গণহত্যা ১৯৭১ : ইতিহাস ও দায়বদ্ধতা

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০


বাংলাদেশের মাটিতে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, তা ছিল বিশ শতাব্দীর অন্যতম নৃশংস গণহত্যা। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ২৫ তারিখ থেকে ৮ মাস ২ সপ্তাহ ৩ দিনের এই গণহত্যার স্বরূপ ছিল ভয়ঙ্কর। পরিকল্পিত পন্থায় বাঙালিকে খুন করা হয়েছে, গণহারে নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে; ঘরবাড়িতে আগুন দেয়াসহ অপহরণ, গুম ও বর্বর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে এসব বর্বরতায় সহযোগী ছিল বাঙালি ও অবাঙালি সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং শান্তি কমিটির সদস্যরা।

সে দিনকার ¯œায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই গণহত্যার বিশ্ব স্বীকৃতি যতটা হওয়া সঙ্গত ছিল, তা হয়নি। কিন্তু ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্ট, বিভিন্ন ব্যক্তি-সংস্থার গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের ব্যাপকতা সবিস্তারে গ্রন্থিত আছে। সে দিনকার জাতিসংঘের মহাসচিব ইউ থান্ট ৩ জুন ১৯৭১ যে মন্তব্যটি করেন তা প্রণিধানযোগ্য : ঞThe happenings in East Pakistan constitute one of the most tragic episodes in human history. Of course, it is for future historians to gather facts and make their own evaluations, but it has been a very terrible blot on a page of human history.

বাঙালি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে। এই অভিযানের মধ্য দিয়ে তারা কেবল নির্বাচনে বিজয়ী দল আওয়ামী লীগকে উৎখাতের পথই বেছে নেয়নি, একই সঙ্গে বাঙালি সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, ইপিআর এবং ছাত্র-জনতাকে নিধন করার পরিকল্পনা করেছিল। নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এই সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ফলে জীবন বাঁচাতে লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়। ফলে ভারতের মাটিতে প্রায় ১ কোটি মানুষের দেশান্তরী হওয়ার মর্মন্তুদ অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।

২৫ মার্চের সামরিক অভিযানটি শুরুর আগে দেশ থেকে প্রতিটি বিদেশি সাংবাদিককে বের করে দেয়া হয়। স্থানীয় প্রচার মাধ্যমের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিক লুকিয়ে থাকেন। তাদেরই একজন সাইমন ড্রিং। তিনি ৩১ মার্চ লন্ডনের ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এ তার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেদন প্রকাশিত করেন।

‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর দীর্ঘ প্রতিবেদনের শুরুটি বাংলায় এ রকম : ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর ঢাকা মহানগরী মুহুর্মুহু তোপধ্বনিতে প্রকম্পিত হতে থাকে। সর্বত্র বোমা-বারুদের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। টিক্কা খান বর্বর সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে নির্মমভাবে গণবিদ্রোহ দমনে সচেষ্ট হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের প্রধান কার্যালয় পিলখানা সেনা অভিযানে বিধ্বস্ত হয়। নিরস্ত্র মানুষের ওপর সেনাবাহিনী নির্বিচারে ভারী আরআর গান, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ব্যবহার করে। ইকবাল হলকে তারা প্রধান আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। সেখানে প্রথম ধাক্কাতেই ২০০ ছাত্র নিহত হয়। একদিকে হলগুলোর দিকে উপর্যুপরি শেল নিক্ষেপ করা হতে থাকে অন্যদিকে চলতে থাকে মেশিনগানের গুলি। দুদিন পর্যন্ত পোড়া ঘরগুলোর জানালা-দরজায় মৃতদেহ ঝুলে থাকতে দেখা যায়। পথে-ঘাটে মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। জগন্নাথ হলেও বর্বরোচিত আক্রমণ চালানো হয়। কয়েকশ ছাত্র, যারা প্রায় সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী, নিহত-আহত হয়। সৈন্যরা মৃতদেহগুলোকে গর্ত খুঁড়ে গণকবর দেয়। এরপর ট্যাংক চালিয়ে মাটি সমান করে। রিপোর্টের একটি অংশ এ রকম : ‘আল্লাহ ও পাকিস্তানের ঐক্যের নামে ঢাকা আজ এক বিধ্বস্ত, সন্ত্রস্ত নগরী।’

‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-এর ভাষ্য মতে, ঢাকার মাটিতে একমাত্র ২৫ মার্চ রাতেই পাকিস্তান বাহিনীর হাতে ১ লাখ মানুষ নিহত হয়। নিউইয়র্ক টাইমস ৪.১.৭১ তারিখে ঢাকায় ৩৫ হাজার মানুষ নিহত হওয়ার প্রতিবেদন ছাপে। নয় মাসব্যাপী বর্বরতায় পাকিস্তান বাহিনী ও তাদের দোসররা তিন লক্ষাধিক নারীকে ধর্ষণ করে।

পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্বিচার গণহত্যার ব্যাপকভিত্তিক প্রথম বর্ণনা দেন পাকিস্তানি সাংবাদিক এন্থনি মাসকারানহাস লন্ডনের ‘সানডে টাইমস’ পত্রিকায় ১৩ জুন ১৯৭১। মাসকারানহাসের রিপোর্টটি পড়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আবেগাপ্লুত হন। মার্কিন সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি আগস্ট মাসে ভারতের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে সরাসরি গণহত্যা চালানোর অভিযোগ করেন। ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ বাংলাদেশের হত্যাযজ্ঞকে বিশ শতকের পাঁচটি ভয়ঙ্কর গণহত্যার অন্যতম বলে উল্লেখ করা হয়। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নিরাপত্তাবিষয়ক আর্কাইভ’ তাদের অবমুক্তকৃত দলিল প্রকাশ করে। এতে বাংলাদেশের নারকীয় হত্যাযজ্ঞকে ংবষবপঃরাব মবহড়পরফব বা মবহড়পরফব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জেনারেল নিয়াজীসহ ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা অফিসারকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তাদের বিচার করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পর ৯৩ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিসহ এসব যুদ্ধাপরাধী দেশে ফিরে যায়। এর প্রধান কারণ যুদ্ধের ফলে ৪ লাখ বাঙালি পাকিস্তানে আটকে পড়ে এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তাদের বিচার করার ঘোষণা দেন। পাকিস্তান সরকার এরই মধ্যে ২০০ জন বাঙালিকে বিচারের লক্ষ্যে কারারুদ্ধ করে। পাকিস্তান বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের মাটিতে গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছে। ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে পাকিস্তান ‘deeply regretted any crimes that may have been committed’  কথাগুলো উল্লেখ করেছে। জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে ১৯৭১-এর ঘটনার জন্য ‘ৎবমৎবঃ’ বা ‘দুঃখ’ প্রকাশ করেন। ২০০২ সালে পারভেজ মুশাররফ ঢাকায় এসে ১৯৭১-এর ‘বাড়াবাড়ি’ বা ‘বীপবংংবং’-এর জন্য ‘দুঃখ’ প্রকাশ করেন। একমাত্র ২০১৫ সালে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার চলাকালে নওয়াজ শরিফের সরকার আগের অবস্থান থেকে সরে আসে এবং ইতিহাস পুরোপুরি অস্বীকার করে! অথচ ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ছাড়িয়ে নিতে পাকিস্তান সরকার যে বিবৃতিটি প্রচার করে তা এ রকম- ‘Pakistan expresses its readiness to constitute a judicial tribunal of such character and composition as will inspire international confidence to try the persons charged with offenses.’

কিন্তু সে কাজটি পাকিস্তান আজ অবধি করেনি। শুধু তাই নয়, তারা নতুন করে গণহত্যা অস্বীকারের অপপ্রচারে নেমেছে। বাংলাদেশের মাটিতে তাদের পরাজয়ের কারণ নির্ণয় করতে পাকিস্তান ১৯৭২ সালে হামিদুর রহমান কমিশন গঠন করে। কিন্তু কমিশনের রিপোর্ট তারা ২৮ বছর ধরে চেপে রাখে। ২০০০ সালে গণমাধ্যমে তা প্রকাশ হলে দেখা যায়, কমিশনে সাক্ষী দিতে গিয়ে সিনিয়র পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা প্রায় সবাই ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও নারী নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে। হামিদুর রহমান কমিশন সুপারিশ করে : ‘ঞযব মড়াবৎহসবহঃ ড়ভ চধশরংঃধহ ংযড়ঁষফ ংবঃ ধ যরময-ঢ়ড়বিৎবফ ঈড়ঁৎঃ ড়ভ ওহয়ঁরৎু ঃড় রহাবংঃরমধঃব ঃযবংব ধষষবমধঃরড়হং ধহফ ঃড় যড়ষফ ঃৎরধষং ড়ভ ঃযড়ংব যিড় রহফঁষমবফ রহ ঃযবংব ধঃৎড়পরঃরবং, নৎড়ঁমযঃ ধ নধফ হধসব ঃড় ঃযব চধশরংঃধহ অৎসু ধহফ ধষরবহধঃবফ ঃযব ংুসঢ়ধঃযরবং ড়ভ ঃযব ষড়পধষ ঢ়ড়ঢ়ঁষধঃরড়হ নু ঃযবরৎ ধপঃং ড়ভ ধিহঃড়হ পৎঁবষঃু ধহফ রসসড়ৎধষরঃু ধমধরহংঃ ড়ঁৎ ড়হি ঢ়বড়ঢ়ষব,’

কিন্তু এসবের কিছুই করেনি পাকিস্তান। আমরা আরো জানি যে পাকিস্তানের সিভিল সমাজ গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বছরের পর বছর। শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক মহলের মতেও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ‘তিন মিলিয়ন’ বা ৩০ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। এই সংখ্যার জোরালো সমর্থন আছে ঘধঃরড়হধষ এবড়মৎধঢ়যরপ সধমধুরহব, ঊহপুপষড়ঢ়বফরধ অসবৎরপধহধ ধহফ ঈড়সঢ়ঃড়হ’ং ঊহপুপষড়ঢ়বফরধতে। এসব রিপোর্র্টের মতে, বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তান বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোল্যান্ডে নাজি বাহিনী ও ১৯৩৫ সালের নানজিং বর্বরতার চেয়েও ভয়াবহ। এই গণহত্যা সম্পর্কে অন্যতম প্রধান পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলী তার ডায়েরিতে লেখেন, তিনি বাংলার সবুজ মাঠকে রক্তবর্ণ করে দেবেন- ‘ঢ়ধরহঃ ঃযব মৎববহ ড়ভ ঊধংঃ চধশরংঃধহ ৎবফ.’ এবং দিয়েছিলেনও।

এই গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্ববাসী সরব হয়ে ওঠে। গণহত্যা বন্ধে জর্জ হ্যারিসন ও পণ্ডিত রবি শঙ্কর ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করেন। নতুন দিল্লি, প্যারিস ও লন্ডনে সরব হন মানবতাবিরোধীরা। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক অ্যাঁদরে মালরো বাংলাদেশের পক্ষে ‘আন্তর্জাতিক ব্রিগেড’ গঠনের ঘোষণা দেন। মাত্র নয় মাসে এবং যে দ্রুততায় বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করা হয়েছে- তা বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য ঘটনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দৈনিক গড়ে ৬ হাজার মানুষ খুন করা হয়েছে মাত্র ২৬০ দিনে। কম্বোডিয়ার এই হার ছিল ১ হাজার ২০০। একমাত্র চুকনগরেই ২০ মে ১৯৭১ সালে একদিনে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। শত শত শীর্ষ বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে।

পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ইতিহাস থেকে কখনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি, বরং সে দেশের বিবেকবান নাগরিক ও খ্যাতিমান ইতিহাসবিদের ভাষায় দেশটির পরিচিতি ‘ইতিহাসের ঘাতক’ বলে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে তারা বিকৃত করেছে, নয় আড়াল করেছে। স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে মনগড়া ইতিহাস যোগ করে নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসশূন্য করেছে। কাজেই বাংলাদেশের মাটিতে তার সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতা অস্বীকার করার ব্যাপারটি নতুন কিছু নয়। কিন্তু এতে ঐতিহাসিক সত্যের কিছু যায় আসে না। কারণ সেই বেদনাবিধুর অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করার কোটি মানুষ এখনো আছেন, আছে হাজারো, লাখো স্মৃতিচিহ্ন, আছে ৩ হাজারেরও বেশি গণকবর, আছে দেশি-বিদেশি প্রত্যক্ষদর্শী, সমীক্ষা ও গবেষণা- যা যুগ যুগান্তর ধরে সত্যকে তুলে ধরবে।

ইতিহাসের ভয়ঙ্কর এক হত্যাযজ্ঞের ট্র্যাজেডি ধারণ করে ২৫ মার্চ বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘কালরাত’। এ দিন থেকেই সূত্রপাত ঘটে প্রায় নয় মাসের নিষ্ঠুরতা, যাতে সর্বমোট ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন, ধর্ষিত হন তিন লক্ষাধিক বাঙালি নারী। শুধু ইতিহাস রক্ষাই নয়, পাকিস্তানি অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাবার দায়বদ্ধতা আছে আমাদের; দায়বদ্ধতা আছে গণহত্যার মতো পাশবিক প্রবৃত্তি বোধের। কাজেই বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীকে, তাদের বিচারের দাবিকে বেগবান করতে হবে। আমার বিশ্বাস, তাদের সেনাবাহিনীর অপকর্ম ঢাকতে পাকিস্তান যে মিথ্যাচার করে চলেছে- তা দেশটির এক নতুন ঐতিহাসিক পাপ, এতে সত্যের নড়চড় হওয়ার সুযোগ নেই।

কেবলমাত্র ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা বা পালনই নয়, ২৫ মার্চের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিকে বেগবান করা জরুরি। আর্মেনিয়া, রুয়ান্ডা, কম্বোডিয়া, সিয়েরা লিওন, বসনিয়ার মতো বাংলাদেশের গণহত্যাকে বিশ্ব সংস্থার স্বীকৃতি আদায় করতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ বিশ্ববাসী একাত্তরের নৃশংসতা সম্পর্কে জ্ঞাত।

হারুন হাবীব : মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
ড. মো. তাসদিকুর রহমান

আসুন সরকারের নির্দেশনা মানি

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঐক্যের বিকল্প কিছু নেই

বিভুরঞ্জন সরকার

আমরা কথা ও কাজে এক হব কবে?

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

করোনায় গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

করোনার জন্য প্রস্তুতি

Bhorerkagoj