করোনা মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের ভূমিকা

সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০

চীন-ইতালি-যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশ যখন করোনা প্রতিরোধে নাজেহাল, সেখানে ছুটি পেয়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমানোর মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে আমরা ব্যস্ত। যেন মনে হচ্ছে করোনা ভাইরাস বাঙালিদের স্পর্শ করতেই পারবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এই যে, আমাদের ঝুলিতে ইতোমধ্যেই রয়েছে ৩ জন নিহতসহ ২৭ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি। হয়তো রয়েছে হিসাবের অন্তরালে আরো অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি। স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেখানে তথ্য দিচ্ছেন গত কয়েক দিনে লক্ষাধিক প্রবাসী দেশে ফিরেছেন সেখানে কোয়ারেন্টিনে মাত্র ১৪ হাজার। আর কত হাজার আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিললে আমাদের টনক নড়বে? ভাবনা-চিন্তার সময় ফুরিয়েছে। জাতির অস্তিত্ব বিলীন হওয়া ঠেকাতে প্রয়োজন পুরো বাংলাদেশ লকডাউন করা। ব্যবস্থা করা ঘরে ঘরে খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছাবার। যেখানে নিউইয়র্ক শহর লকডাউন করা হয়েছে, পাশের দেশ ভারতেও লকডাউনের খবর আসছে। সেখানে আমরা কেন পারব না?

অন্যদিকে প্রতিকার নিয়ে বলতে গেলে, বিদেশ ফেরত অনেকেই যখন তাদের পরিচয় গোপন করে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে সাধারণ হাসপাতালগুলোতে, তখন বাধ্য হয়ে স্বয়ং চিকিৎসকদেরই পাঠাতে হচ্ছে হোম কোয়ারেন্টিনে। চিকিৎসক থেকে শুরু করে হাসপাতালের সুইপার পর্যন্ত কারো নেই নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা। যার ফলে দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে, আমাদের চিকিৎসা দেয়ার মানুষের রীতিমতো অভাব ঘটতে পারে। এমনকি অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের চিকিৎসকদেরও হয়তো চিকিৎসা প্রার্থী হতে হবে। আর যেখানে আমাদের দেশে এমনিতেই চিকিৎসকের বড়ই সংকট। তাই অতি দ্রুত সেবার ব্রতী নেয়া তরুণদল তথা মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের যদি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও চিকিৎসা প্রদানের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, তবে তারা আপদকালীন চিকিৎসার দায়িত্বভার নিতে পারবে। সরকারি-বেসরকারি মিলে যেখানে মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার, সেখানে চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাদের বড় একটা সহযোগিতা আমরা নিতে পারি। এছাড়া ম্যাটস, নার্সিং কলেজসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী থেকে সহযোগিতা নেয়া সম্ভব তাদের অতি সত্বর প্রশিক্ষিত করা প্রয়োজন। আর জরুরি অবস্থায় নিরাপত্তা বিধান রক্ষায় যে তাদের জুড়ি মেলা ভার, তা তো বারংবার পরীক্ষিত ও প্রমাণিত। এসব শিক্ষার্থী দেশের সম্পদ। তাই তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে, ঝুঁকি ভাতা প্রদানপূর্বক কাজে লাগানোর সময় এসেছে এখন। তারা নিজেরা যেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোয়ারেন্টিনে থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে, রোগীদের সেবা প্রদান করতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হোক। প্রয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় খালি করে তা অতিসত্বর কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত করা হোক। দেশের খ্যাতনামা হোটেল-মোটেলও অতি সহজে কোয়ারেন্টিন সেন্টারের অভাব পূরণ করতে পারবে। শুধু প্রয়োজন সংশিষ্ট জনের আরো একটু বোধোদয়। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ শিক্ষার্থী সমাজ বাঙালি জাতির জন্য যতটা আত্মত্যাগ করতে পারবে তা আর কারো পক্ষে সম্ভব কী? যে শিক্ষার্থী অধিকার আদায় বা ছাত্রী বোনের শ্লীলতাহানীর বিচারের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যে দিন-রাত অনশন করতে পারে, যে শিক্ষার্থী নিজের মায়ের কোল খালি করে দেশমাতা আর মুখের ভাষা উপহার দিতে পারে, সে পারে না এমন কিছু কীভাবে হয়! তাই জাতিকে বাঁচাতে এই শিক্ষার্থী সমাজের সহযোগিতার বিষয়টি আমলে নিয়ে, তাদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অতিসত্বর হস্তক্ষেপ কাম্য।

মারজান পারভেজ শুভ্র
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
ড. মো. তাসদিকুর রহমান

আসুন সরকারের নির্দেশনা মানি

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঐক্যের বিকল্প কিছু নেই

বিভুরঞ্জন সরকার

আমরা কথা ও কাজে এক হব কবে?

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

করোনায় গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

করোনার জন্য প্রস্তুতি

Bhorerkagoj