‘একটা প্রণয়ের ব্যাপার তো অবশ্যই আছে’

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২০

রিয়াদ রায়হান। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত রিয়েলিটি শো ‘ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম’ প্রতিযোগিতার প্রথম রানারআপ। এখন তিনি কবরী পরিচালিত ‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবির নায়ক। বড় পর্দায় এটাই রিয়াদের প্রথম কাজ। শুটিং হাউসে বসে ‘মেলা’র সঙ্গে শেয়ার করলেন তার স্বপ্ন পূরণের গল্প। গল্প শুনেছেন শ্রাবণী রাখী

কবরী আপার ছবির নায়ক হওয়ার পেছনের গল্পটা শুনতে চাই। কীভাবে এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হলেন?

রিয়াদ রায়হান : গল্পটা অনেকদিন আগে থেকেই শুরু। সম্ভবত গত বছর আগস্ট মাসের দিকে একজন ডিরেক্টরের সঙ্গে আমি একটা নাটকের শো দেখতে যাই। তিনি বললেন চলো, কবরী ম্যামও আছেন, পরিচয় করিয়ে দেব। সেই প্রথম পরিচয়। এরপর ওই পরিচালকই একদিন জানালেন, কবরী ম্যাম আমাকে ডেকেছেন। আমি তারপর কবরী ম্যামের বাসায় যাই। তিনি গল্প করতে পছন্দ করেন। সেদিন অনেক গল্প হলো। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, সেদিন এই ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি। পরে একদিন ফোন করে তিনি আমাকে ছবিটিতে কাজের প্রস্তাব দেন।

এই প্রস্তাবটা যখন পেলেন তখন কেমন লেগেছিল?

রিয়াদ রায়হান : এটা আসলে একটা শিল্পীর জন্য খুবই একটা ভালো প্রস্তাব, খুবই খুশি হওয়ার প্রস্তাব। কম-বেশি সব শিল্পীরই স্বপ্ন থাকে বড় পর্দায় কাজ করার। সে স্বপ্নটা যখন বাস্তবে রূপ নেয় তখন নিশ্চয়ই অনেক ভালো লাগে। এমন একটা প্রাপ্তি আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল।

ছোট পর্দায় কাজ করছেন বেশ কিছুদিন ধরে। বড় পর্দায় আসার ইচ্ছেটা কি শুরু থেকেই ছিল?

রিয়াদ রায়হান : শুরু করাটা আসলে আমি ওভাবে বলব না। বড় পর্দায় কাজের প্রস্তাব এর আগেও পেয়েছিলাম কিন্তু আমার তখন মনে হয়েছিল, এই কাজের জন্য আমি পুরোপুরি প্রস্তুত নই। ছোট পর্দায় কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে হয়েছিল, আমি বড় পর্দায় কাজ করব বা ক্যামেরার কিছু বিষয় জানতে পারলে আমার কাজের জন্য সহজ হয়। আমি নিজেকে সেভাবে আস্তে আস্তে প্রস্তুত করেছি। আর ভাবছিলাম কখনো সুযোগ পেলে হয়তো নিজেকে কাজে লাগাব।

‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবির কাজের জন্য কি পরিচালক আলাদা করে কোনো গ্রুমিং বা কর্মশালা করিয়েছেন?

রিয়াদ রায়হান : আসলে গ্রুমিংটা ঐভাবে না, তার বাসায় গেলেই দেখা যায়, আড্ডার ছলেই তিনি গ্রুমিংটা করাচ্ছেন। সবাই একটা রুমে বসে, গল্পের ছলে ছলে কাজ বুঝে নিচ্ছি। এই ব্যাপারটা খুব ভালো লেগেছে। গল্পের ছলে অনেক কিছুই বলে দিচ্ছেন যা আমরা খুব সহজেই রপ্ত করতে পেরেছি। খুব আন্তরিকতার সঙ্গে শিখতে পেরেছি।

ছবিতে আপনার চরিত্রটা কেমন?

রিয়াদ রায়হান : ছবিতে আমার ক্যারেক্টারটা খুবই চমৎকার। ভার্সিটি পড়–য়া একটা ছেলে, ভীষণ চঞ্চল, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পছন্দ করে। বাবা-মার খুব আদরের।

ছবির নামটা কিন্তু অনেক রোমান্টিক। প্রেমিক চরিত্রেও নিশ্চয় আপনাকে দেখা যাবে!

রিয়াদ রায়হান : হা-হা-হা। আমার সঙ্গে একটা প্রণয়ের ব্যাপার তো অবশ্যই আছে। ফিল্ম মানেই প্রেমসুলভ ঘটনা তো থাকেই বেশিরভাগ সময়। এই ছবির মধ্যে দুইটা পিরিয়ডে কাজ হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে এই সময় অবধি। ফ্ল্যাশব্যাকে প্রেমটা দেখতে পারবেন। নামটার সঙ্গে ছবির ঘটনা খুবই প্রাসঙ্গিক।

একজন অভিনেতা হিসেবে পরিচালক কবরীকে বিশ্লেষণ করতে বললে কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

রিয়াদ রায়হান : তাকে স্যালুট এই জন্য যে, একটা মানুষের স্বপ্ন পূরণ করার সুযোগটা তিনি করে দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ। মফস্বলে বড় হয়েছি। ছোটবেলায় বিনোদনের মাধ্যম ছিল বিটিভি আর শুক্রবারে সিনেমা দেখা। তাদের ছবি দেখতে দেখতে ভেবেছি একটা ছবি এত ভালো লাগতে পারে, নায়িকা এত সুন্দর হতে পারে! পর্দায় যাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি, ছোটবেলায় যাকে পর্দায় দেখেছি, তাকে ডিরেক্টর হিসেবে পাওয়া আমার জন্য অনেক সৌভাগ্যের।

কবরীকে কোন মাধ্যমে ভালো লাগছে। তার সিনেমাগুলো যখন দেখেছেন সেই নায়িকা কবরী নাকি নির্মাতা কবরী, কাকে বেশি পছন্দ করছেন?

রিয়াদ রায়হান : প্রথমত হচ্ছে নায়িকা কবরী, যাকে আমি প্রথমত দেখেছি। দ্বিতীয়ত, পরিচালক কবরী।

ভালো একটা সিনেমা দিয়ে সিনেমা ক্যারিয়ার শুরু করছেন। এখন থেকে কি বড় পর্দায় নিয়মিত পাব আপনাকে?

রিয়াদ রায়হান : হ্যাঁ, ইচ্ছে আছে নিয়মিত হওয়ার।

আর ছোট পর্দার ব্যাপারে কী ভাবছেন?

রিয়াদ রায়হান : ছোট পর্দার কাজটা তো আমাকে তৈরি করতে সাহায্য করছে। দুইটা আসলে দুই মাধ্যমের কাজ। ছোট পর্দায় বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজের সুযোগটা থাকছে আর সিনেমার কাজটা আবার ভিন্ন। আমি দুই মাধ্যমেই থাকতে চাই, দুইটাকেই প্রাধান্য দেব।

ছবি দেখার ঝোঁকটা কেমন?

রিয়াদ রায়হান : আমাকে সিনেমার পোকা বলা যেতে পারে। ঘরে থাকতে ভীষণ পছন্দ করি। আমাকে যদি কেউ বলে, এক মাস তোমাকে ঘর থেকে বের হতে দেব না, তাহলে আমি খুশি হব, কারণ আমি প্রতিদিন সিনেমা দেখতে পারব। বাসায় থাকতে পছন্দ করি বলেই সিনেমাটা বেশি দেখা হয়।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj