নাগেশ্বরীতে করোনা আতঙ্ক : আয় কমলেও ঋণের কিস্তি নিয়ে বেকায়দায় নিম্ন আয়ের মানুষ

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : নাগেশ্বরীতে করোনা আতঙ্কে কর্মে অনিয়মিত হয়ে গেছেন শ্রমজীবী ও নি¤œ আয়ের মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে মন্দায় পড়েছেন তারা। কিন্তু এ অবস্থায় থেমে নেই এনজিওর কিস্তি আদায়। এতে বেকায়দায় পড়েছেন ঋণগ্রহীতারা।

উপজেলায় ব্র্যাক, আরডিআরএস, টিএমএসএস, আশা, ব্যুরো বাংলা, উদ্দীপন, গ্রামীণ ব্যাংকসহ স্থানীয় অনেক সমিতি সমবায় থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দৈনিক উপার্জনের টাকায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তি পরিশোধ করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও নি¤œ আয়ের সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি বিশ্বের অনেক দেশের মতো এ দেশেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। ইতোমধ্যে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কয়েকজন মারা গেছেন। দেশব্যাপী সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারিভাবে চালানো হচ্ছে প্রচারণা। ফলে এই মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে রাজি নন কেউ-ই। তারপরও অনেক সময় কাজে যেতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষকে। করোনা আতঙ্কে কর্মে অনিয়মিত হয়ে উপার্জন কমে যাওয়ায় ব্যক্তিগতভাবেও অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছেন তারা। পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে তাদের। এ অবস্থায়ও বন্ধ নেই এনজিওর কিস্তি আদায়।

পৌরসভার পূর্ব সাঞ্জুয়ারভিটা গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি তার স্ত্রী খোদেজা বেগমের নামে এনজিও ব্যুরো বাংলাদেশ থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নেন। সেই টাকায় হাটবাজারে মৌসুমি ব্যবসা করে এনজিওর কিস্তি দিয়ে যা থাকে তা দিয়েই সংসার চালান। করোনা আতঙ্কে লোকসানের ভয়ে মহাজনরা তাদের কেনা পণ্য এই মুহূর্তে আর নিতে চাচ্ছেন না। এ অবস্থায় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের ব্যবসা। ফলে ঋণের কিস্তির টাকা তারা সংগ্রহ করতে পারছেন না। একই কথা বলেন এনজিওর ঋণগ্রহীতা নুরজাহান বেগম, দ্রুপদী রানী, সুমিত্রা, সোনাকী রানী, মরিয়ম বেগম, ফাহিমা বেগম, মিনা বেগম, নুরনাহার, অর্চনা রানী, শিখা বেগম, কৃষ্ণা রানীসহ অনেকেই। তারা বলেন, তাদের নামে ঋণ দিয়ে তাদের স্বামীরা একইভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করে কিস্তি দিয়ে সংসার চালান। এ মুহূর্তে তাদেরও একই অবস্থা। এখন তারা কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

কিন্তু এনজিওরা তা মানতে নারাজ। ব্যুরো বাংলাদেশ নাগেশ্বরী ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার এনামুল হক বলেন, এখনো তারা তাদের হেড অফিস থেকে কিস্তি বন্ধের কোনো বন্ধের নির্দেশনা পাননি। তাই কিস্তি আদায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই রকম কথা বলেন টিএমএসএস নাগেশ্বরী ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম। অন্য এনজিওদের সঙ্গে কথা বলে একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাছুম বলেন, এ মুহূর্তে করোনা আতঙ্কে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। আমি এনজিওদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা যেন সহনশীলতার মধ্যে থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান জানান, মানবিকতার দিক থেকে এ মুহূর্তে এনজিওদের ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ করা উচিত।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj