করোনা মোকাবিলায় সহায়তা সরঞ্জাম দিল ভারত : আজ পাঠাবে চীন

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জরুরি চিকিৎসা সহায়তার আওতায় বাংলাদেশকে ৩০ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক এবং ১৫ হাজার হেড কভার দিয়েছে ভারত। গতকাল বুধবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের কাছে এই সহায়তা সরঞ্জামগুলো হস্তান্তর করেন। এদিকে আজ বৃহস্পতিবার জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পাঠাচ্ছে চীন।

ভারতের সহায়তা সরঞ্জাম গ্রহণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আগামী কিছুদিন আপনারা দূরত্ব বজায় রাখুন। করোনায় আক্রান্ত হলে পরিবারও আক্রান্ত হবে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আজ স্বাধীনতা দিবসে চীন থেকে ১০ হাজার পিপিই আসবে। সরকারের সঙ্গে সবাই হাত মিলিয়ে কাজ করবেন। এরই মধ্যে ৭ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এটা ভালো খবর। সবাই দূরত্ব বজায় রাখবেন। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটি সবাই মেনে চলবেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, করোনাভাইরাস বিস্তাররোধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ তার দেশ। ‘প্রতিবেশী প্রথমে’ নীতির অংশ হিসেবে ভারত ৩০ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক এবং ১৫ হাজার হেড কভার বাংলাদেশ সরকারের কাছে সহায়তা হিসেবে হস্তান্তর করেছে। এসব সামগ্রী কোভিড-১৯ এর বিস্তার মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় সহায়ক হবে।

সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজেদের সেরা অনুশীলনগুলোর বিনিময়ের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের ডাক্তার এবং অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে ভিডিও সম্মেলন পরিচালনা করার প্রস্তুতিও চলছে। ভারতীয় হাইকমিশনার আরো জানান, বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে প্রতিক‚ল সময়ে ভারত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। ভারত, বাংলাদেশ এবং অন্যান্য সার্ক দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কোভিড-১৯ সংক্রমণে সৃষ্ট পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবে।

এদিকে, গতকাল বুধবার বিকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ফেসবুক পেইজ ‘ঐবধষঃয গরহরংঃবৎ তধযরফ গধষবয়ঁব, সঢ়’ থেকে লাইভে করোনা ভাইরাসসংক্রান্ত পিপিই সামগ্রী গ্রহণ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘করোনা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াবেন না’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, যারা স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন তাদের সুরক্ষার জন্য পিপিইর কিছুটা স্বল্পতা রয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চার লাখ পিপিই সংগ্রহ করেছে।

তিন লাখ ইতোমধ্যে হাসপাতালে বিতরণ করা হয়েছে, আরো এক লাখ পিপিই রয়েছে।

আরো লাখ লাখ পিপিই বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সরকারের হাতে তুলে দিচ্ছে। আজকে প্রাইভেট মেডিকেল এসোসিয়েশনের কাছ থেকে আমরা ৫ হাজার পিপিই পেয়েছি। যারা স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সজাগ, সচেতন ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী তারা কাজ করছেন। প্রাইভেট মেডিকেলগুলোতে ২০ হাজার শয্যা আছে। আমরা প্রাইভেট মেডিকেলগুলোতে পিপিই সরবরাহ করেছি। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj