মহাদেশের মতো এক দেশে

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২০

কামরুল হাসান

ভ্রমণ-৩

বহুকাল ব্রিটিশ শাসিত থাকার পর ১৯৯৭ সালে চীনের অন্তর্ভুক্ত হলেও হংকংয়ে গণতন্ত্র চালু রাখতে সম্মত হয় চীনা সরকার। অতিকায় চীনের দক্ষিণপূর্ব প্রান্তে অবস্থিত হংকং পৃথিবীর অন্যতম সমুদ্রবন্দর ও ফিনান্সিয়াল হাব। এখন এটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, মজার ব্যাপার হলো এখানে কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত প্রার্থীরাই নির্বাচনে জিতে। টিভিতে দেখেছি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ নগরটি আকাশচুম্বি দালানকোঠায় ঠাসা। হবেই তো অত লোককে জায়গা দিতে হবে না?

আমাদের প্লেন ছাড়বে দুপুরে, টার্মিনালে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া কাজ নেই কোনো। দিন যতই এগোয়, কোলাহল ততই বাড়তে থাকে। রাতের শান্ত পাড়াটি এখন বাজারের মতো কোলাহলপূর্ণ, তবে প্রচুর স্পেস থাকায় এমন নয় যে গায়ে গা লাগিয়ে মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। তবে গায়ে গা লাগিয়ে যাত্রীরা বসে আছে তাদের স্ব-স্ব বিমান যে হাব থেকে ছাড়বে তা সংলগ্ন জোনে পেতে রাখা টানা চেয়ারে। চেয়ারগুলো ধাতব নির্মিত, বসা যাবে, নড়ানো যাবে না। জোনগুলো নম্বর দ্বারা চিহ্নিত। মাঝেমধ্যে মোবাইল চার্জিং জোন আছে, আছে ফ্রি কম্পিউটার ব্রাউজিংয়ের সুবিধা।

রৌশনি ও বাবুলভাই এক জায়গায় বসে থাকতেই পছন্দ করে, ওদের মেয়ে আনিকা, মা-বাবা থেকে একটু দূরে বসে মোবাইলে কথা বলে। ওদের তেমন আগ্রহ দেখি না দৃশ্য দেখার। আমিই কেবল ঘুরে ঘুরে বিমানবন্দরটি দেখি। ঢাকার তুলনায় এটি অতুলনীয়, দৃশ্যের বিচারে স্বর্গ। টানা টার্মিনালটির মাঝেমধ্যেই ভূমি সমান্তরাল কনভেয়ার বেল্ট আছে, যাতে ভারী লাগেজগুলো টেনে নিতে যাত্রীদের সুবিধা হয়, কিংবা হাঁটতে অরাজি কুঁড়েদের পা চালাতে কষ্ট না হয়। আমি যেহেতু বারংবার যাই আর ছবি তুলি, মাঝেমধ্যে আমিও কুঁড়েদের মতো চলমান মেঝেগুলোয় চড়ি। ভূমি থেকে ছাদ পর্যন্ত কাচে ঢাকা বাইরের দেওয়াল দুপাশের ভূনিসর্গ আর মানুষের নির্মিত স্থাপনা ও প্রযুক্তিগত উপকরণসমূহ দেখার অবারিত সুযোগ করে দেয়, দূরে সমুদ্রে ভাসা জাহাজগুলো যেমন মানুষের প্রযুক্তিগত আবিষ্কার, তেমনি কাছের রানওয়েতে চলমান বা উড্ডয়নশীল বিমানগুলোও একই। ঈশ্বর ভূমি দিয়েছেন, মানুষ তার উপরে বিমানবন্দর বানিয়েছে, ঈশ্বর সমুদ্র দিয়েছেন, মানুষ তাতে জাহাজ ভাসিয়েছে, ঈশ্বর আকাশ দিয়েছেন, মানুষ তাতে বিমান উড়িয়েছে। সকালবেলা জুড়ে হংকংয়ে ঈশ্বর-মানুষের এই যৌথনির্মাণ বা যুগল প্রযোজনা দেখি। এপাশের পাহাড় যেমন মুগ্ধ করে, অন্যপাশের সমুদ্র ও দ্বীপ তারচেয়ে কম মুগ্ধ করে না।

আমাদের ফ্লাইটের সময় কাছাকাছি এলে আমরা নির্ধারিত হাবের দিকে এগুই। তখন দেখি ভোরবেলা আমি যতদূর গিয়েছিলাম টার্মিনাল ভবনটি তারচেয়েও লম্বা, আমার পৌঁছানো শেষ প্রান্ত থেকে দুটি পাতার মতো তারা দুদিকে চলে গেছে বহুদূর। ওখানে, ডান পাশের পাতাটির প্রবেশমুখেই দোকানপাটের লোভনীয়, দর্শনীয় সারি। দিন পূর্ণবয়স্ক হচ্ছে, দোকানপাটও রূপের ছটা ছিটোচ্ছে। জৌলুষপূর্ণ একেকটি দোকান, জিনিসপত্রের দামও চড়া। বিমানবন্দরে বিশেষ করে দুটি ‘নিষিদ্ধ’ বস্তু খুব দেখা যায়- সিগারেট ও মদ। পাশাপাশি চকলেট ও পারফিউমও কম নয়। সব মিলিয়ে জমজমাট এক অঞ্চল যার ভেতর দিয়ে চঞ্চল পায়ে আমরা হেঁটে যাই অচঞ্চল গন্তব্যে। এসে দেখি আগে এসে ভালো করেছি, কেননা আমাদের হাবটি একেবারে শেষ মাথায়। দিনের আলো কাচের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে রাঙিয়ে তুলেছে যাত্রীদের গণ্ডদেশ, চুলভরা মস্তক। ফর্সা রমণীরা আরও ফর্সা, একেবার টকটকে গোলাপ। বিমানবন্দরে এলে পৃথিবীর মানবকুলের রং ও গঠনের বৈচিত্র্য চমৎকার চোখে পড়ে। শেষপ্রান্তে এসে ত্রিমাত্রিক দৃশ্য পাওয়া গেল এপাশের পাহাড় আর ওপাশের সমুদ্র যেন হাত মেলালো একটি দ্বীপ ঘেঁষে যাওয়া উপসমুদ্র দ্বারা, নাকি আমি ভুল বললাম, এপাশের উপসমুদ্র ওপাশের পাহাড়ের সঙ্গে হাত মেলাল সমুদ্র দ্বারা, কেননা এখানে বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখা গেল, দৃষ্টি আটকে রইল না কোনো তীরে।

দুপুর দেড়টা নাগাদ ক্যাথে প্যাসিফিকের বিশাল এয়ারবাসটি আমাদের তার পেটের ভেতর তুলে নিল। প্রায় ১২ ঘণ্টা এই বিমানবন্দরে কাটল, আমার একটুও একঘেয়েমি লাগেনি। রানওয়েতে বিচরণশীল হাঁসদের মতো সেও বিচরণ করছিল, নরম রোদে শুকিয়ে নিচ্ছিল গা। হংকং বিমানবন্দরটি একবারে সমুদ্রের ভেতরেই বসানো যেন, বিমান যখন নামে, মনে হয় সমুদ্রের ভেতরেই নামছে। হংকং ছেড়ে ডানা মেলতেই সে এসে পড়ল দক্ষিণ চীন সাগরের উপর, নিচে নীল বারিধির মায়াময় বিস্তার। দক্ষিণ চীন সাগরের উপর দিয়ে সোজা পশ্চিমে সে উড়ে এল ফিলিপাইনের দ্বীপসমূহের উপর। অতঃপর দ্বীপ আর সমুদ্র, সমুদ্র আর দ্বীপ। আমার সিট পড়েছিল জানালার পাশে (প্রথমে লিখেছিলাম সমুদ্রের পাশে) ফলে সূর্যালোকে উদ্ভাসিত সমুদ্রদৃশ্য দেখতে অসুবিধা হলো না, দিনটি ছিল মেঘমুক্ত, ফলে সমুদ্রপিঠ আর প্লেনের মাঝে কোনো বাধাই ছিল না।

হংকং থেকে ব্রিসবেন দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার ভ্রমণ, লম্বা ফ্লাইট আর কাকে বলে? সুবেশী আর সদাহাস্যময়, সদাচঞ্চল বিমানবেলারা দুবার খাবার পরিবেশন করল। আমি মাঝেমধ্যেই জানালা দিয়ে নিচের দৃশ্য দেখি আর সামনের মিনি টিভিপর্দায় ম্যাপ দেখে নাম জানার চেষ্টা করি। যেসব নাম ভেসে ওঠে তার কোনোটিই জীবনে কখনো শুনিনি ভূগোলে গোল্লা পাওয়া আমি। কেবল ম্যাপ যখন ম্যানিলাকে নিকটবর্তী এক বিন্দু হিসেবে দেখাল তখন মন উল্লসিত। চিনি, তাকে চিনি। কতটা? স্বচক্ষে না দেখা পর্যন্ত আসলে কোনোটাই চেনা হয় না, তা আপনি টিভিপর্দায় যতই ভিডিও দেখুন না কেন। বিমানের ম্যাপ তো কেবল ডট আর নাম দেখাচ্ছে, তাতে আশপাশের স্থানগুলোর ভৌগোলিক দূরত্ব ও আপেক্ষিক অবস্থান কেবল বোঝা যাচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে না আর কিছুই। বরং যতই উচ্চতা হোক, জানালা দিয়ে তাকানো ভালো, তাতে প্রকৃত ভূগোলটিই দৃশ্যমান হয়, অন্তত জলপিঠ, ভূমির রং, দ্বীপের আকার, সৈকতরেখা, মাটি ও জলের কোলাজ, সবুজ বেষ্টনী প্রভৃতি দেখা যায়।

ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়ানো ৭ হাজার দ্বীপের এক দেশ। বুঝি ভূনিসর্গের প্রভূত সৌন্দর্যে সে গরবিনী। ক্যাটওয়াকে হাঁটা মডেলদের দূরের গ্যালারি থেকে যেভাবে দেখে মানুষ, সেভাবেই দেখি তাকে। ছোট মনিটরে বিমানের কম্পিউটার প্রতিনিয়তই ফ্লাইট ডাটা ভরে দিতে থাকে, কত ফুট উচ্চতা দিয়ে সে উড়ছে, কত তার গতিবেগ, কোনো দিকে তার অভিযাত্রা (অর্থাৎ নাক), বাইরের তাপমাত্রা, লেজের দিকের হাওয়ার গতিবেগ- সবই সে দেখায়। তবে যারা সফটওয়্যারটি ডিজাইন করেছেন তাদের আনুপাতিক ধারণা ভ্রান্তিমূলক, তারা বিমানের সিম্বল বা আইকনটি এঁকেছেন বিরাট করে, ফলে মনে হয় এক দৈত্য বিমান উড়ে যাচ্ছে নিচের ভূনিসর্গের উপর দিয়ে।

বাইরের আলো কমে ক্রমশ রাত্রী নেমে এলে আমার মিনি প্রেক্ষাগৃহেও আলো নিভে যায়। রুপালি পর্দায় তখন ভেসে ওঠে চলচ্চিত্র। বিমান এর আগে শেষ বিকেলে ঢুকে পড়েছিল আরেক দ্বীপপুঞ্জের দেশ ইন্দোনেশিয়ায়। এখানে দ্বীপের সংখ্যা আরও বেশি- ১২ হাজার। তারও আগে সে কি উড়েছিল মালয়েশিয়ার সমুদ্র পাশে রেখে? হবে হয়তো তবে, এখন সে যাচ্ছে সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে। উত্তর গোলার্ধ থেকে বিষুবরেখা অতিক্রম করে সে দক্ষিণ গোলার্ধে চলে এসেছিল ভরদুপুরেই।

৪.

বিমান ভূমি বা জলপিঠের সমান্তরালই ওড়ে, কিন্তু যে ভূমি বা জলপিঠকে আমাদের বিছানো চাদরের মতো সরল, নিভাজ মনে হয়, তা তো আসলে বাঁকা, কমলালেবুর মতো গোলাকার। ফলে সোজা উড়েও বিমান নিজের অজান্তই গ্রহটির বক্রতা অনুসরণ করে; মধ্যাকর্ষণের টান তাকে ধরে রাখে বক্রতায়। এ কারণেই মানচিত্র আমাদের এত ভোগায়। নিচের রাডার স্টেশনগুলো থেকে পাঠানো সিগনাল তো আছেই, বিমানের নিজের রাডারও পথ দেখাতে থাকে। এখন প্রযুক্তি এত উন্নত যে, অটোপাইলটে গন্তব্য পাঞ্চ করে দিলে সে-ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিমানকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। পাইলট ঘুমিয়ে পড়লেও অসুবিধা নেই, বিমান চলবে নিজের মস্তিস্ক অনুসরণ করে। পাইলট ঘুমিয়ে আছেন শুনলে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে ভেবে পাইলট জেগে থাকেন রোবটের মতন।

প্রথমে ইন্দোনেশিয়া, পরে ফিলিপাইনের দ্বীপপুঞ্জের উপর দিয়ে ক্যাথে প্যাসিফিকের এয়ারবাস ৩৩০ উড়ে এল। পৃথিবীর মানচিত্রের এ অংশটি সমুদ্র আর দ্বীপের কোলাজ। ‘পৃথিবীর চারভাগের তিনভাগ জল’ প্রতিপাদ্যটি এসব ভূগোলে এলে ধ্রæব হয়ে ওঠে। আজ সমুদ্রের উপর দিয়ে যত ঘণ্টা বিমানে উড়লাম, এমনটা আর কখনো উড়িনি। কিন্তু গত একঘণ্টা ধরে ভূমির উপর দিয়েই উড়ছে বিমান, আর এ ভূমি নতুন মহাদেশ অস্ট্রেলিয়ার। অস্ট্রেলিয়ার যে প্রান্ত ঘেষে বিমান উড়ছে তার সঙ্গে হংকংয়ের ঘড়ির পার্থক্য তিন ঘণ্টার, তাই ঘড়ি এগিয়ে নিতে হলো তিনঘণ্টা, সন্ধ্যে হয়ে গেল রাত্রি। অস্ট্রেলিয়ার মানচিত্রে উত্তর-পূর্বে একটি শিংসদৃশ্য ভূখণ্ড রয়েছে, বিমান সাগরের সম্মোহন ছেড়ে সেখান দিয়েই প্রবেশ করেছে অস্ট্রেলিয়ায়। এটা কুইন্সল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত, বিমান যেখানে অবতরণ করবে সেটা কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী। ভূমিরেখা স্পর্শ করার পরেও বিমান উড়ল পাক্কা দুঘণ্টা অর্থাৎ ঢাকা থেকে হংকং, অস্ট্রেলিয়া এমনই এক বিপুল আয়তনের দেশ। জানালা দিয়ে প্রচুর আলোকপুঞ্জের সমাহার দেখে নাম না-জানা শহর বুঝি, আর নাম না-জানাই-বা বলি কীভাবে, বিমানের মনিটরে তাদের নাম তো ভাসছেই। মাঝেমধ্যেই সমুদ্ররেখা অর্থাৎ আবছা সৈকত ও জলপিঠের চঞ্চলতা দেখে অনুমান করতে কষ্ট হয় না, বিমান অস্ট্রেলিয়ার মানচিত্রের পূর্বপ্রান্ত ধরে এগুচ্ছে।

বিমান ব্রিসবেন এল স্থানীয় সময় বারোটায়, অর্থাৎ মধ্যরাতে। দশ ঘণ্টা আগে হংকং-এ বিমানের বিরাট পেটের ভেতর রৌশনি, বাবুল ভাই ও আনিকা হারিয়ে গিয়েছিল, তাদের সঙ্গে ফের দেখা হলো ব্রিসবেনে। যখন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন-এ পাসপোর্টে এ্যারাইভাল সীল পড়ল, তখন নতুন দিনটি শুরু হয়ে গেছে। ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলাম ১৩ তারিখে, ব্রিসবেন এসে পৌঁছালাম ১৫ তারিখে। মনে হবে দুদিন, কিন্তু ঘড়ির কাঁটার হিসাবের জাদু-এর মাঝে লুকানো।

একে মধ্যরাত, উপরন্তু যাত্রী আগমনের অংশটি তেমন জমকালো নয়, ফলে ব্রিসবেন এয়ারপোর্টটিকে আমার সাদামাটা বলেই মনে হলো। অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন কিছু ব্যাপারে বেশ কড়া, যেমন বিদেশ থেকে আনা খাদ্যদ্রব্যের ব্যাপারে তাদের বেশ শুচিবায়ু রয়েছে। আমরা যে শখ করে কুমিল্লার রসমালাই, নাটোরের কাঁচাগোল্লা কিংবা পোড়াবাড়ির চমচম গদগদ হয়ে নিয়ে যেতে চাই আত্মীয়গৃহে, হোক না সে আত্মীয় সাগর পেরিয়ে অন্য কোনো দেশে, অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের সময় সেসব ইচ্ছা দমিয়ে রাখতে হবে। আমি তো অনেককে রান্না করা তরকারি অতলান্তিকের ওপাড়ে পাঠাতে দেখেছি। মিষ্টি হোক বা আচার, নুনমাখানো ইলিশ কিংবা পিঠা-সকল খাদ্যদ্রব্য অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ। কেউ যদি ভুল করে খাদ্যদ্রব্য নিয়েই আসে, তাকে সেটা ফবপষধৎব করতে হবে। ঘোষণা না করলে বিপদ, ঘোষণা করলে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট সেসব খাবার পরীক্ষা করে দেখবে তাতে কোনো বিষ বা ভাইরাস ছড়ানোর মতো কিছু আছে কি না। মূলত কোকেন জাতীয় দ্রব্য নিয়েই তাদের বেশি উদ্বেগ, সংক্রামক রোগ নিয়েও উদ্বেগ কম নয়।

ইমিগ্রেশনে স্বভাবতই একটু টেনশড রইলাম, যদিও আমার কাছে ঘোষণা দেবার মতো কোনো কিছু নেই তবুও। পা পিছলাতে কতক্ষণ? আমার বড়ো সুটকেসটি যখন নির্বিঘ্নে স্ক্যানার মেশিনটি পার হয়ে ক্লিয়ারেন্স সিল পেল, তখন স্বস্তি পাই। শুনি বয়স্ক কাস্টমস অফিসারটি পার্শ্ববর্তী মধ্যবয়সী সহকর্মীকে বলছে, ‘ও’স ংঁৎঢ়ৎরংবফ, ংড়সব ড়ভ ঃযবস ধৎব াবৎু পঁষঃঁৎবফ.’ প্রথমে বুঝিনি, পরে বুঝলাম তিনি আমার বড়ো সুটকেসে বইয়ের স্ত‚প দেখেই মন্তব্যটি করেছেন। আমি তো আমার নিজের লেখা বই নিয়ে যাচ্ছি বন্ধুদের দেব বলে। (চলবে)

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj