শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই নেমে গেছে পানির স্তর : বরিশাল নগরীতে তীব্র পানি সংকট

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক, বরিশাল : গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই বরিশাল নগরীর বিভিন্ন অংশে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকেরও কম পানি সরবরাহ করতে পারছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলক‚প থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না নগরবাসী। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগ পর্যন্ত নগরবাসীর দুর্ভোগ আরো প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পানি শাখার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা ৬ কোটি গ্যালন। যার বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ গ্যালন। যা চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকেরও কম। সরবরাহ করা ওই পানিও নগরীর সব বাসিন্দারা পাচ্ছেন না। কারণ নগরীর প্রায় ৫৫ শতাংশ এলাকায় এখনো করপোরেশনের পানি সরবরাহ লাইন স্থাপিত হয়নি। নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল মতিন জানান, গত ১৯ মার্চ সকালে করপোরেশন থেকে তাদের এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়নি। একই অভিযোগ করেছেন, পার্শ¦বর্তী ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। আব্দুল মতিন ও রবিউল ইসলামের অভিযোগ, গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে ২-৩ দিন পর পরই করপোরেশনের পানি সরবরাহ কোনো ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ থাকে। এতে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ থাকে না।

করপোরেশনের কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা শামীম আহমেদ বলেন, পলাশপুরের আটটি গুচ্ছগ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার প্রতিদিন পানি সংকটে ভুগছেন। ৫ নম্বর ব্লুকের বাসিন্দা মো. জিয়া জানান, সিটি করপোরেশন প্রতিদিন সকালে দুটি গাড়িতে করে পলাশপুরের আটটি গুচ্ছগ্রামে পানি সরবরাহ করে। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পানি শাখার চলতি দায়িত্বের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক বলেন, নগরীতে পানির গ্রাহক ২৯ হাজার। প্রতিদিন ওই গ্রাহকদের জন্য দুই কোটি ৭০ লাখ গ্যালন পানি সরবরাহ করা হয়। যাদের পানির লাইন আছে তাদের পানির সংকট হচ্ছে না। যেসব এলাকায় এখনো সরবরাহ লাইন পৌঁছেনি তারা পানি সংকটে ভুগছেন। কারণ গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পুরনো গভীর নলক‚পগুলোতে পানি ওঠে না। যাদের নিজস্ব উদ্যোগে বসানো গভীর নলক‚প রয়েছে তারা পানি সংকটে ভুগছেন না। অব্যবহৃত দুই পানি শোধনাগার। নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানি সংকট দূর করতে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৯-১০ অর্থবছরে নগরীর বেলতলা ও রূপাতলীতে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (পানি শোধনাগার) স্থাপন করা হয়। কিন্তু নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও ত্রুটি থাকায় বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ওই প্লান্ট দুটি এখনো গ্রহণ করেনি। বেলতলার প্লান্টটির একাংশ ইতোমধ্যে কীর্তনখোলায় বিলীন হয়ে গেছে। আর রূপাতলীর প্লান্টটিতে বড় ধরনের নির্মাণ ত্রুটির কারণে সেটিও চালু করা যাচ্ছে না। ২০১৬ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষের পর পরই কীর্তনখোলার ভাঙনের কবলে পড়ে বেলতলার প্লান্টটি। ভাঙনে প্লান্টের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চলে যায় নদীতে। ফলে চালু হওয়ার আগেই অনেকটা সক্ষমতা হারিয়েছে ওই প্লান্টটি। রূপাতলীর প্লান্টটিতে বিদ্যুতের যে সাব স্টেশন বসানো হয়েছে তার ক্ষমতা ২৫০ কেভিএ। অথচ প্লান্টের তিন স্তর একসঙ্গে চালাতে দরকার ৪৫০ কেভি বিদ্যুৎ। ফলে রূপাতলী প্লান্টটি চালু করাও সম্ভব হচ্ছে না। পানি শোধনাগার দুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সিটি করপোরেশনের পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, প্লান্ট দুটিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও ত্রুটি ধরা পড়েছে। এ অবস্থায় করপোরেশনের পক্ষে ওই প্লান্ট দুটি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানি সংকট দূর করতে ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগারের ওই প্লান্ট দুটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।মাগুরায় টেলিমেডিসিনে

সেবা নেয়ার আহ্বান

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj