করোনায় মৃত্যু ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

** কলম্বিয়ায় কারা-দাঙ্গায় নিহত ২৩ ** সৌদিতে ২১ দিনের কারফিউ **

কাগজ ডেস্ক : নভেল করোনা ভাইরাসে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। একদিনেই ১০ শতাংশ আক্রান্ত বেড়েছে সেখানে। অন্যদিকে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কলম্বিয়ায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহত হয়েছে ২৩ জন। এ সময় আহত হন আরো ৮৩ জন। কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটার অন্যতম সবচেয়ে বড় কারাগারে করোনা ভাইরাস নিয়ে উত্তেজনা থেকে দাঙ্গার এ ঘটনা ঘটে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা ভাইরাস নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগে এটি ছিল জেল ভাঙার সম্মিলিত একটি প্রচেষ্টা। এছাড়া ব্রিটেনে রানীর বাসভবন বাকিংহাম প্রাসাদে একজন রাজকর্মীর দেহে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ার পর ৯৩ বছর বয়সী রানীকে উইন্ডসর দুর্গে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া করোনা-সংক্রমণের লক্ষণ হিসেবে জ¦র-সর্দি-কাশি-শ^াসকষ্টের পাশাপাশি ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়ার উপসর্গ দেখা দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি, ভারতে লকডাউন না মানলে জেল-জরিমানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর বিবিসি।

কলম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী মার্গারিটা কাবেলো জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। বিবিসি জানায় লা মোদেলো কারাগারের গেটের বাইরে বন্দিদের বহু স্বজন জড়ো হয়ে তাদের প্রিয়জনদের খবর জানার জন্য অপেক্ষা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ভিডিওতে বন্দিদের জাজিম, তোশকে আগুন ধরাতে দেখা গেছে।

কলম্বিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশটির মোট ১৩২টি কারাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা ৮১ হাজার হলেও বন্দি আছে এক লাখ ২১ হাজারেরও বেশি। এ পর্যন্ত কলম্বিয়ায় ২৩১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং দুজন মারা গেছে। এর আগে তার সব ধরনের সূচি বাতিল করা হয় এবং তিনি সুস্থ আছেন বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়। ওই রাজকর্মী রানীর কতটা কাছাকাছি ছিলেন তা পরিষ্কার হয়নি। কিন্তু তারপর থেকে বাকিংহাম প্রাসাদের অন্য যে কর্মীরা ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন তারা সবাই স্বেচ্ছা আইসোলেশনে আছেন। প্রাসাদে ৫০০ কর্মী আছে, তাই যে কোনো কর্মস্থলের মতো এখানেও কোনো পর্যায়ে এর প্রভাব পড়বে, বলে জানায় রাজকীয় সূত্র। যুক্তরাজ্যজুড়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাসে ৫ হাজার ৭৪৫ জন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ২৮২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জনস হপকিন্স বিশ^বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে।

মহামারির রূপ নেয়া নভেল করোনা ভাইরাস সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯-এর সাধারণ লক্ষণ হিসেবে এতদিন জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টের কথা বলা হলেও আরো দুটি উপসর্গ ভাবিয়ে তুলেছে চিকিৎসকদের। ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির ঘ্রাণশক্তি লোপ এবং খাবারের স্বাদ বুঝতে না পারার উপসর্গ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। নিউইয়র্ক টাইমসের এক নিবন্ধে কয়েকটি দেশের নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলা হয়, এই দুটিও নতুন এই ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। গত শুক্রবার ব্রিটেনের একদল নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ জানান, বয়স্ক যাদের মধ্যে ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়ার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, এমনকি অন্য কোনো লক্ষণ না থাকলেও তাকে সাত দিনের জন্য আলাদা করে রাখতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০০০ রোগীর ৩০ শতাংশের মধ্যেই এই উপসর্গ পাওয়া গেছে বলে জানান তারা। জার্মানির হেইন্সবার্গের ঘরে ঘরে গিয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেন বন ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজিস্ট হেনড্রিক স্ট্রিক। তিনি বলেন, শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তাদের দুই-তৃতীয়াংশের কাছ থেকে ঘ্রাণশক্তি এবং মুখের স্বাদ হারিয়ে ফেলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে ভারতে বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতি যারা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছে প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যগুলোকে নোটিস দিয়ে বলা হয়, সরকারি নির্দেশের লঙ্ঘন চোখে পড়লে ২০০ টাকা জরিমানাসহ ১ মাসের জেল হতে পারে নিয়ম লঙ্ঘনকারীর। আর তার জন্য অন্য কারও জীবন ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ১ হাজার টাকা জরিমানা ছাড়াও জেল হতে পারে ছয় মাস পর্যন্ত। ভারতে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এ ভাইরাসে। গতকাল সোমবার টুইটে তিনি লেখেন, অনেকে এখনো লকডাউনকে পাত্তা দিচ্ছেন না। দয়া করে নিজেকে বাঁচান, আপনার পরিবারকে বাঁচান। সৌদি আরবে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা একদিনে ১১৯ জন বেড়ে ৫১১ জনে উন্নীত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সারাদেশে সান্ধ্য আইন জারি করেছেন বাদশাহ সালমান। গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ২১ দিন এ আদেশ কার্যকর হবে।

এদিকে ইতালিতে আক্রান্তদের মধ্যে ৭ হাজার সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। তবে এখনো আইসিইউতে আছেন ৩ হাজার ৯ জন। গত শনিবার একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ডের পর ইতালির সবচেয়ে আক্রান্ত এলাকা লমবার্দিতে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ইতালিতে মৃত পাঁচ হাজারের মধ্যে লমবার্দিতেই মারা গেছেন ৩ হাজার ৯৫ জন। এদিকে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার নাগাদ বিশে^র ১৮৬টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৩ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন নভেল করোনা ভাইরাসে, মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার মানুষ।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj