টাইগারদের অনুদান

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : প্রাণঘাতী এ ভাইরাসকে আর অবহেলা করার উপায় নেই। সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কেউই। আতঙ্কে মানুষজন স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নি¤œ আয়ের মানুষ। এমতাবস্থায় করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে এলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। নিজেদের এক মাসের বেতনের অর্ধেক দান করে দিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। সবমিলিয়ে মোট ২৭ জন খেলোয়াড়, তাদের একমাসের বেতনের অর্ধেক টাকা দান করছেন। যার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩১ লাখ টাকা। তবে ট্যাক্স কাটার পর সরকারের কোষাগারে জমা হবে ২৬ লাখ টাকা। করোনা মোকাবিলায় অনুদান দেয়ার ক্রিকেটারদের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়রা আছেন তা নয়। কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থাকা কোনো ক্রিকেটার যখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন, বিসিবি প্রাপ্য গ্রেড ধরে ওই মাসের বেতনটা তাকে দিয়ে দেয়। সে হিসাবে মাশরাফিও তার বেতনের অর্ধেক বেতন দান করেছেন।

এ তহবিল গঠনের মূল উদ্যোক্তাদের একজন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেন, হয়তো খুব বড় অঙ্ক নয়, তবু নিজেদের জায়গা থেকে করার চেষ্টা করছি আমরা। সবাই যদি এভাবে যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করি, যত ক্ষুদ্রই হোক বা বড়, সবাই যদি একসঙ্গে লড়াইয়ে নামি, তা হলে করোনা ভাইরাসকে হারানো অবশ্যই সম্ভব।

তহবিল নিয়ে ফেসবুকে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘আস্সালামু আলাইকুম। আপনারা সবাই জানেন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে চারদিকে ক্রমেই ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগ প্রতিরোধে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে যার যার জায়গা থেকে।

তাই আমরা ক্রিকেটাররা একটা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি, যেটি হয়তো অনুপ্রাণিত করতে পারে আপনাদেরও। আমরা এই মাসের বেতনের ৫০ শতাংশ দিয়ে একটা তহবিল গঠন করেছি। এই তহবিল ব্যয় হবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত ও সাধারণ মানুষ যাদের গৃহবন্দি অবস্থায় জীবন চালিয়ে নিতে অনেক কষ্ট হয়।

তহবিলে জমা পড়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো। কর কেটে থাকবে ২৬ লাখ টাকা। করোনার বিরুদ্ধে জিততে হলে আমাদের এই উদ্যোগ হয়তো যথেষ্ট নয়। কিন্তু যাদের সামর্থ্য আছে সবাই যদি এক সঙ্গে এগিয়ে আসেন, এই লড়াইয়ে আমরা অনেক এগিয়ে যাব। এরই মধ্যে করোনা মোকাবিলায় অনেকে এগিয়ে এসেছেন। তাদের অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। কিন্তু বৃহৎ পরিসরে যদি আরো অনেকে এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা এই লড়াইয়ে জিততে পারব ইনশাআল্লাহ। সেই সহায়তা হতে পারে ১০০, ৫০০০ কিংবা ১ লাখ টাকা দিয়ে। টাকা দিয়ে না হোক হতে পারে দুস্থ মানুষকে খাবার কিনে দিয়ে। আসুন পুরো দেশকে আমরা একটা পরিবার ভেবে চিন্তা করি এবং এই বিপদে সবাই সবাইকে সহায়তা করি। আল্লাহ আমাদের নিশ্চয়ই রক্ষা করবেন। ইনশাআল্লাহ।’

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj