করোনা নিয়ে কতটা সতর্ক রাজধানীবাসী

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : সারা পৃথিবীতে আতঙ্ক ছড়ানো করোনা ভাইরাস বাংলাদেশেও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ জন। আর মারা গেছে ৪ জন। যে কোনো সময় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে পরিস্থিতি। এজন্য সরকার সারাদেশে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ১০ দিনের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গণপরিবহন এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জনসাধারণকে প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আগেই বন্ধ করা হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি অফিস, শপিংমলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে রাজধানীবাসীও।

অনেকে গ্রামে চলে গেছে। অনেকে খাবার মজুত করে ঘর থেকে বের হচ্ছে না ভয়ে। নিতান্তই যারা বের হচ্ছেন, তারা জীবিকার তাগিদে। যার প্রভাব পড়েছে রাস্তায়। বর্তমানে রাজধানীতে যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে। এদিকে যারা রাজধানীতে নিজ উদ্যোগে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন তারা বলছেন, সরকার আগে থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা বললেও সেটি কেউ মাথায় নেয়নি। তবে ডিএমপির থানা-পুলিশ বিদেশ ফেরতদের ডাটা তৈরি করে তাদের হোম কোয়ারাইন্টাইনে রাখার চেষ্টা করছে। জনসচেতনতাও বেড়েছে কয়েকগুণ। মাস্ক ও গøাভস ছাড়া রাস্তায় লোক চলাচল নেই বললেই চলে। রাজধানীর হাতিরপুলের বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌসি জানান, আমাদের মধ্যে সব সময় এক ধরনের উদাসীনতা কাজ করে। আগে থেকেই সচেতনতার কথা বলা হলেও প্রথম দিকে আমরা হয়তো সিরিয়াস ছিলাম না। করোনার ভয়াবহতা নিয়ে বা সচেতনতার বিষয়ে কে কী বলল তা বিশ^াস করতে বা মেনে নিতে সময় লেগেছে। বিশেষ করে যখন করোনা ভাইরাসে একজনের মৃত্যু হলো, তখন সবার নজরে এলো বিষয়টি। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই সবাইকে নিজ উদ্যোগে বাসায় থাকা উচিত। কারণ সরকার তো একা সব করতে পারবে না। আমাদেরও সহায়তা করা দরকার। মিরপুর ডিওএইচএসের বাসিন্দা তানিয়া আফরোজ জানান, একজন মারা যাওয়ার পর আমরা বাসা থেকে বের না হওয়ার বিষয়টি সিরিয়াসলি নিয়েছি। এখন সবাই সতর্ক। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আমরা কেউ বাইরে যাচ্ছি না।

ভাইরাসে একজনের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষ বিষয়টাকে গভীরভাবে নিতে পারেনি কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব জানান, অপ্রত্যাশিত যে কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষ সেটা মেনে নিতে পারে না। একটু সময় নেয়। এই বিষয়টিকে ডিনায়াল বলে। এই টাইমটি হলো ডিনায়াল পিরিয়ড। একেক ঘটনায় এই সময় একেক রকম হয়। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও তারা প্রথমে মেনে নিতে পারেনি। একটা গাছাড়া ভাব নিয়ে চলেছে।

কিন্তু একজনের মৃত্যুর খবরের পরই তারা সতর্ক হয়ে গেছে। এটাই স্বাভাবিক।

কারওয়ান বাজার পুলিশ বক্সের এএসআই মোস্তাকিম সরকারের বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানুষ বাসায় অবস্থান করছেন। রাস্তায় পরিবহন না থাকায় তেমন চাপ নেই। চাপ না থাকলেও তো আমরা দায়িত্বে অবহেলা করতে পারি না। তাই পরিবারকে ঘরে রেখে আমরা এখনো রাস্তায় আছি।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj