করোনায় মোকাবিলায় সরকারের নানা উদ্যোগ : আপনিও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করার জন্য জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবাই যার যার ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। এ যুদ্ধে আপনার দায়িত্ব ঘরে থাকা। করোনা মোকাবিলায় এই মুহূর্তে প্রধান কাজ ঘরে থাকা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সময়োপযোগী। নিজেদের সুস্থতায় তার অনুরোধ মেনে চলা দেশের সব মানুষের দায়িত্ব বলে মনে করছি। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি ও এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আজ সমগ্র বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে। তবে যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের সরকার প্রস্তুত রয়েছে। আমরা জনগণের সরকার। সব সময়ই আমরা জনগণের পাশে আছি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা আস্থা রাখতে চাই। করোনার কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের ঘের ফেরা কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা, গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেয়া হবে বলে সরকার জানায়। সরকার ভাসানচরে এক লাখ মানুষের থাকা ও কর্মসংস্থান উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একইভাবে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবাও দেয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ খুবই জরুরি ছিল। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার যথাযথ বাস্তবায়ন হয়েছে তা আমরা দেখতে চাই। নিশ্চয় এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগী হয়েছেন। আমরা মনে করি, দেশের জনগণের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টির কাজটি আরো বাড়তে হবে। নানা কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে জনগণ এখন এই বিপদ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নয়। ১০ দিনের লকডাউন ঘোষণার পর লাখ লাখ মানুষ গ্রামে ফিরে গেছে। অথচ ঘরের থাকার জন্য এই নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সবচেয়ে বড় কথা জোরদার ও আগ্রাসী পদক্ষেপ ছাড়া এই ভাইরাস মোকাবিলা করা যাবে বলে মনে হয় না। সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে। এমন উদ্যোগকে মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। বিদেশ ফেরত ব্যক্তিরাই যেহেতু এ দেশে এই ভাইরাস নিয়ে আসার একমাত্র উৎস, তাই তাদের যথাযথ কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাই ছিল একেবারে প্রাথমিক কাজ। এই কাজে বিশৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্তহীনতা ছিল। এখনো সময় আছে তাদের যথাযথ তদারক করা। সাময়িক কষ্ট হলেও দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য সরকারের দেয়া নির্দেশনা আমাদের মানতে হবে। আমাদের ঘরে থাকতে হবে। নিজে ভালো থাকতে হবে এবং অন্যকেও ভালো রাখতে হবে। আর শুধু সরকারের দিকে না চেয়ে আমাদের যে কাজগুলো করতে বলা হচ্ছে, সেগুলো করে যেতে হবে। এ লড়াই কিন্তু অনেক দিনের। দেশের এমন চরম সংকটে ঐক্যবদ্ধ হয়ে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করতে হবে। তাহলে আমাদের মুক্তি মিলবে। ব্যাপক প্রাণহানি থেকে আমরা রক্ষা পাব।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj