সংকটে গাড়ি শিল্প : করোনা ভাইরাসের প্রভাব

রবিবার, ২২ মার্চ ২০২০

আ ই রানা

করোনা ভাইরাসের প্রভাব ক্রমেই সেবাভিত্তিক খাতকে বিপদে ফেলে দিচ্ছে। বছরের শুরুতে ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিতে উহানসহ বহু শহর পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলে চীন। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তাই এখন মন্দার ইঙ্গিত।

ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গাড়ি খাত। করোনার প্রভাবে সংকটে আটলান্টিকের উভয় পাশের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে। বছরের শুরুতেই বন্ধ হয়ে যায় স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। চীনের কারখানা বন্ধের কারণে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় বৈশ্বিক সরবরাহ প্রবাহ। এখন চীন ধীরে ধীরে ভাইরাসটির প্রকোপ থেকে মুক্ত হচ্ছে। কিন্তু সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে। এ অবস্থায় অঞ্চল দুটির ভারী শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে কারখানা বন্ধ করে দেয়া শুরু করেছে গাড়ি নির্মাতারা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে এমন বিপর্যয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর কখনো দেখা যায়নি।

মিশিগানের দ্য সেন্টার ফর অটোমোটিভ রিসার্চের প্রধান গবেষক ক্রিস্টিন জিজেক বলেন, আমার জানা মতে সাম্প্রতিক সময়ে এ রকম ঘটনা আর ঘটেনি।

গাড়ি শিল্পের বর্তমান অবস্থা কেবল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের সঙ্গেই তুলনীয় হতে পারে। তাছাড়া বিশ্বের সব গাড়ি নির্মাতারা একসঙ্গে কারখানা বন্ধ আর কখনো করেছে বলে আমার মনে হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতারা স্থানীয় সময় বুধবার জানায়, তারা সাময়িকভাবে উত্তর আমেরিকায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় দুই মার্কিন কোম্পানি জেনারেল মোটরস ও ফোর্ড এ মাসের শেষ পর্যন্ত তাদের কারখানা বন্ধ রাখবে।

এর আগে সীমিত মাত্রায় কারখানা চালু রাখার কথা বলা হলেও ভাইরাস সংক্রমণের তীব্রতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে গত সোমবার ইউরোপজুড়ে ৩৫টি কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ফিয়াট ক্রাইসলার, পিএসএ গ্রুপ ও রেনোঁ। ফিয়াট ক্রাইসলার সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় তারা ইউরোপে তাদের অধিকাংশ কারখানায় সব ধরনের কার্যক্রম ২৭ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখবে। এর মধ্যে ইতালিতে বন্ধ থাকবে ছয়টি কারখানা। পাশাপাশি সার্বিয়া ও পোল্যান্ডেও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এদিকে কারখানা বন্ধের ঘোষণার পরপরই মিলানে ফিয়াট ক্রাইসলারের শেয়ার দরে পতন হয়েছে ১৯ শতাংশের মতো। পিএসএ গ্রুপের এ পতনের হার গিয়ে দাঁড়ায় ১৫ শতাংশে। অন্যদিকে রেনোঁর শেয়ার দরে পতন হয় ১২ শতাংশেরও বেশি।

শুধু এ তিনটিই নয়, নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে ইউরোপের বিলাসবহুল গাড়ির ব্র্যান্ডগুলোও। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ফিয়াট ক্রাইসলারের ব্র্যান্ড মাসেরাতির ওপর।

সূত্র : ব্লুæমবার্গ ও সিএনএন বিজনেস

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj