করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ : সিলেটজুড়ে প্রশাসনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীরাও

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

সিলেট ব্যুরো : বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানো করোনা ভাইরাসের এখনো কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। এ ভাইরাসের নেই সঠিক কোনো চিকিৎসা। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে তাই সচেতনতা সৃষ্টিতে জোর দেয়া হচ্ছে বেশি। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি করে সংক্রমণ রুখে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে সবখানে।

গতকাল মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার লক্ষ্যে দেশজুড়ে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। ঘোষণা দিয়ে না হলেও সারাদেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। তবে সরকারের একার পক্ষে এ মহামারি সামাল দেয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন অনেকে। আর তাই সিলেটে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন।

এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে চালিয়ে যাচ্ছেন সচেতনতামূলক প্রচারণা। অনেকে গ্রহণ করেছে হাত ধোয়া কর্মসূচি এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ। সেই সঙ্গে অনেকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন সহজে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির কৌশল। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গতকাল মঙ্গলবার সারাদিন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে।

গত রবিবার রাত থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। নগরভবনের প্রবেশ পথে করা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা। সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রবেশে রাখা হয়েছে সাবান দিয়ে হাত ধোবার ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসা সব দর্শনার্থী নিজেদের জীবাণুুমুক্ত করে প্রবেশ করছেন। এছাড়া সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, মাইকিংয়ের পাশাপাশি সড়কে চলা যানবাহন ও পথচারীদের জীবাণুমুক্ত করতে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছে সিনেলট মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশ।

জালালাবাদ গ্যাস তার প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ প্রধান ভবনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি কার্যালয়ে স্প্রে করা হচ্ছে জীবাণুনাশক। একই রকম ব্যবস্থা করেছে সওজ, এলজিইডি, পাউবো সিলেট কার্যালয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের সবারই যার যার জায়গা থেকে এ দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। আমরা প্রশাসনিকভাবে যতটা সম্ভব করছি। আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে, তবে তার পাশাপাশি জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে।

সরকারি অফিসগুলোর পাশাপাশি নগরীতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। পজিটিভ জেনারেশন অব সোসাইটি বাংলাদেশ নামের একটি সামাজিক সংগঠন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চলাচলকারী যানবাহনে জীবাণুনাশক স্প্রে করে এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নানা সচেতনতামূলক পরামর্শ দেয়। নগরীর মির্জাজাঙ্গালে মনিপুরী রাজবাড়ি এলাকায় পথচারীদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছে এড মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ‘এডলিঙ্ক।’

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পথচারীদের জন্য সাবান পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নগরীর রিকশাচালকসহ নি¤œ আয়ের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে মাস্ক ও সাবান বিতরণ করেছে সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদ। এ সময় নাট্য পরিষদ নেতারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান এবং সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতিমালা অনুসরণ করার অনুরোধ জানান।

এদিকে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি অনেকে ব্যক্তিগত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে জনসচেতনতায় মাঠে নেমেছেন। তারা হ্যান্ডমাইক দিয়ে আহ্বান জানাচ্ছেন বাইরে ঘোরাফেরা না করে ঘরে ফিরে যেতে।

এ ব্যাপারে সমাজকর্মী আশরাফুল কবির বলেন, করোনা একটি ভয়াবহ ব্যাধি, যার কোনো প্রতিষেধক নেই। এ অবস্থায় সবার বাসায় থাকাই সবচেয়ে বড় সচেতনতা। এর মধ্যে বেশি হাত ধোয়াটাও জরুরি। এছাড়া তিনি এই দুঃসময়ে গুজব না ছড়িয়ে সবাইকে সাহস নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj