‘নতুন প্রযুক্তির সঙ্গেও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি’

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২০


দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফের পরিচালনার হাল ধরলেন ঢাকাই ছবির ‘মিষ্টি মেয়ে’ সারাহ বেগম কবরী। নতুন ছবির নাম ‘এই তুমি সেই তুমি’। গত ১৭ মার্চ থেকে শুটিং করছেন উত্তরার ‘দোলনচাঁপা’ শুটিং হাউসে। শুটিংয়ের ফাঁক গলে এখানেই ‘মেলা’র সঙ্গে কথা বললেন তিনি। জানালেন ছবিটির আদ্যোপান্ত। সঙ্গে ছিলেন শ্রাবণী হালদার

১৭ মার্চ। ঠিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনেই ‘এই তুমি সেই তুমি’র শুটিং শুরু করলেন। এই দিনটি বেছে নেয়ার পেছনে কি বিশেষ কোনো কারণ আছে?

কবরী : বিশেষ তো কারণ আছেই। আমি চেয়েছি বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শুটিংটা শুরু করতে। এফডিসি বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া। এই এফডিসির কারণেই আমি আজ কবরী। এটা নিয়ে আমি গর্বিত, আমি কৃতজ্ঞ। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটা আমার কাছে স্মরণীয় করে রাখতেই আমি এই বিশেষ দিনটা বেছে নিয়েছি।

প্রথম পরিচালিত ছবি ‘আয়না’র পর দ্বিতীয় ছবি ‘এই তুমি সেই তুমি’ শুরু করছেন এখন। মাঝখানে চলে গেছে প্রায় ১৪টি বছর। এই গ্যাপটা কেন?

কবরী : মাঝে আমি রাজনীতির মাঠে ব্যস্ত ছিলাম। তাছাড়া নিজেকে আরেকটু তৈরিও করে নিলাম। চিত্রনাট্য লিখতেও সময় লেগেছে। সব মিলিয়ে একটা দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেল। তবে আর এমনটা হবে না।

আপনার ছবিতে সব সময় নতুন মুখ দেখা যায়। ‘আয়না’তেও দেখেছিলাম। এই ছবিতেও বলতে গেলে নতুন মুখই নিয়েছেন। এই যে চ্যালেঞ্জটা নেন, এর পেছনে যুক্তিটা কি?

কবরী : কোনো যুক্তি নেই। চ্যালেঞ্জ তো চ্যালেঞ্জই। যুক্তি হচ্ছে এটাই- আমার সাহস আর মনন। আর আমার ভালোবাসা।

এই ছবিতে নিজের জন্য কি কোনো চরিত্র আছে, নাকি আপনি পুরোদস্তুর একজন নির্মাতা? আর কারা থাকছেন?

কবরী : আমি অভিনয়ও করছি। এই ছবির প্রত্যেকটা ক্যারেক্টার ইমপর্টেন্ট। আমরা বেশ

কয়েকজন মূল চরিত্রে অভিনয় করছি। আমি, সোহেল রানা, রুশো, সাজ্জাদ সাহেব, সাদেক বাচ্চু, রিয়াদ রায়হান, নিশাত সবার চরিত্রেরই গুরুত্ব আছে। আমি মনে করি, একটা ছবি যখন তৈরি হয় তখন প্রত্যেকটা চরিত্রই স্ব-স্ব মহিমায় মহিমান্বিত। একজন যদি খারাপ করে তবে পুরো ছবিটা নিয়েই সমালোচনা হয়। এমন যেন না হয়, এ ব্যাপারটাকে আমি সব সময় প্রাধান্য দিই।

ছবির কাহিনী ও চিত্রনাট্যও আপনার। ছবির নাম ‘এই তুমি সেই তুমি’ কেন?

কবরী : আমার চরিত্র সম্পর্কে একটু বলি, ১৯৭১ সালের আগের একটা ঘটনা। তখন আমি ছিলাম বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী। এক পর্যায়ে যুদ্ধের সময় আমি হারিয়ে যাই, আমার প্রেমিক থেকে আলাদা হয়ে যাই। সেই ইয়াং মেয়ের রোলটা করছে নিশাত। ছবিতে ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে গিয়ে এসব দেখানো হবে। আর সেই আমিটাই এই আমি!

শুনেছিলাম কলকাতা থেকে নায়িকা নেবেন। কিন্তু নিশাতকে চূড়ান্ত করলেন শেষমেশ। তার ভিতরে কোন গুণগুলো খুঁজে পেয়েছেন, যে কারণে তিনি আপনার সিনেমার নায়িকা হতে পেরেছেন?

কবরী : এ মেয়ে একপ্রকার কলকাতারই। ১৯৪৭ সালে তার দাদা-বাবা এদেশে চলে আসেন। মেয়েটার সঙ্গে আমি কথা বলে দেখলাম, আমি যে জিনিসটা চাচ্ছিলাম কথাবার্তা, উচ্চারণ ভালো, স্মার্টনেস। তার মধ্যে এসব খুঁজে পেয়েছি। ছবি শুরুর আগের আমি তাকে নিয়ে ওয়ার্কশপও করেছি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরই নায়িকা সিলেক্ট করেছি।

‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবিতে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে আমরা পাচ্ছি সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে। সে আপনার বন্ধুও। তাকে রাজি করাতে কি কোনো বেগ পেতে হয়েছে?

কবরী : না না না। বন্ধুকে রাজি করাতে কী আর বেগ পেতে হয়! যারা সৃষ্টি করে তাদের মন, মগজ একসঙ্গে কাজ না করলে সৃষ্টি করা যায় না। সাবিনাও আমার মতো, একটা কাজ করার আগে ভাবে কেমন করলে ভালো হবে, সুন্দর হবে। মন থেকে না চাইলে তো আর কাজে আনন্দ পাওয়া যায় না।

আপনি নিজেও তো এই ছবিতে গান লিখছেন! তাও আবার প্রথমবার…

কবরী : হা-হা-হা (উচ্ছ¡সিত হয়ে)। একটা গান

লিখছি। গানের সুরও কমপ্লিট হয়ে গেছে। মিউজিকটা করাব ভারত থেকে, তবে গাইবে বাংলাদেশের নতুন শিল্পী। পুরো ব্যাপারটা আমি সাবিনার ওপর ছেড়ে দিয়েছি। সাবিনাকে বলেছি, তোমার যাকে পছন্দ তাকে নিয়ে কাজ করতে পার। তোমাকে সিকোয়েন্সগুলো বুঝিয়ে দিলাম, বাকিটা নিজের কাঁধে নিয়ে নাও। বন্ধুকে এও বললাম, তুমি তো জনপ্রিয় অনেক সুরকারের সুরে কণ্ঠ দিয়েছ, এখন তুমিও নতুনদের জন্য কিছু করো।

গানের কিছু লাইন যদি ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলতেন…

কবরী : শুটিংয়ের তালে কী আর এত মনে থাকে! লিখেছি শখে শখে। (গাইতে গাইতে)

আমাকে সে কথা বলো, যে কথা আঁখিতে, মনেতে, ভাবিতে, সে কথা আমায় বলো!

কী কথা? জানি না! জানি না কখন তোমায় এ মন দিয়েছি, লালা লা লালা লা লালা লা…

গানে কিন্তু সেই সময়ের ফিলটা পাচ্ছি। সেই ছয়ের দশকের নায়িকা কবরীর গানের ফিল!

কবরী : হা-হা-হা। আমি তাল-মাত্রা যেটুকু বুঝি, লিখে সাবিনাকে দেখালাম, সুরটাও শেয়ার করলাম, বললাম তুমি সুরটা আরো ঠিক করে নাও। সে দেখে-শুনে বলল, ঠিক আছে, মিটারেও পড়েছে।

এখন থেকে আমরা কি শুধু পরিচালক কবরীকে পাচ্ছি, নাকি অভিনেত্রীকেও পাব নিয়মিত?

কবরী : (জোর দিয়ে) সব, সব, সবকিছুতেই পাবে। অভিনয় জানলে পরিচালক হিসেবে কাজটা আরো সুবিধা হয়। আমার শিল্পীরা কীভাবে কাজ করবে, এটাও বুঝতে পারি। আমি ক্যামেরার কাজটাও বুঝি। আমার ক্যামেরাম্যান শাহীনের কাজও ভালো। নতুন প্রযুক্তি এসেছে, এটার সঙ্গেও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। সুতরাং সব মিলিয়েই একটা চলচ্চিত্র। এক জায়গায় বসে থাকলে চলচ্চিত্র হয় না। গান, নাচ, অভিনয়ও জরুরি।

ওপারে অর্পণা সেনকে দেখছি, অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নির্মাণেও বেশ নিয়মিত। এদেশের অভিনেত্রীদের মধ্যে নির্মাতা হওয়ার ঝোঁকটা তুলনামূলক কম কেন? আপনার কী মনে হয়?

কবরী : না না না, এগুলো নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। কার ঝোঁক কম-বেশি আমি এগুলোর বিশ্লেষণে যাই না। আমি নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। আমি নিজেকে তৈরি করছি। আমি চাই সেখানে সাকসেস হতে। দর্শক যদি আমার ছবি দেখে তাহলেই বুঝব আমি দর্শকের ভালোবাসা পেয়ে গেছি।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj