ঢাকা ছাড়তে বাস-রেল স্টেশন লোকারণ্য

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

এন রায় রাজা : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টানা ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আর এ ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য গতকাল সোমবার সকাল থেকে কমলাপুর, বিমানবন্দর রেলস্টেশনসহ রাজধানীর সব কটি বাস টার্মিনাল ও সদরঘাটে বাড়ি ফেরার টিকেট কাটতে হাজারো মানুষের ভিড়। গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে হাজারো মানুষের ভিড়। বিকালে সে ভিড় রূপ নেয় ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার ভিড়ে। প্রতিটি কাউন্টারে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেটের অপেক্ষায়। এদিকে অগ্রিম প্রস্তুতি না থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে রেলওয়েকে। রেল ২৫-৩০ হাজার দূরপাল্লার টিকেট বিক্রি করলেও চাহিদা অন্তত ৫০ হাজার বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ। সে কারণে সবাইকে টিকেট দেয়া সম্ভব হবে না বলে জানান স্টেশন মাস্টার।

গতকাল কমলাপুরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষমাণ যাত্রী সরকারি কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন বলেন, আগামী ২৫ মার্চ কোনো রকম অফিসে হাজিরা দিয়ে পরিবারসহ দেশের বাড়ি চট্টগ্রামে ফিরতে ২৫ মার্চের টিকেট কাটতে এসেছি। কিন্তু এত মানুষের ভিড়ে টিকেট পাব কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ২৫ তারিখের টিকেট না পেলে পরের দিনের জন্য ট্রাই করবেন বলে জানান নাজিম উদ্দীন।

মহিলা কাউন্টারে দাঁড়ান সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী নাজমা কাজল জানান, মাকে নিয়ে জামালপুর যাওয়ার জন্য তিনি দুপুর ১টায় চলে এসেছেন টিকেট কাটতে। বহু কষ্টে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ টিকেট হাতে পেয়েছেন। ২৫ তারিখে বাড়ি যেতে পারবেন বলে উল্লাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঈদেও এত দিনের ছুটি হয় না। এবার করোনার আতঙ্ক থাকলেও বাড়িতে সবার সঙ্গে ১০ দিন কাটাতে পারব, ভেবে ভালো লাগছে। অনেকে আবার রাতে স্টেশনে থেকে পরের দিনের টিকেটের জন্য লাইনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান।

এদিকে সবাইকে টিকেট দেয়া সম্ভব হবে কিনা- তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্টেশন মাস্টার এন সি সাহা। গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, হঠাৎ সরকার টানা ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করায় ট্রেনের টিকেট কাটতে বিকাল থেকে প্রচুর ভিড় হচ্ছে। সবারই ২৫ বা ২৬ তারিখ সকালের টিকেট চান। এত ভিড় যে এটা ঈদের ছুটিকেও হার মানিয়েছে। কিন্তু সবাইকে টিকেট দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

রেল সূত্র জানায়, এমনিতে প্রতিদিন কমলাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ১৩৬টি ট্রেন আসা-যাওয়া করে। এর মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা ৪৩টি। প্রতিদিন মোট প্রায় ৭০-৭২ হাজার যাত্রী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। এর মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ, ৩৫ হাজারের মতো টিকেট কাউন্টার থেকে দেয়া হয় আর অর্ধেক টিকেট অনলাইন ও ই-টিকেটিং বা অ্যাপসের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে ৫-১০ শতাংশ সংরক্ষিত থাকে রেলকর্মী ও ভিভিআইপিদের জন্য। সে কারণে সবাইকে কাক্সিক্ষত টিকেট দেয়া সম্ভব হবে না বলে মনে করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

আবার গত কয়েক দিন ধরে বাস চলাচল কমে গেলেও গতকাল রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদসহ সব কটি বাস টার্মিনালে ব্যাপক ভিড় ছিল। সবাই ১০ দিনের টানা ছুটিতে ২৫ তারিখে বাড়ি ফেরার টিকেট প্রত্যাশী। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও অগ্রিম টিকেট কাটার জন্য যাত্রীদের ভিড় ছিল।

উল্লেখ্য, আজ মঙ্গল ও কাল বুধবার অফিস-আদালত খোলা থাকলেও এরপর ছুটি দাঁড়াচ্ছে একটানা ১০ দিন। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ছুটি, তার পরের শুক্র-শনি দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর পাঁচ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে আবার ৩ ও ৪ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি। সে কারণে ২৫ মার্চ অফিস করে টানা ১০ দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা, যা ঈদের ছুটিকেও হার মানিয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj