লালমনিরহাট সীমান্তের মানুষ করোনা বোঝে না

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক, লালমনিরহাট থেকে : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সচেতনতাই মুক্তির পথ হলেও সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের অধিকাংশ মানুষ এখনো অসচেতনভাবে চলাফেরা করছে। এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তিস্তা ও ধরলা নদীর বুকে জেগে ওঠা প্রায় অর্ধশত চরাঞ্চলে বাস করে কয়েক হাজার পরিবার। কিন্তু এদের সচেতন তো দূরের কথা, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে কোনো ধারণাই তাদের নেই। তাদের সচেতনতায় স্বাস্থ্য বিভাগেরও তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। অজ্ঞ-অশিক্ষিত মানুষগুলো এখনো জানে না করোনা মোকাবিলায় কী করা উচিত।

সীমান্তবর্তী এ জেলার প্রায় ২২ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়াহীন ভারত সীমান্ত। লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর অধিকাংশ মানুষ অবৈধ পথে চোরাচালান বা শ্রমিকের কাজে ভারতে যাতায়াত করে। এদের মধ্যে অনেকে ভারত বাংলাদেশ দুই দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান। করোনা পরিস্থিতিতেও অনেকে ভারতে যাতায়াত আগের মতোই স্বাভাবিক রেখেছেন। যার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে করোনা ঝুঁকিতে আতঙ্কিত স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, শহরের বাসিন্দাদের মতো দ্রুত চরাঞ্চলের মানুষকে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার আগেই তাদের খাদ্য নিশ্চিত করে চলাফেরা বন্ধ করে দিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বিদেশ ফেরতরা হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে অবাধে ঘুরে বেরিয়েছে বিভিন্ন গ্রামে। সীমান্তে কঠোর নজরদারি এবং গ্রামীণ ও চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া অজ্ঞ অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে মাইকিং করে দ্রুত সচেতন করে স্বাস্থ্য বার্তা মেনে চলতে বাধ্য করার পাশাপাশি গ্রামীণ হাটবাজারে গণজমায়েত বন্ধ করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জেলার সচেতন মহল।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, জনসচেতনতার জন্য মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য বার্তার লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। মাইকিং করলে আতঙ্কিত হতে পারে তাই করা হচ্ছে না। ৫৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে ও ভারত ফেরত একজনকে পাটগ্রাম হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। করোনার আইসোলোশন বাড়াতে লালমনিরহাট রেলওয়ে হাসপাতাল ও লালমনিরহাট সরকারি কলেজের নবনির্মিত মহিলা হোস্টেল চাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকট রয়েছে। যা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকের দেয়া পরামর্শে সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে ক্যাম্পগুলোতে জরুরি নির্দেশনা দেয়া হবে। সেই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সীমান্তবাসীকে সীমান্ত অতিক্রম না করতে নির্দেশনা দেয়া হবে। জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) কেন্দ্রীয় নির্দেশনার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সভায়ও বলা হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় জেলাবাসীর সচেতনতা বাড়াতে লিফলেটের পাশাপাশি মাইকিং করা হবে। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে স্বাস্থ্য বার্তা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj