শিক্ষার্থীরা তৈরি করছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)

নতুন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এর রসায়ন বিভাগ।

বিভাগের শিক্ষক ড. মো. আমিনুল হক বলেন, ‘আপাতত আমরা রসায়ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারিদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করেছি।’

প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য হ্যান্ড স্যনিটাইজার তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জবি উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির জন্য রসায়ন বিভাগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কৃষি রসায়ন বিভাগের উদ্যোগে তৈরি করা এসব হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এক হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে গত দুদিনে প্রায় ৫০০ বোতল তৈরি করা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সেকেন্দার আলী, প্রক্টর ড. মো. ফরহাদ হোসেন, কৃষকরতœ শেখ হাসিনার হল প্রভোস্ট ড. আয়েশা আক্তারসহ শিক্ষক এবং কর্মকর্তারা। কৃষি রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন বলেন, প্রাথমিকভাবে এক হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০০ মিলি লিটারের ৫০০ বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করা হয়েছে এবং এতে খরচ পড়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। আশা করছি এগুলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

আমাদের আর্থিক সংকট রয়েছে। বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ব্যাপকভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির দরকার হলে, আমরা তা করতে রাজি আছি। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্থিক সহায়তা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, কৃষি রসায়ন বিভাগের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এ কাজে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের এ সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে যে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় বারবার ভালো করে হাত ধোয়া। কিন্তু করোনা ভাইরাসের ভয় ছড়িয়ে পড়ার পর বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সঙ্কট দেখা দেয়। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদনকারীরাই সরবরাহ করতে পারছে না। তবে এই সংকটে বসে নেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তারা বুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারিদের চাহিদা মেটাতে তৈরি করছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার। তাদের নিজস্ব ফর্মুলায় তৈরি এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারিদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণও করছেন। মঙ্গলবার বুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেল, শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সংগ্রহ করছেন। কথা হয় বুয়েটের রসায়ন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শাখাওয়াৎ এইচ ফিরোজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস নিয়ে আমি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখতে পাই। তখন মনে হলো, কিছু একটা করা যায় কি না। তখন আমি আমার সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলি। তাৎক্ষণিকভাবে আমার সহকর্মীরা প্রধানত তরুণ সহকর্মীরা এগিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে আছেন আয়েশা শারমীন, শারমীন নিশাত, আবু বিন ইমরান, চঞ্চল কুমার রায়, ইলিয়াস হোসেন, আইয়ুব আলী, মাহবুব আলম প্রমুখ।’

অধ্যাপক বলেন, ‘আমরা বসে সেদিনই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের একটি ফরমুলেশন তৈরি করি। আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করে সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ফোরাম ৮৬। রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করি এবং বিতরণ শুরু করি।’

শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের জন্য বিনামূল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে, তাই তাদের ধন্যবাদ জানাই। মহামারি করোনা ভাইরাস আমাদের দেশে ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

:: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj