বিদেশফেরতদের বাড়ি চিহ্নিত করছে পুলিশ

সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০

কাগজ ডেস্ক : হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশফেরতদের বাড়ি চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্টিকার ও লাল রং লাগিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের কোয়ারেন্টাইন কবে শেষ হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ফরিদপুর : জেলায় বিদেশফেরতদের বাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। গত ৬ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত ৪৪টি দেশ থেকে ফরিদপুরের অনেক মানুষ দেশে ফিরেছেন। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ৬ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এ জেলার চার হাজার ২৫৬ জন বিদেশ থেকে এসেছেন। প্রশাসন তাদের সবার হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে পারেনি।

জেলার পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান বলেন, শনিবার পর্যন্ত ৬৮২ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইন লেখা স্টিকার লাগিয়ে দিচ্ছি। কবে তারা দেশে ফিরেছেন এবং কবে কোয়ারেন্টাইন শেষ হবে তাও লিখে দেয়া হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জেলার সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের বাড়ি চিহ্নিত করা শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। শনিবার রাতে জেলা পুলিশের ওয়েবসাইটে এ তথ্য দেয়া হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের বাড়ির বাইরে লাল রং দিয়ে লিখে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারে এবং ওই ব্যক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। তাছাড়া বিদেশফেরত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনের সব নিয়ম মেনে পরিবারের সদস্যদের থেকেও আলাদা থাকতে বলা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ : জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৬৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলায় ৩০৪ জন আছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২৯ জন। এদিকে বিদেশফেরতদের বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনের স্টিকার লাগিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। যেখানে সংশ্লিষ্টদের কোয়ারেন্টাইন কবে শেষ হবে উল্লেখ রয়েছে।

করিমগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, বিদেশ থেকে করিমগঞ্জে গিয়েছেন এমন ২১ জনের বাড়িতে শনিবার রাতে হোম কোয়ারেন্টাইন স্টিকার লাগিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই সব বাড়িতে নজরদারির ব্যবস্থা করেছেন। তিনি জানান, কারো বিরুদ্ধে যদি কোয়ারেন্টাইনে না থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, সারা জেলায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেয়া তালিকা ধরে এ কার্যক্রম চলছে। কার কোয়ারেন্টাইন কবে শেষ হবে তাও বলে দেয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

শরীয়তপুর : জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের বাড়ি চিহ্নিত করছে জেলা পুলিশ। জেলা সদরসহ সাতটি থানার ওসির নেতৃত্বে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের বাড়ি চিহ্নিত করা হচ্ছে।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে গত শনিবার রাত থেকে এ কার্যক্রম শুরু করেছেন।

পালং ম?ডেল থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান জানান, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের বাড়ি নির্দিষ্ট করতে বাইরে সাদা কাগ?জে কা?লো অক্ষ?রে লেখা লিফ?লেট লাগা?নো হ?চ্ছে। লিখা হ?য়ে?ছে- ‘এই বাড়িতে হোম কোয়?ারেন্টাই?নে বিদেশফেরত ব্যক্তি আছেন’। যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিকে চিনে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। এছাড়াও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকে করোনা সংক্রমণ রোধে পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব পালনের জন্য সচেতনও করা হচ্ছে।

শরীয়তপুর সি?ভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, ক?রোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত উপকরণ ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হ?চ্ছে নিবিড় গ্রাম পর্যন্ত। এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তি?তে আসা ২০০টি পিপিই, ১০০ জীবাণুু মুক্তকরণ হেক্সাসল, ৩০০ গøাবস ও ৩০০ মাস্ক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। তি?নি আরো জানান, জেলায় বিদেশ থেকে আসা ৩৩৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। র?বিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সদর উপজেলায় ৭১, নড়িয়ায় ১২৬, জাজিরায় ৩২, ভেদরগঞ্জে ৪৫, ডামুড্যায় ৪০ এবং গোসাইরহাটে ২১ জনসহ মোট ৩৩৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তাদের প্রত্যেককেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২৩ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এসেছেন ৬১ জন। জেলায় ৩০টি আইসোলেশন শয্যা ও ১০০টি কোয়ারেন্টাইন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলায় এখনো পর্যন্ত কোনো করোনা ভাইরাস আক্রান্ত বা কেউ শনাক্ত হয়নি।

তি?নি জানান, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন প্রবাসীদের পর্যবেক্ষণে রেখে সচেতনতামূলক পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব স্বাস্থ্যকর্মী মুখোমুখি হচ্ছেন নানা বিড়ম্বনার। তবে সব ধরনের বাধা অতিক্রম করে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা শেষ পর্যন্তও মাঠে থাকবেন। যারা বিদেশ থেকে ফিরেছেন তাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য প্রশাসনের সহায়তায় বাধ্য করা হচ্ছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj