কি হবে কাতার বিশ্বকাপের?

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের ২২তম আসর বসবে। মধ্যপ্রাচ্যে এর আগে কখনো হয়নি পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটির বিশ্বকাপ। আর তাই তো এই বিশ্বকাপকে ঘিরে ছোট ধনী দেশটির আয়োজনও বেশ বড়সড়। বিশ্বকাপকে ঘিরে নান্দনিক সব স্টেডিয়াম নির্মাণসহ বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে দেশটিতে। শুধু এই বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নতুন ৮টি স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে তারা। এর মধ্যে ২টি স্টেডিয়াম তৈরি হয়ে গেছে। আর বাকি ৬টি স্টেডিয়ামের কাজ এখনো চলছে । এতদিন প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই আগাচ্ছিল। পুরোদমে চলছিল সবকিছু। কিন্তু এর মাঝেই অন্য দেশগুলোর মতো করোনা ভাইরাস আঘাত হেনেছে আয়োজক দেশ কাতারে। ফলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। যদিও কাজ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। কিন্তু ৩ মাস আগে যেভাবে কাজ আগাচ্ছিল ঠিক সেভাবে আগাচ্ছে না।

৭ দিন আগে স্প্যানিশ ইংরেজি সংবাদ মাধ্যম ডাইয়ারিও এএস কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে তারা সরেজমিন রিপোর্ট করে। তারা কথা বলে বিশ্বকাপ প্রজেক্টের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মোল্লার সঙ্গে। সেসময় তিনি জানিয়েছিলেন করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়লেও বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম ও অবকাঠামোগত নির্মাণ থেমে নেই। সবকিছু আগের মতোই চলছে। তবে তিনি জানিয়েছিলেন কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছিল। এর কারণ হলো করোনা ভাইরাসের কারণে চায়না থেকে নির্মাণসামগ্রী সংক্রান্ত কন্টেইনার আসতে দেরি হয়েছিল। কিন্তু যখন আবার কন্টেইনার চলে আসে তখন কাজ আগের মতোই গতি ফিরে পায়। তিনি আরো জানিয়েছিলেন নির্মাণকাজ চালিয়ে নেয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই এখন তাদের হাতের কাছে আছে এবং যেগুলো বাকি আছে সেগুলোও আসছে। তবে ওই সময় বিক্ষিপ্তভাবে কাতারে কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যায়। কিন্তু ১ সপ্তাহের মধ্যে পাল্টে যায় পরিস্থিতি। মাত্র ৫ দিনের ব্যবধানে কাতারে নতুন ১১৩ জনের মধ্যে করোনা ভাইররতে আসা শ্রমিক। আর এই শ্রমিকারা বেশিরভাগই এসেছেন দক্ষিণ এশিয়া থেকে। তাই যতই নির্মাণসামগ্রী মজুত থাকুক না কেন যারা নির্মাণ করবেন সেই শ্রমিকরাই আক্রান্ত হন করোনা ভাইরাসে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দি গার্ডিয়ান জানায়, এর ফলে শ্রমিকরা যে ক্যাম্পগুলোতে থাকেন তাদের সবাইকে ওই ক্যাম্পের ভেতর অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। ক্যাম্পের ভেতর ঢোকা ও বের হওয়া দুটোই নিষিদ্ধ করা হয়। ওই ক্যাম্পে অন্য শ্রমিকদের পাশাপাশি ছিল বিশ্বকাপের প্রজেক্টে কাজ করা শ্রমিকরাও। ফলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কাজ পুরোদমে চালিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে আরো জানিয়েছে, যেই শ্রমিকরা ক্যাম্পের ভেতর আটকা পড়ে আছেন তাদের কোনো নগদ টাকা দেয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র খাবার আর থাকার জায়গাটাই পাচ্ছেন তারা। করোনা ছড়িয়ে পড়ায় তারা বেশ আতঙ্কিতও। ফলে তারা নিজ দেশে ফিরে যেতেও ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদকের সঙ্গে দুজন নেপালি ও একজন বাংলাদেশি কথা বলেন। তারা দুজনই তাদের আতঙ্কের কথা জানান। কারণ তারা যে ক্যাম্পে থাকেন তা অত্যন্ত জনবহুল। তাই করোনা ছড়িয়ে পড়ার বিশাল ঝুঁকি রয়েছে এখানে।

বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো আড়াই বছরের বেশি সময় বাকি রয়েছে। কিন্তু প্রস্তুতি সারতে হবে আগেভাগেই। আর এখন করোনা ভাইরাস দিনকে দিন আরো বেশি ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর এমনভাবে চলতে থাকলে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতেও এর প্রভাব পড়বে তা বলা যায়। এই প্রজেক্টের সঙ্গে যারা জড়িত তারা জানিয়েছে ঠিক সময়ের মধ্যেই প্রস্তুতি শেষ করবে। প্রস্তুতি ঠিক সময়ে শেষ হবে না কি হবে না তা সময়ই বলে দেবে।

:: মোহাম্মদ তানভীরুল ইসলাম

গ্যালারি'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj