করোনায় বদলে গেছে বড়লেখা শহরের চিত্র

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পাল্টে গেছে বড়লেখা পৌর শহরের দৃশ্য। কোথাও দুয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, দু-চারটি রিকশা ছাড়া শহরে তেমন লোকজন নেই। নীরব বসে দিন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগের দিন থেকে গত ১৫ দিন বড়লেখায় নিত্যপণ্যসামগ্রী ক্রয়ে আড়ত ও মুদি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষণীয় ছিল।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করলেও এগুলোর তোয়াক্কা না করে রীতিমতো ডাক্তারখানার মতো সিরিয়াল নিয়ে লোকজন প্রয়োজনের অতিরিক্ত নানা মালামাল মজুতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন হুমড়ি খেয়ে। সরবরাহ কম থাকার দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরাও সয়াবিন, আটা, ময়দা বিক্রি করেছিলেন অতিরিক্ত দামে। কোনো কোনো ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রির জন্য গোপন গুদামে নানা মালামাল মজুত করছিলেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গত ১৫ দিন ধরে বড়লেখার হাজীগঞ্জ বাজারের পাইকারি ও খুচরা মুদি দোকানগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনতে ক্রেতাদের বেসামাল ভিড় ছিল। করোনার প্রভাবে দোকান বন্ধের আশঙ্কায় অনেকেই একসঙ্গে ৪-৬ মাসের খাদ্যসামগ্রী কিনতে ঝাঁপিয়ে পড়েন ক্রেতারা। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কম থাকার দোহাই দিয়ে চাল, তেল, আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে থাকেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতায় ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা লোটার উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। গত বুধবারও পৌর শহরের স্টেশন রোড, পৌর মার্কেট, উত্তর চৌমুহনীর দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ডাক্তারখানার সিরিয়ালের মতো ক্রেতারা যেন সওদা কিনছেন।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক অনেক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, তারা আড়তদার ও ডিলারদের কাছে অসহায়। তীর মার্কা ৫ লিটারের সয়াবিন তেল ৪৬০ টাকায় কিছু ভ্যারাইটিজ স্টোর বিক্রি করলেও গত সোমবার থেকে ৪৯০ টাকায় বিক্রি শুরু করেছিল। যার প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। এ ছাড়াও অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীর সরবরাহ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করছেন। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার এ দৃশ্য আর মোটেই নেই। কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া বন্ধ রয়েছে শহরের সব দোকানপাট। মানুষজন ও যানবাহন নেই বললেই চলে।

বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজারের আড়ত গলিতে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে অবসর সময় কাটাচ্ছেন। আলাপকালে দু-তিনজন ব্যবসায়ী জানান ক্রেতা নেই। পেঁয়াজের দাম গত দুদিনে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা কমেছে। ওয়াদুদ মিয়াসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, শুধু সয়াবিন তেল ছাড়া অন্যান্য পণ্যের খুচরা দর কমতে শুরু করেছে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj