জলশিশু

শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২০

রহীম শাহ

মূল : চার্লস কিংস্লে

কিশোর অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস : পর্ব-চার

নদীর পানিতে এত সুন্দর চন্দ্রালোক দেখে সে ঘুমাতে পারেনি। অবশেষে সে পানির ওপর ভেসে উঠল এবং একটি পাথরের ওপর বসল।

হঠাৎ টম একটি সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেল। একটি উজ্জ্বল লাল আলো পানিতে নাচানাচি করছে। উৎসাহী হয়ে টম তীরের কাছে একটি পাথরের দিকে সাঁতরে গেল ব্যাপারটা দেখার জন্য।

সেখানে সে দেখতে পেল আলোর নিচে পাঁচ-ছয়টি বড় স্যামন মাছ উপরের দিকে স্থির তাকিয়ে আছে। সে গলার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে। মনে হলো একটি স্বর তার চেনা। তীরে তিনজন বড় আকারের দুই পেয়ে প্রাণী দেখা যাচ্ছে। তাদের একজন আলো ধরেছে এবং অন্যজন একটি লম্বা লাঠি ধরে আছে। লাঠির আগা বেশ সুচালো। টম বুঝে গেল যে তারা মানুষ। ভয় পেয়ে গেল। ভয়ে একটি পাথরের গর্তে ঢুকে গেল সে।

টম বুঝে গেল সামনে বিপদ। কিন্তু বোকা স্যামনটিকে সাবধান করার আগেই বিপদ ঘটে গেল। যে স্যামনটি অবাক হয়ে আলোর দিকে তাকিয়ে ছিল তার ওপর একটি সুচালো লাঠি ছুড়ে দিল দুপেয়ে প্রাণীরা। সঙ্গে সঙ্গে একটি ভয়ানক ঝাপ্টাঝাপ্টি শুরু হয়ে গেল। টম দেখল, স্যামনটি আটকে গেছে। ঝাঁপাঝাঁপি করেও একসময় পানির ওপর উঠে গেল।

তারপর পেছন থেকে অপর তিনজন দুপেয়ে প্রাণী এই তিনজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারা চিৎকার করল, উল্লাস প্রকাশ করল এমন ভাষায়, যা টম আগে কখনও শুনেছে। ওগুলো ছিল মানুষ এবং তারা যুদ্ধ করছিল। টমের কিছু করার ছিল না। কারণ সে একটি নগণ্য জলশিশু মাত্র। এরপর একটি প্রচণ্ড দাপাদাপি হলো। আলোটি নিভে গেল। টমের কাছাকাছি একজন লোক পানিতে পড়ে গেল। যে কয়জন আলো ধরেছিল সে তাদের একজন। পানির প্রচণ্ড স্রোত তাকে টেনে নিয়ে চলল। টম বুঝতে পারল, মানুষগুলো তীর বরাবর দৌড়ে তার দিকে আসছে। টম একটি গর্তের গভীরে নিজেকে আড়াল করে রেখেছে বলে তাকে দেখতে পেল না কেউ।

সবকিছু শান্ত না হওয়া পর্যন্ত চুপচাপ সেখানে বসে রইল টম। তারপর উঁকি দিল। দেখল মানুষটি এখনও স্থির হয়ে পড়ে আছে। সে প্রচুর সাহস সঞ্চয় করে সাঁতরে মানুষটির খুব কাছে গেল। এখন লোকটিকে খুব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।

অবাক হয়ে সে দেখল ওই লোকটি আর কেউ না, তার ওস্তাদ গ্রিমস। টম খুব দ্রুত সেখান থেকে কেটে পড়ল।

সে ভাবল, এখন ওস্তাদও একটি জলশিশুতে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। সম্ভবত সে এখন আমাকে খুঁজে বের করবে। আবার মারবে। তাই সে সেখান থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে রাতের বাকি অংশটা একটি গাছের শেকড়ের নিচে কাটাল। ভোর হওয়ার পর গ্রিমসকে দেখতে যেতে তার ইচ্ছে হলো। আসলে গ্রিমস জলশিশুতে পরিণত হয়েছে কিনা সেটাই দেখতে চায় সে।

খুব সাবধানে সে পাথরের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিল। গ্রিমস তখনও সেখানে পড়ে আছে। সে জলশিশুতে পরিণত হয়নি। বিকেল বেলা টম আবার গেল। তখন গ্রিমসকে দেখতে পেল না। টম নিশ্চিত হলো যে সে জলশিশুতে পরিণত হয়েছে।

তার চিন্তিত হওয়ার কারণ ছিল না। গ্রিমস জলশিশুতে পরিণত হয়নি। কিন্তু ওই দুর্ঘটনা তার ভেতর এক পরিবর্তন এনে দেয়।

টম গ্রিমসকে দেখে এত ভয় পেয়ে গিয়েছিল যে টেরই পেল না নদীর স্রোত বেয়ে কখন সে অনেক নিচে চলে গেছে। কোনো কোনো সময় সে খুব কমই তার সামনের রাস্তা দেখতে পেত। সে দিনের পর দিন স্রোত বরাবর তার পথটি অনুভব করতে পারত। সে জানে না পরীরা তার খুব কাছে থেকে সমস্ত অশুভ ও বিপজ্জনক অবস্থা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। এটি তার জন্য ছিল একটি অ্যাডভেঞ্চার। মাঝেমধ্যে রোদেলা জগতে তার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে। তা যদিও সম্ভব নয়। একদা যা ছিল তা হওয়ার নয়। মানুষ ছোট্ট জলশিশুতে পরিণত হতে পারে কেবলমাত্র জীবনে একবার।

টম এখন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এক ছোট্ট জলশিশু। সে চলতেই থাকল। এক সময় সে কুয়াশার ভেতর একটি লাল বয়া দেখতে পেল। এরপর সে অবাক হয়ে দেখল, জলের স্রোত ভূমির ওপর দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে।

ওটি ছিল জোয়ার। কিন্তু টম তা বুঝতে পারে না। সে শুধু বুঝেছিল যে পানি অনেক বেশি লবণাক্ত হয়ে গেছে। তার ভেতর একটি বড় পরিবর্তন আসল। নিজেকে হালকা সজীব এবং সবল মনে হলো। সে সমুদ্রে ভাসমান বয়াটির দিকে এগিয়ে গেল।

সে একটি বড় কালো সিলের দেখা পেল। সিলটি বলল, ‘হে ছোট্ট শিশু, তুমি কি তোমার ভাইবোনদের খুঁজছ? আমি তাদের দেখা পেয়েছি, বাইরে খেলা করছে।’

টম জেনে খুব খুশি হলো। অবশেষে সে খেলার সাথী পাবে। এক নিঃশ্বাসে সে বয়াতে গিয়ে উঠে বসল। জলশিশুর খোঁজে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল। কিন্তু একটিও জলশিশু দেখল না।

টম দেখতে লাগল তো লাগলই এবং শুনতেও চেষ্টা করল। সে যদি জলশিশুর দেখা পেত তাহলে খুব খুশি হতো।

তার মনে হলো সারা রাস্তা আসতে তার খুব কষ্ট হয়েছে। কিন্তু এখনও জলশিশুর দেখা পেল না। মানুষ যা চায় তার জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম ও অপেক্ষা করা। এছাড়া তা কোনোদিনই পায় না। জলশিশুর বেলায়ও তাই।

টম ওই বয়ার ওপর দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ অধীর অপেক্ষা করেও অন্য কোনো জলশিশুর দেখা পায়নি। সে সমুদ্রের যত অদ্ভুত প্রাণী দেখল সবার কাছেই জানতে চাইল কেউ কোনো জলশিশু দেখেছে কিনা। সমুদ্রের শামুক বা সূর্যমাছ কেউই বলতে পারল না। সবাই তাকে শুধু উত্তর দিল, ‘হুস হুস হুস।’

এছাড়া তারা আর কিছুই শেখেনি।

একদিন সে একটি খেলার সাথী খুঁজে পেল। এটি একটি গলদা চিংড়ি। টম আগে কখনও এমন প্রাণী দেখেনি। টম চিংড়িটির চলাচল করার ভঙ্গি দেখে খুবই মজা পেল। ইচ্ছে হলে এটি পেছনের দিকেও যেতে পারে। চিংড়ি বলল যে সে জলশিশু দেখেছে, তবে তাদের সম্পর্কে তেমন করে ভাবেনি। ওই ছোট্ট প্রাণীগুলো মাছ এবং অন্যান্য শামুক জাতীয় প্রাণীকে সাহায্য করে বেড়ায়। তবে তার বেলায় সে সাহায্য নেয় না। ও রকম ছোট্ট প্রাণীর কাছ থেকে সাহায্য নিতে তার লজ্জা হয়। বিশেষ করে ওই প্রাণীদের পিঠে কোনো খোল পর্যন্ত নেই। সে নিজেকে রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করেছে। চিংড়িটি ছিল অহংকারী। ভদ্র তো নয়ই। কিন্তু সে খুব আমুদে। টম একদম একা হওয়ায় তার সঙ্গে পাথরের গর্তে কয়েক ঘণ্টা কাটাল এবং গল্প করল।

৯.

এখন টমের নতুন অভিযান শুরু হলো। ছোট্ট সাদা মেয়েটির কথা কি মনে আছে? এখন আবার তার গল্প হবে। তার বাবা স্যার জন শিকারের দিন এলে এত ব্যস্ত থাকতেন যে তার স্ত্রী ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

টম যেখানে চরে পাথরের ওপর চিংড়ির সঙ্গে বসেছিল সে চরে এই ঘটনা ঘটেছিল। ছোট্ট মেয়ে এলি এল এখানে। সঙ্গে প্রফেসর পিটিমল। খুব জ্ঞানী মহিলা প্রফেসর পিটিমল।

তিনি একজন বড়মাপের প্রকৃতিবিজ্ঞানী। জলের নিচের নিউ ইউনিভার্সিটির প্রকৃতিপ্রাণ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক। ক্যানিবাল দ্বীপের রাজা বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন। পরিবেশ সমিতির সদস্য হিসেবে তিনি ইংল্যান্ডের সমুদ্র উপক‚লে এসেছেন। যত অজানা-অচেনা জিনিসের সন্ধান পাওয়া যায় তা সংগ্রহ করতে শুরু করলেন। তিনি ওগুলোকে ক্যানিবাল দ্বীপে ছড়িয়ে দিতে চান। কারণ, ওই দ্বীপের মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার নেই।

তিনি বেশ বয়স্ক। স্বভাবেও বেশ নরম-শরম ও ভদ্র। তার শুধুমাত্র একটি ত্রুটি ছিল যা কক রবিন নামের পাখিদের আছে। কোনো বিচিত্র পোকামাকড় দেখে তিনি ওটার চারদিকে ঘুরে ঘুরে নাচেন, ধরেন, তার লেজ ঠিক করে দেন। আবার গায়ে হাত বুলিয়ে দেন এবং বলেন তিনি আগে পোকাটি দেখেছেন, তাই সেটি তার। যদি তার না হয় তাহলে তিনি বলেন ওটি কোনো পোকাই নয়।

প্রফেসর পিটিমলকে খুব পছন্দ হলো টমের। এলি এবং তিনি পাথরের ওপর হাঁটতে লাগলেন। তিনি এলিকে যতসব মজার মজার জিনিস দেখাতে লাগলেন। কিন্তু ওসব জিনিস দেখে ছোট্ট এলি মোটেই সন্তুষ্ট ছিল না। সে জীবিত বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে বেশি পছন্দ করে। পুতুল হলেও চলে, যেগুলো ছোট্ট শিশুর মতো চলাফেরা করতে পারে। অবশেষে সে বলেই ফেলল, ‘আমি এগুলোকে পছন্দ করি না। কারণ তারা খেলতে পারে না, কথা বলতে পারে না। পানিতে শিশু থাকলে কী মজাই না হতো। তার সঙ্গে খেলতাম, মজা করতাম।’

‘পানিতে শিশু?’

‘হ্যাঁ,’ এলি বলল, ‘আমি জানি পানিতে জলশিশু আছে। মৎস্যকন্যা এবং মৎস্যমানবও আছে। আমি ঘরে একটি ছবিতে তাদের দেখেছি। ডলফিন একটি গাড়ি চালাচ্ছে। তাতে বসা এক মহিলা। তার পাশে ঘরময় উড়ে বেড়াচ্ছে কয়েকটি শিশু। কোলেও ছিল একটি শিশু। ছবিটি দেয়ালে ঝুলানো আছে। আমি ছোটকাল থেকে ছবিটা দেখে আসছি। এটিকে স্বপ্নে দেখেছি শতবার। ছবিটি এত সুন্দর যে তা আসল না হয়ে পারে না।

কিন্তু পিটিমল এই মতের সঙ্গে কিছুতেই একমত হলেন না। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অদ্ভুত সব তথ্য দিয়ে থাকেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনের এক বৈঠকে একবার একটি তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন। তাতে একটি খবর ছিল। খবরটি হলো, ‘মানুষ ছাড়া কোনো যুক্তিপ্রবণ প্রাণী নেই। কোনো সময় ছিলও না। অর্থাৎ অপরূপ সুন্দরী দেবী, অর্ধমানব ও অর্ধপশুরূপী বনদেবতা, ছাগলের শিং ও পা-যুক্ত বনদেবতা, বামনজাতীয় প্রাণীর কোনো অস্তিত্ব নেই। এ থেকে বোঝা যায় যে পিটিমল জলশিশু সম্পর্কে কোনো কিছুই বিশ্বাস করেন না। আবার তারা তর্ক শুরু করল।

ছোট্ট এলি আসলেই একটি বোকা মেয়ে। কারণ সে পিটিমলের যুক্তিতে একমত হয়েও বারবার প্রশ্ন করে যেতে লাগল।

‘কিন্তু জলশিশু নেই কেন?’ এলি পিটিমলকে জিগ্যেস করল।

পিটিমল সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর দিলেন, ‘নেই, কারণ আগে কোনো দিন ছিল না!’

সঙ্গে সঙ্গে পিটিমল তার জালটি পানিতে ফেললেন। জালে আটকা পড়ল বেচারা টম। তিনি দেখলেন জালটি খুব ভারী। তাড়াতাড়ি তা উপরে তুলে আনলেন। ‘এলি, দেখো!’ তিনি চিৎকার করে উঠলেন, ‘কি সুন্দর গোলাপি সামুদ্রিক প্রাণী! হাতও আছে! এটি অবশ্যই সিনাপটা বর্গের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

তিনি টমকে জাল থেকে বের করে আনলেন।

‘এই প্রাণীটির সুন্দর চোখ আছে!’ তিনি আবার চিৎকার করে উঠলেন, ‘এটি কি কেফেলোপোড শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত প্রাণী? তবে অসাধারণ।’

‘না আমি তা না!’ টম চিৎকার করে বলল। আসলে টমের ওই নামটা পছন্দ হয়নি।

‘এটি একটি জলশিশু!’ এলি চিৎকার করে উঠল, তাহলে জলশিশু আছে! হ্যাঁ-হ্যাঁ, জলশিশু অবশ্যই আছে।

পিটিমল মুহূর্তেই উল্টে গেলেন। শিকার করলেন, এটি একটি জলজ বিচিত্র প্রাণী। অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, এটি একটি জলশিশু। অথচ মুহূর্তকাল আগেও তিনি অস্বীকার করেছেন। এখন করার আর কিই-বা আছে?

ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনে তার বক্তৃতার পর শিক্ষিত মানুষেরা তার সম্পর্কে কী ভাববে? পিটিমলের ওপর এলিরও অবিশ্বাস এসে গেল।

এখন যদি পিটিমল এলিকে বলেন, ‘হ্যাঁ, এটি একটি অদ্ভুত জিনিস! প্রকৃতির রহস্য সম্পর্কে আমি কত কম জানি, অথচ গত চল্লিশ বছরে নিরলস পরিশ্রম করেছি আমি।’

কিন্তু এলিকে বলেননি। যদি বলতেন তবে পিটিমলের কথা আরও বেশি বিশ্বাস করত এলি, আরও বেশি তাকে শ্রদ্ধা করত এবং আগের চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসত।

কিন্তু পিটিমল বলেন অন্যকথা। তিনি আমতা আমতা করছেন। টমকে ধরতে চান। এখনও তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না যে টমকে তিনি দেখেছেন। সবশেষে তিনি টমকে ছেড়ে দিতে চাইলেন। টমকে আঙুল দিয়ে টোকা দিলেন। এলিকে বললেন, ‘প্রিয় শিশু, তুমি নিশ্চয়ই গত রাতে জলশিশুর স্বপ্ন দেখেছ। তাই তোমার মাথা তাদের চিন্তায় পরিপূর্ণ।’

এখন টম মারাত্মকভাবে ভয় পেয়ে গেল। সে যতটুকু সম্ভব শান্ত থাকল, যদিও তাকে নিম্নশ্রেণির প্রাণী বলে ডেকেছে। তার জানা আছে যে যদি কোনো পোশাক পরা মানুষ তাকে ধরে, তাহলে তাকেও পোশাক পরিয়ে দেবে। তাকে একটি কালো ময়লা চিমনি পরিষ্কার করতে দেবে। পিটিমল তাকে টোকা মারলেন। টোকা খেয়ে টম ভীষণ রেগে গেল। সে পিটিমলের আঙুলে কামড় দিয়ে রক্ত বের করে দিল।

ক্ষিপ্ত হয়ে পিটিমল তাকে সামুদ্রিক আগাছার মধ্যে ফেলে দিলেন। টম পানিতে পড়ে হাওয়া হয়ে গেল।

‘আমি নিশ্চিত, এটি ছিল জলশিশু। আহ্! এটি চলে গেল।’ এলি চিৎকার করে উঠল।

সে পাথরের ওপরে লাফ দিল এবং টমকে ধরতে চেষ্টা করল। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। সে পড়ে গিয়ে একটি ধারালো পাথরে পড়ে আঘাত পেল এবং সেখানে পড়ে রইল।

পিটিমল তাকে তুলে নিলেন। তাকে জাগাতে চেয়ে ব্যর্থ হলেন। তাই তাকে নিয়ে বাড়ি গেলেন। ছোট্ট এলি বিছানায় শুয়ে রইল। দেখতে সাদা এবং স্থির। মাঝেমধ্যে সে জেগে উঠে জলশিশুকে খোঁজে। আবার ঘুমায়। এক সপ্তাহ পর এক পূর্ণিমার রাতে তার জন্য একজোড়া সুন্দর পাখা নিয়ে জানালা গলে পরীরা আসল। ছোট্ট এলি পাখাগুলো গায়ে লাগিয়ে উড়ে উড়ে মাঠ, সমুদ্র পেরিয়ে পরীদের সঙ্গে মেঘের ভেতর দিয়ে চলে গেল। অনেক অনেকদিন পর্যন্ত কেউ আর তাকে দেখেনি এবং তার কথাও শোনেনি।

১০.

কিন্তু ছোট্ট টমের কী হলো? সে নিরাপদে পানিতে পালিয়েছিল। এলি তার তুলনায় শত গুণ বড় হলে কী হবে, তাকে টম ঠিকই চিনতে পেরেছে। সে সারাদিন তার কথা চিন্তা করল। তার সঙ্গে খেলার খুব ইচ্ছে হলো তার। কিন্তু হঠাৎ কি যেন ঘটল। সে এলির কথা একেবারে ভুলে গেল।

এমন সময় সে একটি খাঁচা দেখতে পেল। খাঁচাটির সঙ্গে সঙ্গে টমও চলতে শুরু করল। খাঁচার ভেতর বসেছিল তার বন্ধু গলদা চিংড়ি।

‘আমি বের হতে পারছি না।’ চিংড়ি কাতর হয়ে টমকে বলল।

‘তুমি ভেতরে গেলে কীভাবে?’ টম জিগ্যেস করল।

‘উপরের গোলাকার ফোঁকড় গলে।’ চিংড়ি বলল।

‘তাহলে ওই ফোঁকড় দিয়ে বের হচ্ছো না কেন?’

‘এখন বের হতে পারছি না। আমি উপরে-নিচে, পিছনে-পাশে কমপক্ষে চার হাজার বার লাফ দিয়েছি। কিন্তু বের হতে পারিনি।’

টম চিংড়ির কৌটার দিকে তাকাল। সে চিংড়ির চেয়ে বুদ্ধিমান। তাই আসল ব্যাপারটা বুঝে ফেলল।

তুমি তোমার লেজ এদিকে ঘোরাও। আমি তোমাকে টেনে বের করব। চিংড়ি লেজ বের করল। টম তা শক্ত করে ধরল। অমনি চিংড়িটি টান মেরে টমকে ভেতরে নিয়ে গেল।

‘এখন আমরা দুজনেই গ্যাঁড়াকলে পড়েছি।’ টম বলল, ‘তোমার বড় থাবা দিয়ে খাঁচার খুঁটিগুলো ভাঙো। তাহলে আমরা দুজনেই খুব সহজে বের হতে পারব।’

‘তাই তো! আমি এই ব্যাপারটা মোটেই ভাবিনি।’ চিংড়ি বলল, ‘ব্যবহার না করলে অভিজ্ঞতা কোনো কাজেই লাগে না। (চলবে)

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj