জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা কমেছে

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২০

কাগজ ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাস আকাশসেবা সংস্থাগুলোর ব্যবসায় টালমাটাল অবস্থা তৈরি করেছে। দেশে দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকায় সংকুচিত হয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা। বাতিল হয়েছে হাজারো ফ্লাইট। ব্যবসা কমার পাশাপাশি এর প্রভাব পড়েছে উড়োজাহাজের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের চাহিদায়।

নভেল করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে চলতি বছর শেষে জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা ১১ শতাংশ কমতে পারে। নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেস্টাড এনার্জির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে মহামারি ছড়িয়ে পড়ায় দেশে দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। প্রতিদিনই বাতিল হচ্ছে একের পর এক ফ্লাইট। নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমে আসতে পারে। এর অর্থ হলো, ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন পরিচালিত ফ্লাইটের সংখ্যা নেমে আসতে পারে ১ লাখ ৯০ হাজারে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী, পণ্যবাহী, ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত। নভেল করোনা ভাইরাসের মহামারির আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ২০২০ সালে বৈশ্বিক ফ্লাইটের সংখ্যা দৈনিক দুই লাখ প্রাক্কলন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাতিল হওয়া কিংবা সংকুচিত হয়ে আসায় স্বাভাবিকভাবেই জেট ফুয়েলের চাহিদায় লাগাম পড়বে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জেট ফুয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা ছিল দৈনিক ৭২ লাখ ব্যারেল। চলতি বছর জ্বালানি পণ্যটির সম্মিলিত বৈশ্বিক চাহিদা প্রতিদিন ৭ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল কমে দাঁড়াতে পারে ৬৪ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কম।

গত বছরের শেষভাগে চীনে নভেল করোনা ভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়। ওই সময় চীনের সঙ্গে বিভিন্ন আকাশসেবা সংস্থা উড়োজাহাজ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপরও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। এখন পর্যন্ত ১১০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের বাইরে নতুন কেন্দ্র হিসেবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইউরোপ। নভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj