করোনায় বিপাকে স্বল্প আয়ের ভাড়াটিয়ারা

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করায় অর্থনৈতিকভাবে সংকটে পড়েছেন দেশের নি¤œ ও মধ্যবিত্ত আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন। ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। অনেকে আবার ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। লোকজন কমে যাওয়া, গণপরিবহন বন্ধ থাকা এবং কাজকর্মে সীমাবদ্ধতা আরোপিত হওয়ায় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর সঙ্গে আতঙ্ক উদ্বেগ তো রয়েছেই। এ অবস্থায় খেটে খাওয়া মানুষদের দাবি- বাড়ির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে মানবিক বিবেচনায় অন্তত এক মাসের বাসা ভাড়া মওকুফের ব্যবস্থা করবে সরকার।

এদিকে করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করায় কোনো কোনো বাড়ির মালিক নিজ উদ্যোগে সব ভাড়াটিয়ার এক মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এমনই একজন রাজধানীর জুরাইনের দারোগাবাড়ী ১ নম্বর সড়কের শেখ শিউলি হাবিব। একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক শিউলি হাবিব তার ভাড়াটিয়াদের মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করেছেন। এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় বাংলাদেশের সব কিছুই স্থগিত হয়ে গেছে। কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। তাই আমি এ দেশের একজন ক্ষুদ্র নাগরিক হিসেবে আমার বাসার সব ভাড়াটিয়ার মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করেছি।

একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাট্যাভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। হাজারীবাগে ৬ তলা ভবন রয়েছে তাদের। ভবনটিতে ৬টি পরিবার ভাড়া থাকেন। করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় মার্চ মাসে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভাবনার বাবা।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আহমেদ মিজান জানান, করোনার কারণে বিশ^ব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা বিরাজ করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তিনি যে প্রতিষ্ঠানে জব করছেন সেখানেও নির্ধারিত সময়ে আগামী

মাসের বেতন পাওয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই সরকারের উচিত, মানবিক বিবেচনায় অন্তত এক মাস বাড়িভাড়া মওকুফ করতে বাড়ির মালিকদের অনুরোধ করা। শুধু আহমেদ মিজানই নন, ফল ব্যবসায়ী ঝর্ণা রানী সাহা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী, রিকশাচালক রফিকুল, বাসের হেলপার রাসেলসহ অনেকেই একই মন্তব্য করেছেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ফুটওভার ব্রিজের ওপর আমলকি, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলমূল বিক্রি করতেন ঝর্ণা রানী সাহা। করোনা ভাইরাসের কারণে সেসব আর তেমন বিক্রি হয় না। তবে এই সময়ে বিক্রি বেড়েছে মাস্ক, গøাভসের। কিছু দিন ধরে ঘুরে ঘুরে সেসবই বিক্রি করছেন তিনি। স্বামী পল্টন চন্দ্র সাহাও ঘুরে ঘুরে মাস্ক ও গøাভস বিক্রি করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের বালিপাড়ায়। তার পরিবারে মোট সদস্য ৮ জন।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কারওয়ান বাজারের কাঁচাবাজার এলাকায় ঘুরে ঘুরে মাস্ক ও গøাভস বিক্রি করছিলেন ঝর্ণা রানী। তিনি বলেন, করোনা ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে সরকারসহ চিকিৎসকরা সবাইকে ঘরে থাকতে বলছেন। কিন্তু বাসায় থাকলে তো হয় না। হয়তো না খেয়ে থাকতে পারি। কিন্তু ঘর ভাড়ার জন্য তো বাড়িওয়ালা অত্যাচার করবে। ঘর ভাড়ার জন্যই এগুলো (বাইরে কাজে আসতে) করতে হবে।

আগে সারাদিন রিকশা চালিয়ে ভালোভাবেই জীবন চলতো রিকশাচালক রফিকুলের। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে রাস্তায় যাত্রী কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে বিপাকে পড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগে দিনে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের পড়াশোনা খরচ ও ঘর ভাড়া দিয়ে ভালোই চলছিল। করোনার কারণে যাত্রী কমে যাওয়ায় সারা দিনে ৪০০ টাকা আয় করাও এখন কষ্টসাধ্য। দুই মেয়ে হাইস্কুলে পড়ে, বড় ছেলে পড়ে কলেজে। আর ছোট ছেলে পড়ে প্রাইমারি স্কুলে। আয় কমে যাওয়ায় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানান তিনি।

বাসের হেলপার রাসেল জানান, আগের মতো যাত্রী নেই, আয়ও নেই। বাবা নেই, আমার আয়েই ৪ জনের সংসার চলত। সারাদিন হেলপারি করে ভাতের খরচই হয় না, সেখানে বাড়ি ভাড়া দিব কী দিয়ে? প্রশ্ন রাখেন রাসেল।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj