পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধের দাবি বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : ভয়াবহ দরপতনের মুখে পড়ায় দেশের পুঁজিবাজারে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ দাবি জানাতে বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদল রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রওনা দিয়েছেন।

৭ সদস্যের এ প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেয়া বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে ডিএসইর দায়িত্বশীলরা বলছেন, বিশ^ পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশের আইনে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। সুতরাং এ মুহূর্তে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখা যাবে না। তবে বিনিয়োগকারীদের পেনিক না হয়ে ধৈর্যধারণ করতে হবে। আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে শেয়ার ধরে রাখতে হবে।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পুঁজিবাজারে ভয়াবহ দরপতন চলছে। এই পতনের কবলে পড়ে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়েছেন, নিঃস্ব হচ্ছেন। আমাদের দাবি এ মুহূর্তে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ লেনদেন বন্ধ রাখতে হবে। পতনের কারণে ইতোমধ্যে বিশে^র বিভিন্ন পুঁজিবাজারে লেনদেন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানাতে আমরা ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডিএসইতে যাচ্ছি। সেখানে ডিএসইর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি জানাব। আপাতত কিছুদিন লেনদেন বন্ধ রাখলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশিদ এ বিষয়ে বলেন, আমাদের দাবি আপাতত পুঁজিরবাজারে লেনদেন বন্ধ রেখে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নিয়ে বৈঠক করতে হবে। সেই বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রত্যেকটি ব্রোকারেজ হাউসকে প্রতিদিন কমপক্ষে ২ কোটি টাকার লেনদেন (ক্রয় ও বিক্রয়) করতে হবে। সেই সঙ্গে বাইব্যাক আইন বাস্তাবয়ন করতে হবে। এটা করতে পারলে পুঁজিবাজার অবশ্যই ভালো হবে। এদিকে বিনিয়োগকারীদের এই দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, আমি সব সময় অফিসে থাকি না। আমাদের এমডি অফিসে থাকেন। বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিদল তাদের প্রস্তাব আমাদের এমডির কাছে তুলে ধরবেন। এমডি প্রয়োজন হলে তাদের এ প্রস্তাব পর্ষদে তুলে ধরবেন। তারপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমরা ব্যবস্থা নেব। তাছাড়া এমডি চাইলে নিজস্ব ক্ষমতা বলেও কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

তবে ডিএসইর এক পর্ষদ সদস্য জানান, ভারতের পুঁজিবাজারে একদিনে সূচক সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়লে অথবা কমলে সাময়িক লেনদেন বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। আর সূচক ২০ শতাংশ উঠলে অথবা পড়লে লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই।

তবে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। তাদের ধৈর্য ধরতে হবে। আতঙ্কে পেনিক সেল না দিয়ে শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সবাই বাজার ভালো করতে চেষ্টা করছে। সুতরাং আমি বিশ^াস করি এই বাজার ভালো হবে।

অর্থ-শিল্প-বাণিজ্য'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj