করোনার ভয়াল থাবা : বড় রাজনৈতিক দলগুলো পাশে নেই জনগণের

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

চট্টগ্রাম অফিস : করোনা ভাইরাসের আক্রমণে চরম জাতীয় দুর্যোগে চট্টগ্রামে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থীরা এতদিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। অনেক সংসদ সদস্যকেও নিষ্ক্রিয় দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম এবং দেশের খ্যাতনামা ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরাও এ ক্ষেত্রে একেবারে নিশ্চুপ হয়ে আছেন। তারা সবকিছুই সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়ে নিজেদের সামাজিক দায়িত্ব এড়াতে চাইছেন। কিন্তু দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছোট ছোট ছাত্র-যুব ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের সীমিত অবস্থার মধ্যে থেকেও কিছু কিছু কাজ করে যাচ্ছে।

বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকেও ‘সামাজিক দায়বদ্ধতার মানসিকতা থেকেও জাতীয় এই সংকটে জনগণ ও সরকারের পাশে দাঁড়ানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ অবস্থার মধ্যে দেখা গেছে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের কয়েকজন সদস্য অতি সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। গত শনিবার তারা ‘আপনি বাসায় থাকেন খবর আমরা জানাব’ এমন লেখা নিয়ে চট্টগ্রামের জনসাধারণকে সতর্কবার্তা দিতে চেয়েছেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম যুব ইউনিয়ন কিছু রসায়নবিদের সহায়তায় গত তিনদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১০০ মিলিমিটারের প্রায় ৩ হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে তা সাধারণ গরিব নাগরিকদের কাছে বিতরণ করেছে। যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম সভাপতি রিপায়ন বড়–য়া বলেন, সীমিত সামর্থ্যরে মধ্য আমরা দিয়ে যতটুকু সম্ভব অতীতের মতো জাতীয় দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকব।

এদিকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নও চট্টগ্রামে প্রায় দেড় হাজার মিনি বোতলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিও- এর মধ্যে সরকারি হাজী মহসীন কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সহায়তায় প্রায় ৫০০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে তা বিতরণের ব্যবস্থা করেছেন। সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস বলেন, আমরা আমাদের সামাজিক দায়বোধ থেকে কাজটি করে যাচ্ছি এবং করব। গতকাল সোমবার তিনি দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নগরীর আন্দরকিল্লায় নজির আহমদ চৌধুরী সড়কে চিটাগাং সায়েন্টিফিক স্টোরে বেশি দামে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের কাঁচামালের মজুতদারি চলছে। একুশে টিভির একটি টিম যাওয়ার পর ৩৬ হাজার টাকার পণ্যের ওপর ৯ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে তারা এবং অতিরিক্ত দাম নেয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।

চট্টগ্রামে সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সংগঠক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, বড় রাজনৈতিক দল বা এসব দলের নেতারা সত্যিকার অর্থে কতটুকু নীতি-নৈতিকতা-আদর্শ ও জনকল্যাণে রাজনীতি করে থাকেন সে ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। দু’একটি ব্যতিক্রম যে নেই তা কিন্তু নয়, অথচ তারা কোণঠাসা।

অন্যদিকে নগর পরিকল্পনাবিদ ও সুচিন্তা চট্টগ্রামের উপদেষ্টা স্থপতি আশিক ইমরানও প্রায় একই ভাষায় তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কই কোনো নেতা বা এমপিকেতো এই দুর্যোগকালে সাধারণ নাগরিকদের পাশে এসে দাঁড়াতে দেখলাম না।

চট্টগ্রামের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, আমরা সবসময় সাধারণ জনগণের পাশে ছিলাম। তবে এতদিন আমরা সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ইত্যাদি পাইনি। চিকিৎসকদের জন্য পিপিই (পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) সংগ্রহেরও চেষ্টা করছি। আশা করি ২৭ অথবা ২৮ মার্চের মধ্যে পাব। তখন বিতরণ করব।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj