করোনার কারণে ক্রয় আদেশ বাতিল করতে চায় কিছু দেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কিছু কিছু দেশ বাংলাদেশ থেকে তাদের ক্রয় আদেশ বাতিল করতে চাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, এসব ক্রয় আদেশ তারা অন্য কোনো দেশে পাঠিয়ে দিতে চাচ্ছে।

গতকাল রবিবার বিশ্বভোক্তা অধিকার দিবস-২০২০ উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও হটলাইন সেবা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর করোনা ভাইরাসের প্রভাবের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বড় সমস্যা হচ্ছে- কিছু কিছু দেশ তাদের ক্রয় আদেশ বাতিল করতে চাচ্ছে অথবা রেফার (অন্য কোথাও দিতে চাচ্ছে) করতে চাচ্ছে। আমার মনে হয়, সেটা নিয়ে আমাদের কিছু সমস্যা হবেই। সারা পৃথিবীতে যেমন ধাক্কা লেগেছে, আমাদের দেশেও তার প্রভাব পড়েছে।

তিনি জানান, ইতালি কিছু ক্রয় আদেশ বাতিল করতে চেয়েছে। বড় সমস্যা হচ্ছে, সঠিক সময়ে মাল না পাওয়ার কারণে আল্টিমেট ফাইনাল সেলার্স যারা, তারা ক্রয় আদেশ বাতিল করতে চাচ্ছে অথবা প্লেনে করে পাঠাতে বলছে।

অন্য দেশে পাঠানোর বিষয়ে টিপু মুনশি বলেন, সেখানেও সমস্যা রয়েছে। যে সময়ে মালটা বিক্রি হবে, তার থেকে যদি পিছিয়ে যায়। এছাড়া যেসব দেশ নেবে তাদেরও করোনার ভয় আছে। সার্বিক অবস্থা আপনারা সবাই জানেন, সারা পৃথিবী একটা অস্থির সময় পার করছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।

তিনি বলেন, গার্মেন্টসের ৬০ শতাংশ কাঁচামাল চায়না থেকে আনা হয়। সেখানে কিছু ¯েøা-ভাব দেখছি। তবে সুখের বিষয় হচ্ছে- চায়না আবার ফ্যাক্টরিতে ফিরে গেছে। তারা আবার কাজ শুরু করেছে।

দেশের বাইরে থেকে যারা আসছে তারাতো বিভিন্ন স্থানে লোকজনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, এখানে আপনারা কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে আসা কমে গেছে। আপনারা জানেন, গত কয়েক বছরে আমাদের দক্ষতা বাড়ানোর পর বিদেশ থেকে এমনিতেই লোকজন আসা কমে গেছে।

এখন আমরা ডিজিটাল অর্ডার নেই, দাম নির্ধারণ করে থাকি। আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগে যে পরিস্থিতি ছিল সেটা কিন্তু এখন আর নেই। আজকাল অর্ডারতো সশরীরে কেউ এসে দেখে না। এ জন্য অর্ডারে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে কাঁচামালে।

তিনি বলেন, আশার কথা হচ্ছে চায়নাতে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নতুন করে ইউরোপে গেছে। আমার ধারণা ইউরোপ উন্নত দেশ, তারা এ বিষয়টা তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে চীন বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি শুরু করেছে। আমাদের কিছু ক্ষতি হলেও সেগুলো পুষিয়ে উঠতে পারব।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষ, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য শেখ কবির হোসেনসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj