দিকনিদের্শনা পাওয়া যায়নি। তবে কোনো মানুষ যাতে না খেয়ে না থাকে স্থানীয়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj