সমস্যায় জর্জরিত ঠাকুরগাঁওয়ের উত্তরণ হিজড়া পল্লীর সদস্যরা

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে উত্তরণ হিজড়া পল্লীর সদস্যরা এখন বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। নিরাপত্তাহীনতা, বিদ্যুতের অভাব, টিউবওয়েল ঘাটতি, ঘর ও বারান্দার মেঝে পাকাকরণসহ বেশ কয়েকটি সমস্যা নিয়ে তারা কোনোমতে দিন পার করছে। গত মঙ্গলবার এ দুর্দশার চিত্র দেখা গেছে।

হিজড়া পল্লীর সদস্য প্রিয়া জানায়, আমরা টিনের ঘর পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু ঘর ও বারান্দার মেঝে পাকা করে দেয়া হয়নি। এতে করে ইঁদুর মাটি তুলে ঘর ও বারন্দার ক্ষতি করছে।

ঘরের সিঁধ কেটে জিনিসপত্রও চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাই সে ঘরের মেঝে ও বারান্দা পাকাকরণের দাবি জানায়। এছাড়া তিনটি টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও আরো বেশি টিউবওয়েল বরাদ্দের আহ্বান জানায় সে।

বাবলী নামে অন্য একজন সদস্য জানায়, রান্না-বান্না করার জন্য আলাদা করে কোনো রান্নাঘর তৈরি করে দেয়া হয়নি। সে কারণে বাড়ির বাইরে কোনোমতে একটি চুলা তৈরি করে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে। তাই সে প্রতিটি সদস্যকে একটি করে রান্নাঘর বরাদ্দের আহ্বান জানায়।

হিজড়া পল্লীর সদস্য রুপালী বলে, আমাদের এখানে বিদ্যুতের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। নির্জন এলাকা হওয়াতে এখানে কোনো মানুষের আনাগোনা নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর এখানে ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে থাকে। হিজড়ারা ভয়ে কোনোমতে বাস করছে। এর মধ্যেও আতঙ্কের বিষয় হলো কে বা কারা যেন তাদের ঘরের টিনে প্রায় সময়ই ঢিল ছুড়ছে। এতে আতঙ্কে আছে হিজড়া পল্লীর বাসিন্দারা।

পিয়ান্তি হিজড়া জানায়, কহরপাড়া ফার্মের মাঝখান দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইন গেছে। সেখান থেকে ২-৩টি পিলার স্থাপন করলেই হিজড়া পল্লীতে বিদ্যুতের সুবিধা দেয়া সম্ভব। পুরো পল্লীতে ২০টি ঘর আছে। তার মধ্যে একটি মাত্র সোলার লাইট স্থাপন করা হলেও অন্যান্য সাইড অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। ভয়ে আমরা দিন কাটাচ্ছি।

জানা যায়, পল্লীর চারপাশে কোনো কাঁটাতার বা ঘেরা বেড়া না থাকার কারণে মানুষ ও জীবজন্তু অবাধে প্রবেশ করছে।

জীবজন্তু ও বহিরাগতরা যেন সেখানে অবাধে প্রবেশ করে কোনো ক্ষতি করতে না পারে সে কারণে পল্লীর চারপাশে কাঁটাতারের ঘেরা দেয়া প্রয়োজন।

হিজড়া নেতা রুবি বলেন, দিন দিন সমস্যাগুলো প্রকট আকার ধারণ করছে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে উল্লিখিত সমস্যাগুলো সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সদর উপজেলার কহরপাড়া ইক্ষু খামার এলাকায় উত্তরণ হিজড়া পল্লী স্থাপন করা হয়। ২০ জন হিজড়া একটি করে ঘর বরাদ্দ পায়। সদর উপজেলা প্রশাসন তাদের একটি করে টিনের তৈরি ঘর করে দেয়। ঘরপ্রাপ্ত হিজড়ারা হলো- রুবি, প্রিয়া, বাবলী, রুমানা, সোহানা, সোমা, পিয়ান্তি, লতা, জবেদা, রুপালী, কমল, রেখা, চম্পা, শিলা, নাজিদা, ঝরনা, স্বাধীন, মিতু, কাকুলি, জবা ও কাজল।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj