সময় হয়নি এখনো : ডিসি > লকডাউনের দাবিতে অনড় সাদুল্যাপুরবাসী

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধায় শনাক্ত দুই করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্তত ২৪ জনকে নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া ওই বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে কারা কারা উপস্থিত ছিলেন তাদের খুঁজছেন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। তবে বিয়ের নিমন্ত্রণ কার্ড প্রদান ও উপহার সামগ্রী প্রদানকারীদের কোনো তালিকা ওই বিয়েবাড়িতে সংরক্ষিত না থাকায় বিয়ের ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান সাদুল্যাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা।

এদিকে সাদুল্যাপুর সচেতন নাগরিক সমাজের অনেকের সঙ্গে কথা বললে তারা এই অদৃশ্য শত্রুর মোকাবিলা করতে সাদুল্যাপুর উপজেলাকে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউনের দাবি জানান। ইতোমধ্যে গাইবান্ধা পৌর পার্ক ও এস কে এস ইন (একটি এনজিওর পার্ক) লকডাউন ঘোষণা করেছে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার সাদুল্যাপুর উপজেলা শহর ও হাটবাজারে তেমন একটা লোকজনকে দেখা যায়নি। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে স্থবির হয়ে গেছে উপজেলার জনজীবন। সরেজমিন উপজেলা শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহর অনেকটা ফাঁকা। লোকজন ও যানবাহন চলাচল অনেক কম। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া শহরে বের হচ্ছে না। যারা ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন তারা মাস্ক পরে বের হচ্ছেন। দ্রুত কাজ সেরে বাড়ি ফিরছেন। বিয়েবাড়ির গৃহকর্তা জানান, তাদের বাড়িতে চারজনসহ তার ২৪ জন আত্মীয়স্বজন নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তবে কারো অবস্থা গুরুতর নয়। সাদুল্লাপুরের ওই বিয়েবাড়ির গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন সরকার জানান, ওই বিয়ের আগে ও পরে তাদের গ্রামে কমপক্ষে ১৫টি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া তাদের গ্রামের প্রাইমারি স্কুলটি ছিল গাইবান্ধা-৩ আসনের উপনির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্র। ফলে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোনতেজার রহমান চঞ্চল বলেন, সাদুল্যাপুর লকডাউন না করায় আমরা সবাই আতঙ্কিত। এখন যদি করোনার কারণে আমাদের উপজেলার জনগণের কোনো ক্ষতি হয় তার দায়দায়িত্ব কে নেবেন। সাদুল্যাপুর উপজেলা বণিক সমিতির সভাপতি শফিউল ইসলাম স্বপন জানান, উপজেলা সদর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরের ওই গ্রামের লোকজন হাটবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়া উপজেলা সদরের অনেক ব্যবসায়ীর বাড়ি ওই গ্রামে। এই অবস্থায় আমরা ব্যবসায়ীরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। তবে প্রশাসন যদি লকডাউন না করে তাহলে আমরা আমাদের সুরক্ষার জন্য জনগণের কারফিউ জারি করে লকডাউন করব। উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সামসুজ্জোহা প্রামাণিক রাঙ্গা জানান, সাদুল্যাপুরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যই সাদুল্যাপুরকে লকডাউন করা প্রয়োজন। উপজেলা আ.লীগের সহসভাপতি প্রভাষক আব্দুল জলিল বলেন, আমরা সতর্ক আছি। কিন্তু অনেকে সতর্ক নেই। তাই উপজেলাকে লকডাউন করা উচিত। সাদুল্যাপুর ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি খন্দকার জিল্লুর রহমান জানান, আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের আগামী প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য সাদুল্যাপুুরে লকডাউন ঘোষণা করা উচিত। সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সাহারিয়া খান বিপ্লব জানান, গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হওয়া আতঙ্কের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের চাপে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি বিকালে এক জরুরি সভার আয়োজন করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু জেলা প্রশাসক মহোদয় এটিতে অনুমোদন দেননি। তিনি আরো জানান, স্থানীয় জনগণ নিজেদের সুরক্ষার জন্য এখনো লকডাউন দাবিতে অনড়। সিভিল সার্জন ডা. এবিএম আবু হানিফ জানান, সোমবার দুপুরের পর ঢাকা থেকে আইইডিসিআরের চার সদস্যের একটি টিম গাইবান্ধায় পৌঁছেছে। ওই টিমের সদস্যরা সাদুল্যাপুর উপজেলার হবিবুল্লাপুর গ্রামের বিয়ে অনুষ্ঠানের যে ২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে, তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এছাড়াও তারা গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা রয়েছে। তিনি আরো জানান, সোমবার দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদেশফেরত ১৩৯ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এদের মধ্যে ১৩৫ জনই প্রবাসী বাংলাদেশি। তবে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিন বলেন, লকডাউন করার পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj