ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০


এই মুহূর্তে বিশ্বের সঙ্গে আমরাও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও আক্রমণকে প্রতিহত করার বহুমাত্রিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছি। বাংলাদেশ এই ব্যবস্থাপনায় দ্রুত করোনা সংকট থেকে মুক্ত হয়ে আসবে সেটি আমাদের একান্ত কামনা। এ বছর মুজিব জন্মশতবর্ষ পালনের কর্মসূচি করোনা ভাইরাসের কারণে কাটছাঁট হয়ে গেছে, আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সামনের পরিস্থিতি দেখে সরকার কি কি উদ্যোগ নেবে, প্রধানমন্ত্রী জাতির জন্য এই দুর্যোগ মোকাবিলায় কোনো স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপত্র ঘোষণা করবেন কিনা সেটি অচিরেই হয়তো দেখা যেতে পারে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটলে আমাদের হয়তো বর্তমান দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ ঘটবে। সেই প্রত্যাশাই আমরা করছি। এই মুহূর্তে প্রয়োজন আমাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের আক্রমণকে কেন্দ্র করে আগামী দিনের অর্থনৈতিকসহ সামগ্রিক সম্ভাব্য সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্য, সংঘাত ও বিভেদমুক্ত রাজনীতি, শ্রদ্ধা ও আস্থাশীল পরিবেশ।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাংলাদেশে শুরু হওয়ার খবরেই আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। আমরা জানি না কবে করোনামুক্ত হয়ে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীতে প্রাণ ফিরে পাবে। যদি দীর্ঘদিন এই ছুটি চলতে থাকে, যদি করোনার আক্রমণে আমাদেরও প্রাণহানির ক্ষতি বেড়ে যায় তাহলে সেটি হবে আমাদের জাতীয় জীবনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের অন্যতম একটি। আমরা আমাদের সচেতনতা দিয়ে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করব। যদি সত্যি সত্যিই আমরা করোনার এই গ্রাস থেকে কম ক্ষতিতে মুক্ত হয়ে আসতে পারি তাহলেও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া বা কাটিয়ে ওঠা খুব সহজ হবে না। আমরা আশা করব, বর্তমান অবস্থাতে থেকেও সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিকট-ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনাগুলো নির্ধারণ করার উদ্যোগ যথাযথভাবে গ্রহণ করবে।

মুজিব শতবর্ষ পালনের নানামাত্রিক উদ্যোগ গত এক-দেড় মাস থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে। সব প্রতিষ্ঠানই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে সব আয়োজন করছিল- তা বলতে পারব না। তবে দীর্ঘদিন থেকে আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়গুলো খুব একটা আলোচিত হয়নি, অনুষ্ঠানও হতো না। দীর্ঘদিন বিকৃত ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে যেমন ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে প্রচারিত ছিল। এই শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা আজীবন। শিক্ষকতার পেশায় থাকার সময়ে আমি দেশের প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা, আন্দোলন, গবেষণা, লেখালিখি ইত্যাদি নিয়ে অল্প বিস্তর সময় দিয়েছি, জানা ও বোঝার চেষ্টা করেছি। পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস সংশোধন ও সঠিক ইতিহাস সংযোজন করার দায়িত্ব পালন করেছি কয়েকবার। এ সংক্রান্ত পাঠ্যবইও লেখার দায়িত্ব পালন করেছি। ‘পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি’ শিরোনামে আমার একটি বই ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়েছে, ২০১৭ সালে এর সংযোজিত সংস্করণও বের হয়েছে। সুতরাং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে প্রকৃত ইতিহাস জানা, বোঝা ও ধারণ করার সংকট কতটা গভীরে রাজনৈতিক মতাদর্শগতভাবে বিরাজ করছে তা বোধহয় আমি কিছুটা জানি বললে একেবারে বাড়িয়ে বলা হবে না। তেমন অবস্থায় এ বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে যেসব অনুষ্ঠান ও আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া শুরু হয়েছিল সেটি আন্তরিকতার সঙ্গে অব্যাহত রাখা গেলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা অন্তত চিন্তাচেতনায় বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেত। জানি, এই কাজটি খুবই কঠিন, জটিল এবং গভীর তাৎপর্যের দৃষ্টিতে দেখার বিষয়। ১৯৯৬-২০০১ সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হলেও ২০০২-২০০৮ পর্যন্ত তা ব্যাহত হয়। ২০০৯ থেকে শিক্ষাব্যবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস সংশোধন করে আবার ঘুরে দাঁড়ানো শুরু হয়। আমি জানি এর মধ্যেও বিভিন্ন সংকীর্ণ গোষ্ঠীর নানা ধরনের স্বার্থবাদিতা, হঠকারিতা, শঠতা, অবিমৃশ্যকারিতা ইত্যাদি কারণে শিক্ষাব্যবস্থায় কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এখনো আসতে পারেনি। তারপরও সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ অব্যাহত আছে- এটিকে ভুলে গেলে চলবে না। এ বছর মুজিব শতবর্ষকে উপলক্ষ করে উভয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেসব উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলো আপাতত স্থগিত হয়ে আছে। জানি না করোনা-উত্তর পরিবেশে সেই সব উদ্যোগ কখন কতটা শুরু করা যাবে সেটি অপেক্ষার বিষয়। আপাতত আমাকে একটি বিষয় বেশ ভাবিত করে তুলেছে সে সম্পর্কে কিছু লেখা প্রয়োজন মনে করছি। গত ১ মার্চ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ছাপানো একটি ছবি এবং সেটিকে কেন্দ্র করে একজন সাংবাদিকের একটি লেখা পড়ে আমার মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন জাগায়, আমি নিজে থেকেই ঘটনাটি জানার চেষ্টা শুরু করি। দুঃখজনক অভিজ্ঞতা হলো জানার পর আমি খুবই হতবাক হয়ে পড়ি। সেই অভিজ্ঞতাটি আমার মনে হয়েছে আগ্রহী পাঠকদের জানানো উচিত। প্রথম আলোয় প্রকাশিত ছবিটিতে কিছু শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধুর মুখোশ হাতে ও মুখে পরা অবস্থায় প্যান্ডেলে দাঁড়িয়ে আছে। নিচে লেখা আছে- ‘বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মুখোশ পরে শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীকে স্বাগত জানায়। গতকাল বিদ্যালয়ের মাঠে।’ কিন্তু ছবির কোথাও শিক্ষামন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর দৃশ্য নেই, মন্ত্রীও এই ছবিতে নেই। বাসায় আমার আরো বেশ কিছু পত্রিকা থাকে। আমি প্রথম আলোর মতো প্রথম শ্রেণির জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত এমন বৈসাদৃশ্য ছবি ও ক্যাপশনে বেশ বিভ্রান্তিতে পড়ি। ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে অনলাইনে বাংলাদেশ প্রতিদিনে খবরটি খোঁজার চেষ্টা করি। এতে ছাপা হয়েছে, ‘কথায় কাজে আচরণে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে হবে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন। এতে লেখা হয়েছে, ‘বগুড়ায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, দেশের সব শিক্ষার্থীকে মুজিব আদর্শে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষার্থীদের মুজিব আদর্শ ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের জীবন ও দেশকে সুন্দর করতে আমরা কথায়, কাজে ও আচরণে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করতে অগ্রসর হব। আমরা চাই আমাদের সন্তানেরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে নিজেকে গড়ে তুলুক। শনিবার সকাল ১১টায় বগুড়া পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজে বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।’ বাসায় থাকা ‘খোলা কাগজ’সহ আরো দুয়েকটি পত্রিকায় প্রায় একই সংবাদ পরিবেশিত হতে দেখেছি। কোথাও মুখোশের খবরটি চোখে পড়েনি। প্রথম আলোর ছবির ক্যাপশনের প্রতিক্রিয়াটি আমি ধীরে ধীরে ভুলে যেতে থাকি। তবে ৪ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিনেই পীর হাবিবুর রহমানের লেখা, ‘বঙ্গবন্ধু নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ঔদ্ধত্য মেনে নেওয়ার নয়’ শিরোনামের নিবন্ধটি পড়ে আমি অনেকের মতোই বেশ দ্বিধান্বিত এবং শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি মনে মনে ক্ষুব্ধ হই। তবে বগুড়ার সঙ্গে আমার যোগাযোগ ও সেখানকার নানাজনের সঙ্গে পরিচয় দীর্ঘদিনের। বগুড়া থেকে দুর্গা দাশ মুখার্জীর মালিকানায় ও সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক উত্তরাঞ্চল পত্রিকায় সম্ভবত ২০০১ অথবা ২০০২ সালে আমার একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। মুখার্জী বাবুর অনুরোধে একটি লেখা দিতে গিয়ে আমি বগুড়ায় ১৯৫৪ সালে বঙ্গবন্ধুর জনসভার একটি ভাষণের ওপর আমার ওই লেখাটি ছিল। দুর্গাবাবু ২৮ আগস্ট ২০০৩ সালে মারা যান। বগুড়ার আরো কয়েকজনের সঙ্গে আমার জানা পরিচয় আছে। তাদের ফোন করে ঘটনাটি জানার চেষ্টা করলাম। এরপর কলেজটির অধ্যক্ষ শাহাদৎ আলম ঝুনুর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করলাম। আমি অবাক হলাম পীর হাবিবুর রহমানের মতো একজন জনপ্রিয় সাংবাদিক ও কলাম লেখক এমন একটি কলাম লেখার আগে কলেজটির অধ্যক্ষ কিংবা বগুড়ার সাংবাদিক সমিতির গুরুত্বপূর্ণ কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে কেন কথা বললেন না- সেটি জানতে পেরে। পীর হাবিবুর রহমান যে ছবিটির ওপর ভিত্তি করে এমন একটি শিরোনামে লেখা লিখলেন সেটি হয়তো তিনি একশবার না লেখার কথাই ভাবতেন যদি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতেন। সেটি আমার অনুমান তবে তার এই লেখাটি যে মোটেও সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়, সেটি আমি নিশ্চিত হতে পেরেছি। কিন্তু পীর হাবিবের লেখাটির শিরোনামে যা রয়েছে তার চাইতেও অন্যান্য বিষয় লেখাটিতে বেশি স্থান পেয়েছে। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক উত্থানকে যেভাবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করেছেন সেটি তার রাজনৈতিক আদর্শের ঘরানার শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি কতটা সুবিচার করা হয়েছে সেটি তার কাছেই প্রশ্ন করা যেতে পারে। পীর হাবিব তার লেখায় একদিকে ডা. দীপু মনির পিতা জনাব এম এ ওয়াদুদের সংগ্রামী জীবনের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ডা. দীপু মনির রাজনীতিতে স্থান করে নেয়া প্রসঙ্গে লিখলেন, ‘বিএনপি-জামায়ত শাসনামলে আইভি রহমান যিনি একুশের গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন, তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হওয়ায় আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তখন আচমকা এই শূন্যপদে ডা. দীপু মনি উঠে আসেন। হঠাৎ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া সৌভাগ্যবতী ডা. দীপু মনিকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।’ দীপু মনির এই উত্থানটি পীর হাবিব যেভাবে তুলে ধরেছেন তা কতটা যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে সেটি পীর হাবিবই বলতে পারবেন। তবে ডা. দীপু মনি এই সময় থেকে ১-১১ এর সরকারের সময় যেভাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পাশে থেকে কাজ করেছিলেন সেটি রাজনীতি সচেতন মহল তখন দেখেছেন। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর দলের কাকে কোথায় স্থান দেবেন সেটি তার বিবেচনার বিষয়। তিনি সেভাবেই প্রয়াত জিল্লুর রহমান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ডা. দীপু মনিসহ অনেককেই দলে এবং মন্ত্রিত্ব প্রদানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করেছেন। শেখ হাসিনার প্রতি যাদের আস্থা ও শ্রদ্ধা রয়েছে তাদের বোধহয় আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিত্বের বিষয়ে এমন কিছু বলা ঠিক নয় যা শেখ হাসিনার অবস্থানকে গৌণ করে ফেলে।

লেখায় পীর হাবিব অবশ্য লিখেছেন, ‘ডা. দীপু মনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে মেধাবী ছাত্রী হিসেবে এমবিবিএস পাস করে পশ্চিমা শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। ঢাকা মেডিকেলে পড়াশোনাকালে তিনি সন্ধানীর সভাপতি ছিলেন। কিন্তু ছাত্রলীগের রাজনীতিতে কোনো পর্যায়ে নেতৃত্বের সঙ্গে ছিলেন না।’ পীর হাবিব নিজেই ডা. দীপু মনির পিতার রাজনৈতিক পরিচয় দিয়েছেন। ওয়াদুদ সাহেব পঞ্চাশের দশক থেকে আশির দশকের শুরুতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। আমরাও তাকে একজন ত্যাগী ও আদর্শবান নেতা হিসেবে দেখেছি। দীপু মনি এবং তার বড় ভাই লেখাপড়ায় ভালো ছিলেন, দুজনেই ডাক্তার হলেন, ওয়াদুদ সাহেবের সন্তান হিসেবে তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারে কোনো কমতি দেখা যায়নি। দীপু মনি সরাসরি রাজনীতিতে এসেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেধা, সততা, আদর্শবান ও ত্যাগের সমন্বয়ে বেড়ে ওঠা রাজনীতিবিদের প্রয়োজন কতটা রয়েছে সেটা পীর হাবিবও বোঝেন, আমরাও বুঝি, আমার মনে হয় দল ও সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা কতটা উপলব্ধি করেন সেটি তিনি আমাদের চাইতেও ভালো জানেন। পীর হাবিব তার লেখায় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিষয়টিকে যেভাবে এই লেখায় তুলে এনে তার পদত্যাগসহ অন্যান্য বিষয় টেনে এনেছেন তা একজন শিক্ষামন্ত্রীর কাজকে যৌক্তিক ও তথ্যভিত্তিক সমালোচনায় না দেখে ব্যক্তিগত অপছন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। যে অভিযোগটি তার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছেন সেটি আদৌ সত্য নয়। তবে ঐ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা থিম সংয়ের কোরিওগ্রাফিতে যে মুখোশটি ব্যবহার করেছিলেন সেটি দেখা ও বোঝার ভিন্নতা ভিন্ন ভিন্ন থাকতে পারে। তবে সেই অনুষ্ঠানটির আয়োজক এবং শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুকে অমর্যাদার চোখে দেখছেন এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অধ্যক্ষ ২০০১ সালের পর জোট সরকারে শাসনামলে চাকরি হারিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে তখন অভিযোগ ছিল তিনি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ ঘরানার। ২০০৪ সালে আদালতের রায় নিয়ে তিনি তার পদে ফিরে আসেন। তখন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি বিষয় উচ্চারিত হতো না, ধারক-বাহকের সংখ্যাও তেমন ছিল না। এখন অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি এবং অন্যান্য শিক্ষক প্রতিষ্ঠানটিতে যেসব পরিবর্তন এনেছেন তার একটি হলো বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন। লেখাটি আর দীর্ঘ করতে চাই না। আমাদের এই শিক্ষাব্যবস্থায় কত ধরনের সমস্যা ভেতরে জমা হয়ে আছে তা বাইরে থেকে খুব বেশি বোঝা যায় না। শিক্ষাব্যবস্থার অভ্যন্তরে বিরাজমান সমস্যাকে অতিক্রম করে একুশ শতকের উপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা খুবই কঠিন কাজ। পূর্ববর্তী শিক্ষামন্ত্রী বেশ কিছুটা এগিয়ে নিলেও অনেক কিছুই তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী সবটা পারবেন এমন দিবাস্বপ্ন আমার নেই তবে তিনি যেহেতু চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষাসহ অন্যান্য শিক্ষায় শিক্ষিত, মেধা এবং যোগ্যতার দিক থেকেও তার মধ্যে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যা দেশে মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পরিবর্তন ও মানোন্নয়নে আমরা অনেক কিছুই আশা করতে পারি। সেক্ষেত্রে তার কথা ও কাজে অসঙ্গতি কখনো দেখা গেলে অবশ্যই সেই অসঙ্গতির সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই এমন কিছু করা বা লেখা আমাদের ঠিক হবে না যা ব্যক্তিচরিত্র হননের দিকে নিয়ে যাবে। মনে রাখতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ এবং বিপক্ষের অবস্থান দেশে প্রকট। এমন সমালোচনা প্রতিপক্ষের হাতে অপপ্রচারে রসদ তুলে দেবে।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj