ঘরের কোথায় বেশি জীবাণু

রবিবার, ২২ মার্চ ২০২০

শেফালী সোহেল

দিনশেষে একটুখানি প্রশান্তি পেতে একটি পরিচ্ছন্ন নীড়ই যথেষ্ট। অন্দরমহল সাজাতে আমরা নানা পরিকল্পনা করি। তারপর এক সময় মনের মতো গৃহসজ্জাও করে ফেলি। অন্দরমহলের ভেতরটি সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কর্মব্যস্ত জীবনে হয়তো সবসময় তা সম্ভব হয় না। তারপরও সপ্তাহে অন্তত একদিন অন্দরমহল পরিষ্কার রাখা উচিত।

বাইরে থেকে দেখতে হয়তো আপনার গৃহের ভেতরটি ঝকঝকে লাগতে পারে। কিন্তু এ চকচকে ভাবের মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে থাকতে পারে ময়লা, নানা ব্যাকটেরিয়া। বাড়ির সব থেকে ব্যস্ত ঘর হলো রান্নাঘর। এখানে ব্যাকটেরিয়া, ময়লা জমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বাইরে থেকে কাঁচা শাক-সবজি, ফলমূল, মাছ-মাংস এনে আগে রান্নাঘরেই রাখা হয়। এছাড়া রান্নাঘরের সিংক, কেবিনেট, ফ্রিজ, রান্নার বিভিন্ন অনুষঙ্গ- এগুলো দ্রুত ময়লা হয়। বলা হয়, রান্নাঘরে জন্ম নেয় ক্ষতিকারক সব ব্যাকটেরিয়া। তাই রান্না শেষে অবশ্যই রান্নাঘর, রান্নার জিনিসপত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

নিয়মিত বাথরুম পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ বাথরুম সংবেদনশীল ব্যবহার্য জিনিসের মধ্যে একটি। প্রতিবার বাথরুম ব্যবহারে অনেক ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। বাথরুম পরিষ্কার রাখতে পরিষ্কারের উপকরণ যেমন ব্রাশ, নেট, হারপিক- এগুলো এক কর্নারে রেখে দিত পারেন। লাইটের সুইচ, দরজার নক, বিভিন্ন হ্যান্ডেল নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। তোয়ালে ও ম্যাট সপ্তাহে অন্তত একবার গরম পানি দিয়ে ধুয়ে রোদে ভালোভাবে শুকাতে হবে। বাথরুমের সিংক, টুথব্রাশ হোল্ডার প্রতি সপ্তাহে পরিষ্কার করতে হবে। বাথটাব পরিষ্কারের সময় শাওয়ার, টয়লেটও ধুয়ে ফেলতে হবে।

অন্দরমহলে বসার ঘরটি সবসময় ব্যস্ত থাকে। এখানে পরিবারের সদস্যরা আড্ডা কিংবা গল্পে মেতে ওঠে। টেলিভিশন দেখে। শিশুরা গেম খেলে। আবার বাইরে থেকে অতিথি এলে এ ঘরেই বসতে দেয়া হয়। ফলে বাইরে থেকেও অনেক ব্যাকটেরিয়া ভেতরে ঢুকে পড়ে। এছাড়া টিভির রিমোর্ট, কিবোর্ড, হেডফোন, সেলফোন- এগুলোও বসার ঘরের এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকে। এসব জিনিস আমরা সবসময় পরিষ্কার হাতে ধরতে পারি না। ইলেকট্রনিকসের এসব জিনিসে জীবাণু, ধুলাবালি লুকিয়ে থাকে। যাদের ঠাণ্ডার সমস্যা আছে, এসব জিনিসে হাত দেয়ার পর তাদের হাত পরিষ্কার করতে হবে। বসার ঘরের আসবাবপত্র যেমন ফার্নিচার, কুশন, ম্যাট্রেস পরিষ্কার রাখতে হবে। সাধারণত বসার ঘরের এক কর্নারে জুতা রেখে ঘরে প্রবেশ করা হয়। জুতা ও জুতার সেলফও পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহে একদিন করে হলেও তা করতে হবে।

বিশ্রামের জন্য শোয়ার ঘরটি সুন্দরভাবে সাজানো হয়। শোয়ার ঘরে মাঝেমধ্যে কম্পিউটার নিয়ে হালকা কাজকর্ম, একটু গল্পগুজব, হালকা স্ন্যাকস জাতীয় খাওয়া-দাওয়া করা হয়। কাজেই ঘরটি একটু নোংরা হয়ে যায়। শোয়ার ঘরে ব্যবহৃত চাদর, কম্বল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। তা না হলে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এসব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর। হাত-পা চুলকানোসহ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা হতে পারে। তাই প্রতি সপ্তাহে বিছানার চাদর পাল্টাতে ও ধুতে হবে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, এক সপ্তাহ ধরে ব্যবহৃত বিছানার চাদরে বাথরুমের দরজার চেয়েও বেশি জীবাণু জন্ম দেয়। বালিশ, ম্যাট্রেস এসব জিনিস যাতে সহজেই পরিষ্কার করা যায়, সেভাবেই কেনা উচিত।

সূত্র: এলিডেকোর

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj