বাঘায় চোর সন্দেহে যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারপিট!

সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাঘায় চোর সন্দেহে সেলিম নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে এনে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করা হয়েছে। গতকাল ররিবার সকালে উপজেলার আটঘরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে একজন গ্রাম পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন সেলিমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। পরে দুপুরে সেলিমের মা বাদী হয়ে বাঘা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ এ মামলার প্রধান আসামি খোকন উদ্দিন ওরফে বশিরকে আটক করে। অভিযোগে জানা গেছে, শনিবার রাতে উপজেলার আটঘরি চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে খোকন উদ্দিন ওরফে বশিরের (৪৫) বাড়ির রান্নাঘরের জানালা ভেঙে একটি গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার চুরি হয়। এই চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সকাল ৬টার দিকে প্রতিবেশী ইমদাদুল হকের ছেলে সেলিম হোসেনকে (২৮) তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে চেয়ারম্যানপাড়া মোড়ে নিয়ে আসে বশির, তার ভাই রাঙ্গা মাস্টার, তৌহিদুল, প্রতিবেশী ইয়াজুল ও টুনা। এরপর বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে চুরির দায় স্বীকার করতে বলা হয়।

এদিকে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান সেলিমের আত্মীয়-স্বজনসহ সংশ্লিষ্ট মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ আবুবক্কর সিদ্দিক। তিনি এ ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে রশি খুলে দেন। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন ওই পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। তারা সেলিমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। পরে দুপুরে সেলিমের মা হাফিজা বাদী হয়ে বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ এ মামলার প্রধান আসামি খোকন উদ্দিন ওরফে বশিরকে বাঘা-আড়ানী মোড় থেকে গ্রেপ্তার করে।

মনিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি সেলিমকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাইনি। তবে তাকে মারপিট করার ঘটনা সঠিক। সে একজন মাদকসেবী। এ কারণে চোর সন্দেহে তাকে মারপিট করা হয়েছে বলে লোকমুখে শুনতে পাচ্ছি।

বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়ে এ মামলার প্রধান আসামি খোকন উদ্দিন ওরফে বশিরকে আটক করা হয়েছে। অন্যরা পলাতক রয়েছে। আজ সোমবার সকালে বশিরকে আদালতে পাঠানো হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj