জল-স্থল-আকাশ পথ শাটডাউন

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

দেব দুলাল মিত্র : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অবশেষে জল, স্থল ও আকাশ পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সারাদেশের লঞ্চ যোগাযোগ। সন্ধ্যার পর প্রারম্ভিক কোনো স্টেশন থেকে নতুন কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি। রাত ১২টার পর থেকে বন্ধ আছে অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান চলাচল। আগামীকাল ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিন সারাদেশে অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বাস চলাচলও। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক ভিডিও বার্তায় বলেন, দেশের মানুষ, যাত্রীসাধারণ, গাড়ির মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে- আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এছাড়া পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে পরিবহন সেক্টর ইতোমধ্যেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা গণপরিবহন বন্ধ করে দেব। আগে মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে।

বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি রমেশ চন্দ্র বলেন, আমরা এখনো সরকারের লিখিত কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে অবশ্যই আমরা গণপরিবহন বন্ধ করে দেব। একই কথা বলেছেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সামদানী খন্দকার। তিনি বলেন, আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব।

এদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সারাদেশে রেল চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানান, করোনা প্রতিরোধে মঙ্গলবার থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের চলাচলরত আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল যাত্রীবাহী রেল চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত অনেক ট্রেন বিভিন্ন বেজ স্টেশন থেকে ঢাকায় এসেছে। এই ট্রেনগুলো বেজ স্টেশনে ফিরে যাওয়ার পর এগুলো আর ঢাকায় ফিরবে না। এ সময় থেকেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে তেল, খাদ্যসহ জরুরি পণ্য পরিবহনের জন্য সীমিত আকারে মালবাহী ট্রেন চলাচল করবে।

করোনা প্রতিরোধে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে দেশের সব নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকাল থেকে দেশের নদীবন্দরে সব যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে। তবে পণ্যবাহী নৌযানগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করবে। এদিকে মন্ত্রণালয়ের

সিদ্ধান্তের পর শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি এবং মানিকগঞ্জ-পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া-নগরবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শফিকুল ইসলাম জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটের ফেরি ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ যাতায়াত করে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পাওয়ার পর দুপুর ২টা থেকে সব ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার ফেরিঘাটের কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট মঙ্গলবার বিকালে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর আর কোনো যানবাহন পারাপার করা হবে না।

আকাশ পথেও দেশের সব অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

বিমান যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার ঘোষণার পর অভ্যন্তরীণ রুটের এয়ারলাইন্সগুলো মঙ্গলবারের যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে গেছে এবং ঢাকায় ফিরে এসেছে। প্রতিটি ফ্লাইটই যাত্রীপূর্ণ ছিল। তবে পরবর্তী সময়ের জন্য অগ্রিম সব টিকেট বাতিল করে দিয়েছে।

বাস টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড়

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে। গত সোমবার বিকাল থেকেই রাজধানীর বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। গতকালও দিনভর যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদে। বেশিরভাগ বাসকেই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। রাতে ট্রাক ও পিকআপেও যাত্রী পরিবহনের দৃশ্য চোখে পড়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj