কোয়ারেন্টাইনে বিসিবি চিকিৎসক দেবাশীষ

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : প্রবাসীদের নিয়ে দেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার দাবি করছে, বিদেশ থেকে ফিরে যথাযথ নিয়মে কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় দেশে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। সরকার যখন করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিদেশফেরত বাংলাদেশিদের কোয়ারেন্টাইনে নিতে গলদঘর্ম, তখন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। সরকারের নির্দেশ মেনে নিজে তো কোয়ারেন্টাইনে গেছেনই, সেই সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে নিয়েছেন বিদেশ থেকে ফেরা দুই তরুণ ক্রিকেটার সাদমান ইসলাম অনিক ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুণকেও।

গত কয়েকদিনে খবরের শিরোনামে প্রায় নিয়মিতই দেখা যাচ্ছিল, ‘বিদেশফেরত প্রবাসীরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন’, ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে রাজি নন প্রবাসীরা’- কিংবা এ জাতীয় সব খবর। যে কারণে প্রবাসীদের দেশে ফিরে কোয়ারেন্টাইনে না থাকলে জরিমানার বিধান পর্যন্ত করা হয়েছে।

ভারত সফরে ইনজুরিতে পড়ে কবজির চোটে ভুগছিলেন তরুণ বাঁ-হাতি ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিক। আর কাঁধের ইনজুরির সঙ্গে লড়ছিলেন যুব দলের পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুণ। তাদের ইনজুরির চিকিৎসার জন্য চলতি মাসের শুরুতে এই দুই ক্রিকেটারকে অস্ট্রেলিয়া পাঠায় বিসিবি। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীও। মেলবোর্নে অস্ত্রোপচার করাতে ৯ মার্চ দেশ ছেড়েছিলেন সাদমান ইসলাম ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। অস্ট্রেলিয়ান শল্যবিদ গ্রেগ হয়ের তত্ত্বাবধানে সফল অস্ত্রোপচার শেষে দুই ক্রিকেটারকে নিয়ে দেবাশীষ দেশে ফেরেন গত ১৮ মার্চ। এরপর থেকে তারা তিনজনই হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এ তথ্য জানিয়ে দেবাশীষ চৌধুরী সবাইকে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার তাগিদও দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দেবাশীষ বলেন, ‘আমরা দুদিন হলো অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছি। আমার সঙ্গে অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফিরেছেন অনিক ও মৃত্যুঞ্জয়। আমরা তিনজনই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। সরকারের নির্দেশ এটি, আমাদের মানতেই হবে। আমরা যদি না মানি অন্যদের জন্য এটি বাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

দেশের মানুষের সুরক্ষার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিদেশফেরত সবারই এটা মেনে চলা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। নিজে ভুল করে অন্যের জন্য বিপদ না হয় এটাই ভাবতে হবে। করোনা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেয়া যাবে না।

সাদমান ও মৃত্যুঞ্জয় কবে নাগাদ মাঠে ফিরতে পারবেন সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওরা দুজন ভালো আছে। মাঠে ফেরার বিষয়টা এখন বলা কঠিন। তবে তিন মাস লাগবেই। বেশিও লাগতে পারে।

বিদেশ থেকে কেউ এলে ১৪ দিন সেলফ-কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া বাধ্যতামূলক, সরকারের এই নির্দেশনা মেনে সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছেন জাতীয় দলের বাঁ-হাতি ওপেনার সাদমান ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয়। মোহাম্মদপুরের নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থাকায় বাড়তি একটি সুবিধা দেখছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই পেসার। ‘এমনিতেই আমাকে বিশ্রামে থাকতে হতো। এখন আরো ভালো হয়েছে, পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে পারব। ইনজুরি থেকে দ্রুত উন্নতি করতে পারব।’

ওদিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বিসিবির পরিচালক ও সিসিডিএম চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদও। তিনি দেশে ফিরেছেন ব্যাংকক থেকে। সরকারের নির্দেশনা মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি কাজী ইনাম।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj