জনসমাগম এড়ানোর নির্দেশনা : উল্টো চিত্র কমলাপুরে

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ভিড় এড়িয়ে চলার নির্দেশনা থাকলেও গতকাল মঙ্গলবার দিনভর রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেল স্টেশনে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ১০ দিনের ছুটিতে গ্রামে যেতে উভয় স্টেশনেই ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। টিকেট কাউন্টারের লাইনে একে অপরের সঙ্গে গায়ে গা লাগিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন হাজারো নারী-পুরুষ। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে শত শত যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে চড়ে গন্তব্যে যাত্রা করতে দেখা গেছে। ফলে যে উদ্দেশ্যে সারাদেশ ‘লকডাউন’ করার সিদ্ধান্ত, তা অনেকটাই ফিকে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সব ধরনের ট্রেন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রেলওয়ে। গতকাল দুপুরে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানান, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে দেশের যাত্রীবাহী রেলযোগাযোগ বন্ধ থাকবে। তবে মাল ও তেলবাহী ওয়াগান চলাচল করবে।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ১০ দিনের ছুটি ঘোষণার সুযোগে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতারও অভাব বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে। ঈদের সময়ের মতো টিকেট প্রত্যাশীদের দীর্ঘলাইন একে বেঁকে কাউন্টারে গিয়ে ঠেকেছে। সবাই ট্রেনে উঠছেন একে অপরের গায়ে ঘেঁষে ঠেলাঠেলি করে। ন্যূনতম দূরত্বও বজায় রাখছেন না কেউ। ঠাসা ভিড়ের ট্রেনে দাঁড়িয়েও চলাচল করছেন অসংখ্য যাত্রী।

কমলাপুর রেল স্টেশনে টিকেট সংগ্রহে আসা যাত্রী রুবেল জানান, জনসমাগম এড়িয়ে চলা উচিত কিন্তু টিকেট তো চাই, তাই লাইনে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় নেই। তিনি বলেন, ঢাকায় একটা আতঙ্ক কাজ করে। এজন্য বাড়ি ফিরতে চাই।

জনসমাগম ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে করোনার ঝুঁকি বাড়বে, তারপরও কেন বাড়ি যাচ্ছেন? জানতে চাইলে আরেক যাত্রী লিপি বলেন, কিছুটা ঝুঁকি আছে, তবে তার চেয়েও বেশি অনিরাপদ ঢাকা। কোনো রকম বাড়ি ফিরলেই বাঁচি। বাড়িতে নিরাপদে ১০ দিন তো কাটানো যাবে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর সোমবার বিকাল থেকেই স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় হতে থাকে। গতকাল মঙ্গলবার যাত্রীর চাপ আরো বাড়ে। তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন রেলমন্ত্রী। তাই যেসব ট্রেনপথে আছে সেগুলো আসলে আবার গন্তব্যে ফিরে যাবে, সে কারণে সব ট্রেনের শিডিউল হয়তো ঠিক রাখা যাবে না।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj