চট্টগ্রাম প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সমন্বয় সভা

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার সেনাবাহিনী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ।

সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম নগরীতে টহল দেবে সেনাবাহিনী। এছাড়া বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেনটাইন নিশ্চিতেও বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা দেবে। এদিকে, চট্টগ্রামের পাঁচটি স্থান প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনের জন্য নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন। করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকদের জন্য পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট-পিপিই ব্যবস্থা ও দুয়েকদিনের মধ্যে করোনা শনাক্তকরণ কিট আনারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের নগরীর আইসোলেশন সেন্টারে পাঠাতে ১০টি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হবে বলেও জানানো হয়।

সভায় সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহরিয়ার, ৩৪ স্পেশাল ওয়ার্কসের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তানভীর, কুমিল্লার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীরসহ প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজের কৌশল নির্ধারণের জন্যই এই বৈঠকের আয়োজন। এতে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা প্যাট্রলিং করবে। কোনো জায়গায় বেশি লোক যেন জড়ো হতে না পারে, ৫-৭ জন যেন জড়ো হতে না পারে, নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে যেন চলাফেরা করে, কাছাকাছি যেন আসতে না পারে- সেনাবাহিনী প্যাট্রলিংয়ের মাধ্যমে মূলত সেটা নিশ্চিত করবে। এছাড়া হোম কোয়ারেনটাইনে যারা আছে, অনেকেই আদেশ মানছে না। এই কাজে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করবে। যারা হোম কোয়ারেনটাইন মানবে না, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে নিয়ে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে সেনাবাহিনী আমাদের সহযোগিতা করবে। পরবর্তী সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া গেলে তাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী সহযোগিতা করবে।

জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে যদি করোনা রোগী শনাক্ত হয় এবং আইসোলেশনে পাঠানোর মতো কাউকে পাওয়া যায়, তাহলে তাদের পুরো পরিবারকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে পাঠানো হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj