যমুনেশ্বরীর বুকে বোরো চাষ

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

সিরাজুল ইসলাম বিজয়, তারাগঞ্জ (রংপুর) থেকে : জলবায়ুর পরিবর্তন আর প্রাকৃতিক বিরূপ প্রভাবের কারণে যমুনেশ্বরী নদীটি সবুজে ঘেরা ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। আর সেই চরে কিষান-কিষানিরা দিনভর কাজ করে সোনার ফসল ঘরে তুলছেন।

জানা যায়, বর্ষাকালে পানি ও ফসলি জমির আদ্রতা ধরে রাখে একমাত্র খাঁরুভাজ চিকলী ও যমুনেশ্বরী ছোট বড় প্রায় তিনটি নদী। প্রায় ৩৭ কিলোমিটার এই উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে নদী। বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন হয়ে থাকে এই নদীগুলো দিয়ে। তার কাল থাকে মাত্র ১-২ মাস। বিগত কয়েক বছর ধরে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় নদীর বুকে সফলভাবে বোরো ধান, বাদাম, সরিষা, আলু, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। অথচ এই নদী ছিল এক সময় তারাগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে নৌপথে বিভিন্ন জেলার একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেই খরস্রোতা নদী এখন শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে।

ঘনিরামপুর গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম বলেন, ‘নদীর পাশে জমি আছিল। হামার জমি নদীত ভাঙি গেইছে। এখন চর হইছে। সেই চরত মিষ্টি কুমড়া আবাদ করছি। উন্নত জাতের কুমড়ার খুব ভালো ফলন হইছে।’ হাজিপুর গ্রামের মোকলেছার রহমান বলেন, ‘নদী হামার এখন আবাদের মূল হয়া গেইছে। গম ভুট্টাসহ সবজিরও বাম্পার ফলন হয়ছে।’

রহিমাপুর চাকলা খেয়াঘাটের প্রবীণ মাঝি আবজারুল ইসলাম বলেন, এই নদীতে একসময় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নৌকায় করে মালামাল নিয়ে এসে ব্যবসা-বাণিজ্য হতো। আজ সেই নদী এখন মরা খাল। নদীর পানি দিয়ে একসময় বোরো চাষাবাদ হতো। এখন সেসব শুধুই স্মৃতি। নদীকে বাঁচাতে হলে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারিভাবে নদী খননের মধ্য দিয়ে আবারো ফিরিয়ে আনতে হবে নদীর নাব্য। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, নদীর বুকজুড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হেক্টর বোরো ধান, সরিষা, আলু, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলুসহ নানা ফসল চাষাবাদ হয়েছে।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj