ঝুঁকি নিয়ে ৩৫ বস্তিতে বসবাস : করোনা সম্পর্কে কিছু জানেন না বরিশালের বস্তিবাসী

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক, বরিশাল : করোনা ভাইরাস কী? মাস্ক কেন ব্যবহার করতে হয়? সঙ্গরোধ (হোম কোয়ারেন্টাইন) কী? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর জানেন না বরিশাল নগরীর ৩৫টি বস্তিতে বসবাসকারী নি¤œ আয়ের মানুষ। যে কারণে করোনা নিয়ে এসব বস্তিবাসীর মধ্যেও নেই তেমন কোনো আলোচনা। সরকারি বা কোনো স্বেচ্ছাসেবী এনজিও থেকেও সচেতনতার জন্য অদ্যাবধি কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে অসচেতনতার কারণে নি¤œ আয়ের মানুষ করোনা ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছেন।

সূত্রমতে, বরিশাল নগরীর ৫নং ওয়ার্ডে ১৩টি, ১০নং ওয়ার্ডে আটটি, ৬নং ওয়ার্ডে পাঁচটি, ৩নং ওয়ার্ডে পাঁচটি এবং ২নং ওয়ার্ডে চারটিসহ মোট ৩৫টি বস্তি রয়েছে। এসব বস্তিতে কয়েক লাখ হতদরিদ্র মানুষ বসবাস করছেন। এর মধ্যে পলাশপুর, রসুলপুর, কেডিসি, ভাটারখাল, বঙ্গবন্ধু কলোনি, স্টেডিয়াম ও কলাপট্টি বস্তিতে সবচেয়ে বেশি গাদাগাদি করে বসবাস করছেন নি¤œ আয়ের মানুষ।

বঙ্গবন্ধু কলোনির বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘খালি শুনি করোনা করোনা। কিন্তু করোনা কী বা এর ক্ষতি কী কিছুই জানি না। কিসের কারণে মুখোশ (মাস্ক) ব্যবহার করতে হয় তাও জানি না। আর এ সম্পর্কে জানাতে বস্তিতে সরকারি বা কোনো সংস্থার লোক আসেননি।’ তিনি আরো বলেন, ‘মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানসহ নয়জনকে নিয়ে একটি ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। আমাদের জন্য আল্লাহ ছাড়া কেউ নাই। তাই যত বিপদই আসুক না কেন, তিনিই আমাদের রক্ষা করবেন।’

রসুলপুর বস্তির বাসিন্দা আলেয়া বেগম জানান, ‘করোনা সম্পর্কে পাশের ঘরের টিভিতে দেখছি। খালি মানুষ মরছে। আর আলাদা আলাদা জায়গায় থাকছে। একজনের অইলে আরেক জনেরও অয়। এ বস্তিতে সবার পাশাপাশি ঘর। প্রায় ঘরেই সাত-আটজন করে মিলেমিশে থাকছেন। এখন বস্তির মধ্যে একজনের অইলেই মোগো আল্লাহ ছাড়া কেউ বাঁচাইতে পারবে না। টাহা পয়সাও নাই যে ডাক্তার দেহামু।’

স্বেচ্ছাসেবী এনজিও আভাসের নির্বাহী পরিচালক রাহিমা সুলতানা কাজল বলেন, রসুলপুরসহ বেশ কয়েকটি বস্তিতে করোনা সম্পর্কে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বস্তি এলাকার স্কুলগুলো বন্ধের আগে শিক্ষার্থীদের মাঝে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে। তিনি আরো বলেন, আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে বস্তিতে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পণ্য বিতরণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, করোনা প্রতিরোধে বস্তিবাসীসহ সবার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে জেলা প্রশাসন। লিফলেট বিতরণ, সঙ্গরোধে (হোম কোয়ারেন্টাইন) না থাকলে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট অভিযানসহ বেশি দামে মাস্ক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj