ডয়চে ভেলেকে গোয়ালাখ : করোনার বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হয়ে গেছে

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২০

কাগজ ডেস্ক : ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে পরস্পর সংযুক্ত বিশ্ব নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে মরিয়া। কিন্তু এ বিচ্ছিন্নতার পরিণতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে লড়াই আরো কঠিন হবে। ডয়চে ভেলের কলামিস্ট আলেক্সান্ডার গোয়ালাখ এ বিষয়ে জানিয়েছেন তার মতামত। এই মুহূর্তে আমাদের এক সঙ্গে বড় দুটি সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির রূপ নেয়া এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে আর্থিক ও অর্থনৈতিক যে দুর্যোগ ঘনিয়ে উঠেছে তা। বলা যায়, করোনা ভাইরাস সংকট কেটে যাওয়ার পর অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার লড়াই হবে আরো কঠিন। যদিও এই দুই সংকটের মধ্যে তুলনা করা বা কোনটি বেশি ভয়ঙ্কর সেটা বলা কোনো কাজের কথা না। কারণ এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন, মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ হাজার ছুঁইছুঁই।

বৈশ্বিক মহামারি বর্ণান্ধ : বৈশ্বিক মহামারি সীমান্ত, বর্ণ, ধর্ম, সংস্কৃতি বা ভাষা কিছু চেনে না। রোগ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এই পুরনো প্রবাদ আবারো সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। চীনের উহান থেকে প্রাদুর্ভাব হওয়া করোনা ভাইরাস এখন ইতালি, ইরান, ফ্রান্স, স্পেন, আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়ার মারাত্মক কামড় বসিয়েছে। দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন, একই গতি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। মাস দুয়েক আগে চীনের দিকে বাঁকা চোখে তাকানো বাকি বিশ্ব আজ একই অবস্থার মুখোমুখি। এই দেশে দেশে ভেদাভেদ খুব একটা নেই। তাই বিচ্ছিন্ন না হয়ে দেশগুলো বরং নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করে সবাই মিলে একযোগে করোনা সংকটের মোকাবিলা করতে পারে।

তৃতীয় সংকট : করোনার কারণে তৃতীয় আরেকটি সংকটও তৈরি হয়েছে। যেটা অবশ্যই আগের দুটির সঙ্গে সংযুক্ত। সেটা হলো ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখতে পারা। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সব দেশই জনগণকে ভিড় এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। যেখানে বিস্তার ভয়াবহ সেখানে ‘লকডাউন’ করা হচ্ছে। ভাইরাস বিস্তারের গতি কমিয়ে দিতে বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হলে জেল-জরিমানাও করছে কোনো কোনো দেশ। পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম স্বাধীন চালাচলে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে লোকজন বাড়ির চার দেয়ালে নিজেকে আটকে রাখছে বা অচেনা পরিবেশে কোয়ারান্টিনে আছে। প্রতিবেশী, নগর, রাজ্য বা দেশ সবার থেকে আলাদা হয়ে আছে। এমনকি এক দেশ আরেক দেশ থেকে আলাদা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আগেই সীমান্তে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এখন একই পথে চলছে। কয়েকদিনের মধ্যেই হয়তো ইউরোপে স্বাধীন চলাচল বন্ধের ঘোষণা আসবে।

বিচ্ছিন্নতায়ও একত্র থাকার চেষ্টা : সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মানুষ অসহায়বোধ করে। এ অবস্থা কাটাতে নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যে বই পড়ব পড়ব বলে পড়া হয়ে উঠেনি সেগুলো পড়া, সিনেমা দেখাসহ নানাভাবে অস্বস্তিকর এ সময় পার করতে বলা হচ্ছে। ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ার, বা সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা, সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আক্রান্ত প্রায় সব দেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। অবরুদ্ধ এ অবস্থায় যখন সবাই নিজ নিজ ঘরে বন্দি তখন একে অন্যকে সাহস জোগাতে আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে পারি। যেমন গত সপ্তাহে ইতালীয়রা নিজেদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বা জানালা খুলে গান গেয়ে একে অন্যকে উৎসাহিত করেছেন। গত বুধবার কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইরত চিকিৎসকর্মীদের সমর্থন ও সাহস জোগাতে এক যোগে হাতহাতি দেয়া হয়।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj