সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু : গোপনে দাফন, মানিকগঞ্জের একটি গ্রাম লকডাউন

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পরে গোপনে দাফন করার পর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরী গ্রাম লকডাউন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া মৃত ব্যক্তির পরিবারসহ ৬টি পরিবারের ২৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে গ্রামটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আক্তার বলেন, বাইলজুরী গ্রামের আলমগীর হোসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরি করতেন। গত মঙ্গলবার রাতে করোনা উপসর্গ (ঠাণ্ডা, জ্বর, কাশি) নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে মারা যান। কিন্তু বিষয়টি প্রশাসনকে না জানিয়ে স্বজনরা বুধবার সকালেই তাকে স্থানীয় গোরস্তানে দাফন করেন। বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে গ্রামটিকে লকডাউন করা হয়। স্বজন ও যারা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা বলেন, পুরো এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। যে ৬ পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে সেই বাড়িগুলোতে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হবে। ওই গ্রামে মোতায়েন করা হবে পুলিশ। যাতে লকডাউন পেরিয়ে কেউ বাইরে বের না হন।

পয়লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ জানান, গ্রামটিতে প্রায় ৬০০ পরিবার এবং প্রায় ২ হাজার ৪০০ মানুষ বসবাস করেন। লকডাউনের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও বিষয়টি নজরে রাখা হবে।

আলমগীর হোসেনের ভাই আব্দুল মালেক জানান, তার ভাই সপ্তাহ খানেক আগে জ্বর, কাশি নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে দেন। গত মঙ্গলবার রাতে অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। হাসপাতাল থেকে আলমগীর হোসেনের ডেড সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে আননোন উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে তাদের বাড়িতে মোট ৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এরা হলেন- আলমগীর হোসেনের স্ত্রী, মেয়ে, বাবা, দুই ভাই, দুই ভাইয়ের স্ত্রী ও এক ভাতিজা।

কাগজ প্রতিবেদক, বরিশাল : করোনা সংক্রমণ এড়াতে লঞ্চ-বাসের পর এবার থ্রি-হুইলারসহ সব ধরনের যান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বরিশালে। কিন্তু নির্দেশ উপেক্ষা করে মিনি ট্রাক, মালবাহী ড্রাম ট্রাকে করে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া গুনে গন্তব্যে যাচ্ছেন অনেকে। পায়ে চালিত কিছু সংখ্যক রিকশা পাওয়া গেলেও ভাড়া কয়েকগুণ বেশি।

এতে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তারা হেঁটে দীর্ঘপথ যাত্রা করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এদিকে সরকার সবাইকে নিজ নিজ বাসায় থাকতে বললেও গতকাল বুধবার অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা ছিল খোলা। তাই অফিসের এবং ব্যক্তিগত জরুরি প্রয়োজনে ঝুঁকিয়ে নিয়েই বাইরে বের হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলছেন, করোনা সংক্রমণ এড়াতে সরকার সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাসায় থাকতে বলেছেন। এরপরও অনেক মানুষ অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করছেন। আইন প্রয়োগ করে তাদের ঘরে থাকতে বাধ্য করা হবে। পাশাপাশি সরকারের কার্যক্রম বাস্তবায়নে বরিশালে সেনাবাহিনী টহল শুরু করেছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, বরিশাল থেকে স্থানীয় এবং দূরপাল্লার লঞ্চ-বাস বন্ধ করে দেয়া হয় গত মঙ্গলবার থেকে। এরপরও বুধবার ঢাকা থেকে বাসে করে বরিশাল এসেছেন শত শত যাত্রী।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj